০৫:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধর্মপাশায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য কাজলের রহস্যজনক মৃত্যু, সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার কাকিয়াম গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মোহাম্মদ ফজলুর রহিম কাজলের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে এলাকার বাসির মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার বাদশাগঞ্জ বাজারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিহতের পরিবারের সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। তাঁরা ফজলুর রহিম কাজলের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন নিহতের মামা তোফাজ্জল হোসেন তালুকদার। সঞ্চালনা করেন মো. মুখলেছুর রহমান।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সেলবরষ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আবু তাহের সোনা মিয়া, সেলবরষ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফরিদ খোকা, ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও বাদশাগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি জুলফিকার আলী ভুট্টো, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজ সংস্কারক খায়রুল বশর ঠাকুর খান, নিহতের বড় ভাই শিক্ষক ফজলুল করিম বুলবুল, সেলবরষ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আহম্মদ আলী, সেলবরষ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. নাসির উদ্দিন,নওধার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জি এম ফজলুল হক।

নিহত মোহাম্মদ ফজলুর রহিম কাজল (৫৫) ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের কাকিয়াম গ্রামের মৃত জবান আলীর ছেলে। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর নওধার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর সকালে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের টাকা তুলতে ব্যাংকের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন ফজলুর রহিম কাজল। এরপর তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি। ওই দিন রাতে তাঁর ছেলে মারুফ হাসান রনক ধর্মপাশা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

নিখোঁজের দুই দিন পর, ৯ অক্টোবর শুক্রবার সকালে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার বিরামপুর গ্রামসংলগ্ন কংস নদের পাড়ের একটি জঙ্গলের একটি গাছ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

উদ্ধারের সময় তাঁর গলায় রশি প্যাঁচানো ও গাছের ডালে বসা অবস্থা ছিল বলে বক্তারা বলেন, নিহতের বড় ভাই ফজলুল করিম বুলবুল ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন। তাঁর দাবি, মরদেহটি গাছের ডালে বসানো অবস্থায় ছিল। তিনি এ ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন, সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যের এমন রহস্যজনক মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন করা জরুরি। তাঁরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্‌ঘাটন এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

তবে ফজলুর রহিম কাজলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এ ঘটনায় কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

জনপ্রিয় পোস্ট

জামালগঞ্জে কন্যা শিশু দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা

ধর্মপাশায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য কাজলের রহস্যজনক মৃত্যু, সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

আপডেট সময় : ০৯:০৬:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার কাকিয়াম গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মোহাম্মদ ফজলুর রহিম কাজলের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে এলাকার বাসির মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার বাদশাগঞ্জ বাজারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিহতের পরিবারের সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। তাঁরা ফজলুর রহিম কাজলের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন নিহতের মামা তোফাজ্জল হোসেন তালুকদার। সঞ্চালনা করেন মো. মুখলেছুর রহমান।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সেলবরষ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আবু তাহের সোনা মিয়া, সেলবরষ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফরিদ খোকা, ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও বাদশাগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি জুলফিকার আলী ভুট্টো, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজ সংস্কারক খায়রুল বশর ঠাকুর খান, নিহতের বড় ভাই শিক্ষক ফজলুল করিম বুলবুল, সেলবরষ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আহম্মদ আলী, সেলবরষ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. নাসির উদ্দিন,নওধার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জি এম ফজলুল হক।

নিহত মোহাম্মদ ফজলুর রহিম কাজল (৫৫) ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের কাকিয়াম গ্রামের মৃত জবান আলীর ছেলে। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর নওধার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর সকালে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের টাকা তুলতে ব্যাংকের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন ফজলুর রহিম কাজল। এরপর তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি। ওই দিন রাতে তাঁর ছেলে মারুফ হাসান রনক ধর্মপাশা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

নিখোঁজের দুই দিন পর, ৯ অক্টোবর শুক্রবার সকালে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার বিরামপুর গ্রামসংলগ্ন কংস নদের পাড়ের একটি জঙ্গলের একটি গাছ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

উদ্ধারের সময় তাঁর গলায় রশি প্যাঁচানো ও গাছের ডালে বসা অবস্থা ছিল বলে বক্তারা বলেন, নিহতের বড় ভাই ফজলুল করিম বুলবুল ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন। তাঁর দাবি, মরদেহটি গাছের ডালে বসানো অবস্থায় ছিল। তিনি এ ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন, সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যের এমন রহস্যজনক মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন করা জরুরি। তাঁরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্‌ঘাটন এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

তবে ফজলুর রহিম কাজলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এ ঘটনায় কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।