০৪:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানববন্ধনে দাবি সুনামগঞ্জের সব সরকারি দপ্তরের ওয়েব পোর্টালে শতভাগ তথ্য হালনাগাদের আহ্বান

সুনামগঞ্জের সব সরকারি দপ্তরের ওয়েব পোর্টালে শতভাগ তথ্য হালনাগাদ ও স্বপ্রণোদিতভাবে তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ও নাগরিক তথ্য অধিকার ফোরাম। একই সঙ্গে তথ্য অধিকার আইন কার্যকর বাস্তবায়ন, তথ্য কমিশন পুনর্গঠন এবং গুজব ও অপতথ্য মোকাবিলায় নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।‘ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য নিশ্চিতকরণ: অপতথ্য রোধে তথ্য অধিকারের ভূমিকা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গতকাল রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় সুনামগঞ্জের পুরাতন বাসস্টেশন এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এসব দাবি জানানো হয়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর অনুপ্রেরণায় গঠিত সনাক, সুনামগঞ্জ ও নাগরিক তথ্য অধিকার ফোরাম যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

মানববন্ধনে সনাক, সুনামগঞ্জের সভাপতি কানিজ সুলতানা, নাগরিক তথ্য অধিকার ফোরামের সভাপতি মো. মুজাহিদুল ইসলাম মজনু ও সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল হক মিলন বক্তব্য দেন।

বক্তারা বলেন, সম্প্রতি সনাক-টিআইবি সুনামগঞ্জের সরকারি দপ্তরগুলোর তথ্য অধিকার আইন-২০০৯, স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ এবং অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির বিষয়ে জরিপের তথ্য প্রকাশ করেছে। জরিপের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে ওয়েব পোর্টালে তথ্য শতভাগ হালনাগাদ করার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ফলোআপে প্রতিটি দপ্তরের ওয়েব পোর্টালে শতভাগ তথ্য হালনাগাদের চিত্র পাওয়া যাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

বক্তারা বলেন, অবাধ তথ্যপ্রবাহ একদিকে দুর্নীতি কমাতে সহায়ক, অন্যদিকে জনগণের সরকারি সেবা ও তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করে। নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী তথ্যের অবাধ প্রবাহ গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সামাজিক স্থিতিশীলতার অন্যতম ভিত্তি।

তারা আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহারের কারণে বর্তমানে গুজব, অপতথ্য ও ভুয়া তথ্য তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়া আগের চেয়ে সহজ হয়েছে। বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী ও সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠী এসব তথ্য ব্যবহার করে সামাজিক, ধর্মীয় ও জাতিগত বিভেদ সৃষ্টির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। এ পরিস্থিতিতে স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ ও জনগণের তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে অপতথ্য মোকাবিলা জরুরি।

মানববন্ধনে সনাক-টিআইবির সদস্য রাজু আহমেদ তথ্য অধিকার, প্রবেশগম্যতা ও জনঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—তথ্য কমিশন দ্রুত পুনর্গঠন, যোগ্য ও দলীয় প্রভাবমুক্ত ব্যক্তিদের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ, কমিশনের জনবল ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তথ্য অধিকার আইনকে যুগোপযোগী করা।

এ ছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর আয়-ব্যয়ের খাতভিত্তিক তথ্য জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা, নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে এসব তথ্য যথাসময়ে প্রকাশ, তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নের পথে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবন্ধকতা দূর করা, ডিজিটাল নজরদারির কাঠামো পর্যালোচনা এবং তথ্যপ্রাপ্তির জন্য প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

বক্তারা সরকারি দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে প্রশিক্ষণ, তথ্য প্রদানে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে তথ্য অধিকার আইন ব্যবহারে সচেতনতা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, ২০০৯ সালে তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন এবং তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠার পরও আইনটির কার্যকর বাস্তবায়নে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগের ঘাটতি, কমিশনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন এবং বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগের কারণে তথ্য অধিকার প্রতিষ্ঠার কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি বলেও তারা দাবি করেন।

মানববন্ধনে সনাকের সহসভাপতি সুখেন্দু সেন, সদস্য অধ্যাপক পরিমল কান্তি দে, রীনা রানী ঘোষ, মো. আশলাফুজ্জামান বাবলু, ইয়েস ও এসিজির সদস্যরা এবং নাগরিক তথ্য অধিকার ফোরামের সহসভাপতি ওবায়দুল মুন্সী, ফারুক আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইজাজুল হক চৌধুরী নাছিম, জিয়াউর রহমান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোশফিকুর রহমান স্বপনসহ সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

টেগ :
জনপ্রিয় পোস্ট

দিরাইয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে দোকান ভাংচুর-লুটপাট, ফাঁকা গুলি

মানববন্ধনে দাবি সুনামগঞ্জের সব সরকারি দপ্তরের ওয়েব পোর্টালে শতভাগ তথ্য হালনাগাদের আহ্বান

আপডেট সময় : ০৮:২৬:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুনামগঞ্জের সব সরকারি দপ্তরের ওয়েব পোর্টালে শতভাগ তথ্য হালনাগাদ ও স্বপ্রণোদিতভাবে তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ও নাগরিক তথ্য অধিকার ফোরাম। একই সঙ্গে তথ্য অধিকার আইন কার্যকর বাস্তবায়ন, তথ্য কমিশন পুনর্গঠন এবং গুজব ও অপতথ্য মোকাবিলায় নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।‘ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য নিশ্চিতকরণ: অপতথ্য রোধে তথ্য অধিকারের ভূমিকা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গতকাল রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় সুনামগঞ্জের পুরাতন বাসস্টেশন এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এসব দাবি জানানো হয়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর অনুপ্রেরণায় গঠিত সনাক, সুনামগঞ্জ ও নাগরিক তথ্য অধিকার ফোরাম যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

মানববন্ধনে সনাক, সুনামগঞ্জের সভাপতি কানিজ সুলতানা, নাগরিক তথ্য অধিকার ফোরামের সভাপতি মো. মুজাহিদুল ইসলাম মজনু ও সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল হক মিলন বক্তব্য দেন।

বক্তারা বলেন, সম্প্রতি সনাক-টিআইবি সুনামগঞ্জের সরকারি দপ্তরগুলোর তথ্য অধিকার আইন-২০০৯, স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ এবং অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির বিষয়ে জরিপের তথ্য প্রকাশ করেছে। জরিপের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে ওয়েব পোর্টালে তথ্য শতভাগ হালনাগাদ করার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ফলোআপে প্রতিটি দপ্তরের ওয়েব পোর্টালে শতভাগ তথ্য হালনাগাদের চিত্র পাওয়া যাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

বক্তারা বলেন, অবাধ তথ্যপ্রবাহ একদিকে দুর্নীতি কমাতে সহায়ক, অন্যদিকে জনগণের সরকারি সেবা ও তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করে। নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী তথ্যের অবাধ প্রবাহ গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সামাজিক স্থিতিশীলতার অন্যতম ভিত্তি।

তারা আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহারের কারণে বর্তমানে গুজব, অপতথ্য ও ভুয়া তথ্য তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়া আগের চেয়ে সহজ হয়েছে। বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী ও সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠী এসব তথ্য ব্যবহার করে সামাজিক, ধর্মীয় ও জাতিগত বিভেদ সৃষ্টির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। এ পরিস্থিতিতে স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ ও জনগণের তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে অপতথ্য মোকাবিলা জরুরি।

মানববন্ধনে সনাক-টিআইবির সদস্য রাজু আহমেদ তথ্য অধিকার, প্রবেশগম্যতা ও জনঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—তথ্য কমিশন দ্রুত পুনর্গঠন, যোগ্য ও দলীয় প্রভাবমুক্ত ব্যক্তিদের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ, কমিশনের জনবল ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তথ্য অধিকার আইনকে যুগোপযোগী করা।

এ ছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর আয়-ব্যয়ের খাতভিত্তিক তথ্য জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা, নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে এসব তথ্য যথাসময়ে প্রকাশ, তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নের পথে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবন্ধকতা দূর করা, ডিজিটাল নজরদারির কাঠামো পর্যালোচনা এবং তথ্যপ্রাপ্তির জন্য প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

বক্তারা সরকারি দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে প্রশিক্ষণ, তথ্য প্রদানে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে তথ্য অধিকার আইন ব্যবহারে সচেতনতা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, ২০০৯ সালে তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন এবং তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠার পরও আইনটির কার্যকর বাস্তবায়নে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগের ঘাটতি, কমিশনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন এবং বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগের কারণে তথ্য অধিকার প্রতিষ্ঠার কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি বলেও তারা দাবি করেন।

মানববন্ধনে সনাকের সহসভাপতি সুখেন্দু সেন, সদস্য অধ্যাপক পরিমল কান্তি দে, রীনা রানী ঘোষ, মো. আশলাফুজ্জামান বাবলু, ইয়েস ও এসিজির সদস্যরা এবং নাগরিক তথ্য অধিকার ফোরামের সহসভাপতি ওবায়দুল মুন্সী, ফারুক আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইজাজুল হক চৌধুরী নাছিম, জিয়াউর রহমান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোশফিকুর রহমান স্বপনসহ সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।