সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় রাস্তাঘাট, কালভার্ট, মসজিদ-মাদ্রাসা, মন্দিরসহ ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে প্রায় ১৪ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছে জেলা পরিষদ। এসব প্রকল্প পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের পাশাপাশি প্রথম পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩ কোটি ১৭ লাখ টাকার অনুদানের চেক হস্তান্তর করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের হলরুমে আয়োজিত চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান চৌধুরী। জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সমর কুমার পালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, মসজিদ ও মাদ্রাসার ইমাম-খতিব, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তি এবং সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় কাজ করে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে জেলা পরিষদের মাধ্যমে প্রায় ১৪ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এসব প্রকল্প পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, এসব প্রকল্পের আওতায় রাস্তাঘাট ও কালভার্ট নির্মাণ-উন্নয়ন, মসজিদ-মাদ্রাসা, স্কুল-কলেজ, মন্দির, বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং ঘাটের উন্নয়নকাজ করা হবে। জেলার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের প্রয়োজন বিবেচনায় এসব উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চেক হস্তান্তর কার্যক্রমের বিষয়ে তিনি বলেন, “প্রথম পর্যায়ে আজ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চেকের মাধ্যমে অনুদান হস্তান্তর করা হচ্ছে। যেসব উন্নয়নকাজে দরপত্র প্রয়োজন, সেগুলো নিয়ম অনুযায়ী দরপত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। আর মসজিদ, মাদ্রাসা ও স্কুলের উন্নয়নকাজ পিআইসির (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) মাধ্যমে বিধিবিধান মেনে পরিচালনা করা হবে।
সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে জেলা পরিষদের প্রশাসক বলেন, সরকারি অর্থের যেন কোনো অপচয় না হয় এবং বরাদ্দকৃত অর্থ যেন প্রকৃত অর্থেই জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহৃত হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। উন্নয়নকাজের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নিয়মনীতি অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও বলেন, জেলা পরিষদের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সহযোগিতা প্রয়োজন। বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষা, ধর্মীয় কার্যক্রম ও সামাজিক অবকাঠামোর উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে মিজানুর রহমান চৌধুরী দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণ কামনা করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
জেলা পরিষদের এ উদ্যোগের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক অবকাঠামোর উন্নয়নকাজ এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা। তবে গৃহীত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন, অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করাই হবে এ উদ্যোগের মূল সাফল্যের মাপকাঠি।
স্টাফ রিপোর্টার: 

















