শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের দেবগ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দিনমজুর বাবুল দেবের বসতবাড়ির পাঁচটি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুক্রবার দুপুরে আকস্মিক এ অগ্নিকাণ্ডে ঘরে থাকা পোশাক-পরিচ্ছদ, ফার্নিচার, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, দলিল, জাতীয় পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় মালামালসহ প্রায় সবকিছুই পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের দেওয়া তথ্য মতে, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটছে বাবুল দেব ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের। শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে দেবগ্রামের পরিবেশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে বাবুল দেবের বসতঘরে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেও পাঁচটি কক্ষ রক্ষা করতে পারেননি। পরে জরুরী সেবা নম্বর ৯৯৯ এ কল করো শান্তিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসকে খবরটি জানানো হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে বসতবাড়ির পাঁচটি কক্ষ, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পুড়ে মাটিতে মিশে যায়। শান্তিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস জানায়, আগুনে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
দেবগ্রামের পাশের গ্রাম নোয়াখালীর বাসিন্দা ও মাদক বিরোধী ঐক্য পরিষদ শান্তিগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ দুলাল বলেন, অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, পুড়ে যাওয়া ঘরগুলোর জায়গায় পড়ে আছে ছাই আর পোড়া টিন-খুঁটি। কোথাও পোড়া আসবাবপত্র, কোথাও ছাইয়ের স্তূপ। একসময়ের বসতঘর পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। পরিবারের সদস্যরা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অবশিষ্টাংশ খুঁজে ফিরছেন।

তিনি বলেন, দিনমজুর বাবুল দেবের জন্য এই ক্ষতি আরও বড় সংকট তৈরি করেছে। দিন এনে দিন খাওয়া এই মানুষটির সংসারে আগুনে পুড়ে গেছে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও। স্বজন ও প্রতিবেশীদের সামনে নিজের সর্বস্ব হারানোর কষ্টে তাঁকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখছি বার বার। সত্যি খুব খারাপ লাগছে। সকলের উচিৎ বাবুল দেবের পাশে দাঁড়ানো। উপজেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সামাজিক সংগঠনগুলো চাইলে বাবুল মিয়ার পাশে দাঁড়াবো। মাদক বিরোধী ঐক্য পরিষদ শান্তিগঞ্জ উপজেলা শাখা চেষ্টা করবে বাবুল দেবের পাশে দাঁড়ানোর।
আগুন লাগার পর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে। ভিডিওতে একজন লোক অভিযোগ করেন, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা দেরি হয়েছে। তাঁর দাবি, আগুন লাগার পরপরই ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও কমানো সম্ভব হতো।
তবে ভিডিওতে বলা ওই ব্যক্তির এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শান্তিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ ফজল মিয়া। তিনি বলেন, খবর পাওয়ার প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যেই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। মূলত স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেতেই কিছুটা দেরি হয়েছে।
ফজল মিয়া আরও জানান, আগুনে বসতবাড়ির পাঁচটি কক্ষ সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। তবে বাড়ির অন্য কক্ষগুলো অক্ষত রয়েছে। প্রাথমিকভাবে আগুনে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিল্লোল চাকমা বলেন, ঘটনার খবর পেয়েছি। অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ব্যথায় আমরা সমব্যথীত। আমাদের লোক পাঠিয়ে খোঁজ খবর নিয়েছি। আগামীকাল (আজ) কিছু শুকনো খাবার ও টিন দেওয়ার ব্যবস্থা করবো। তার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আমরা একটি প্রতিবেদন ইতোমধ্যে পাঠিয়ে দিয়েছি। আমাদের তরফ থেকে সব ধরণের সহযোগিতা আন্তরিকভাবে করা হবে।
শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি: আলাল হোসেন 















