০২:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাল্লায় ভুল তথ্যে সংবাদ প্রকাশে পুলিশের ক্ষোভ

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় ভুল তথ্য দিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করার অভিযোগ উঠেছে কথিত স্থানীয় একটি পত্রিকার প্রতিনিধির বিরুদ্ধে। গতকাল শনিবার (১ আগস্ট) সিলেটের স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকায় ভুল তথ্য দিয়ে এই সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।

পুলিশ সুত্রে জানা যায়, গত ৩১ জুলাই (শুক্রবার) রাতে পুলিশের সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী ধরতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল হবিবপুর ইউনিয়নের নারকিলা গ্রামে। ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি সন্দেহে আব্দুল মালেকের ছেলে তাজুল ইসলামকে আটক করে পুলিশ। পরে আটককৃত ব্যক্তির তথ্য যাচাই-বাছাই করে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীর তথ্যের মিল না থাকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রকৃতপক্ষে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী ছিলেন নারকিলা গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে মো: তাজেল (২৭)। পরে অভিযান পরিচালনা করে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীকে না পেয়ে পুলিশে থানায় চলে আসে।

এরপর দিন (১আগস্ট) পুলিশের দায়িত্বরত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী ছেড়ে দেওয়ার নানা অভিযোগ উঠে। যা স্থানীয় পর্যায়ে অনুসন্ধান করে এই অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি সঙ্গ কথা বলে জানা যায়, গত শুক্রবার (৩১জুলাই) রাতে কয়েকজন পুলিশ এসে নারকিলা গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে তাজুল ইসলামকে আটক করেন। আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ জানান, তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট আছে। পরে স্থানীয় মানুষজনের দাবীর প্রেক্ষিতে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীর তথ্য যাচাই বাছাই করে দেখেন আসামীর নাম মো: তাজেল, পিতা মো: আব্দুল খালেক। আর আটককৃত ব্যক্তির নাম তাজুল ইসলাম, পিতা: মো: আব্দুল মালেক। তাই ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী ও আসামীর পিতার নামের সাথে সন্দেহজনক আটককৃত ব্যক্তির নাম ও পিতার নাম মিল না থাকায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু এসময় কোনো লেনদেন করা হয়নি বলে তারা জানান।

গত ১ আগস্ট (শনিবার) সিলেটের স্থানীয় একটি পত্রিকায় কথিত প্রতিনিধি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য মিথ্যা তথ্যে, টাকার বিনিময়ে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী ছাড়লেন এমন কিছু লিখে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলে শাল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শওকত জামিল এ প্রতিবেদককে জানান।

তিনি আরো জানান, সংবাদের ভেতরে পুলিশের বিরুদ্ধে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা লেনদেনের তথ্য বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট কোনো পরিমান উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়াও দায়িত্বরত পুলিশ অফিসার গোলাম কিবরিয়াকে জামালগঞ্জ উপজেলা থেকে শাস্তিমূলক শাল্লায় বদলী করার যে তথ্য নিউজে উল্লেখ করা হয়েছে এটাও মিথ্যা। প্রকৃতপক্ষে সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) গোলাম কিবরিয়াকে জনস্বার্থে গত ১৩ জুলাই শাল্লায় বদলী করা হয়। সংবাদে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখিত সকল তথ্যই ভিত্তিহীন। মূলত উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এই সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।

জানতে চাইলে অভিযান পরিচালনাকারী দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও শাল্লা থানার সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) গোলাম কিবরিয়া বলেন, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীর তথ্যের সঙ্গে সন্দেহজনক আটক ব্যক্তির নাম ও পিতার নামের সুস্পষ্ট মিল না থাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আর আমাকে নিয়ে অনৈতিক লেনদেনের বিষয়ে সবুজ সিলেট নামক পত্রিকায় যে নিউজ প্রকাশিত হয়েছে এটা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত। মূলত ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের জন্য আমার বিরুদ্ধে এই সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।

জনপ্রিয় পোস্ট

শাল্লায় ভুল তথ্যে সংবাদ প্রকাশে পুলিশের ক্ষোভ

শাল্লায় ভুল তথ্যে সংবাদ প্রকাশে পুলিশের ক্ষোভ

আপডেট সময় : ১০:০৪:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় ভুল তথ্য দিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করার অভিযোগ উঠেছে কথিত স্থানীয় একটি পত্রিকার প্রতিনিধির বিরুদ্ধে। গতকাল শনিবার (১ আগস্ট) সিলেটের স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকায় ভুল তথ্য দিয়ে এই সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।

পুলিশ সুত্রে জানা যায়, গত ৩১ জুলাই (শুক্রবার) রাতে পুলিশের সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী ধরতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল হবিবপুর ইউনিয়নের নারকিলা গ্রামে। ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি সন্দেহে আব্দুল মালেকের ছেলে তাজুল ইসলামকে আটক করে পুলিশ। পরে আটককৃত ব্যক্তির তথ্য যাচাই-বাছাই করে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীর তথ্যের মিল না থাকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রকৃতপক্ষে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী ছিলেন নারকিলা গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে মো: তাজেল (২৭)। পরে অভিযান পরিচালনা করে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীকে না পেয়ে পুলিশে থানায় চলে আসে।

এরপর দিন (১আগস্ট) পুলিশের দায়িত্বরত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী ছেড়ে দেওয়ার নানা অভিযোগ উঠে। যা স্থানীয় পর্যায়ে অনুসন্ধান করে এই অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি সঙ্গ কথা বলে জানা যায়, গত শুক্রবার (৩১জুলাই) রাতে কয়েকজন পুলিশ এসে নারকিলা গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে তাজুল ইসলামকে আটক করেন। আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ জানান, তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট আছে। পরে স্থানীয় মানুষজনের দাবীর প্রেক্ষিতে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীর তথ্য যাচাই বাছাই করে দেখেন আসামীর নাম মো: তাজেল, পিতা মো: আব্দুল খালেক। আর আটককৃত ব্যক্তির নাম তাজুল ইসলাম, পিতা: মো: আব্দুল মালেক। তাই ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী ও আসামীর পিতার নামের সাথে সন্দেহজনক আটককৃত ব্যক্তির নাম ও পিতার নাম মিল না থাকায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু এসময় কোনো লেনদেন করা হয়নি বলে তারা জানান।

গত ১ আগস্ট (শনিবার) সিলেটের স্থানীয় একটি পত্রিকায় কথিত প্রতিনিধি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য মিথ্যা তথ্যে, টাকার বিনিময়ে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী ছাড়লেন এমন কিছু লিখে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলে শাল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শওকত জামিল এ প্রতিবেদককে জানান।

তিনি আরো জানান, সংবাদের ভেতরে পুলিশের বিরুদ্ধে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা লেনদেনের তথ্য বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট কোনো পরিমান উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়াও দায়িত্বরত পুলিশ অফিসার গোলাম কিবরিয়াকে জামালগঞ্জ উপজেলা থেকে শাস্তিমূলক শাল্লায় বদলী করার যে তথ্য নিউজে উল্লেখ করা হয়েছে এটাও মিথ্যা। প্রকৃতপক্ষে সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) গোলাম কিবরিয়াকে জনস্বার্থে গত ১৩ জুলাই শাল্লায় বদলী করা হয়। সংবাদে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখিত সকল তথ্যই ভিত্তিহীন। মূলত উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এই সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।

জানতে চাইলে অভিযান পরিচালনাকারী দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও শাল্লা থানার সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) গোলাম কিবরিয়া বলেন, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীর তথ্যের সঙ্গে সন্দেহজনক আটক ব্যক্তির নাম ও পিতার নামের সুস্পষ্ট মিল না থাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আর আমাকে নিয়ে অনৈতিক লেনদেনের বিষয়ে সবুজ সিলেট নামক পত্রিকায় যে নিউজ প্রকাশিত হয়েছে এটা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত। মূলত ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের জন্য আমার বিরুদ্ধে এই সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।