১১:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডাক সাহিত্য

  • ডাক সাহিত্য
  • আপডেট সময় : ০৯:২১:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 39

প্রপঞ্চ- শেরগুল আহমেদ

মায়ার বাঁধন ছিঁড়ে যে প্রাণ সত্যের খোঁজে ধায়, বাহিরের এই রঙ-তামাশা নিমেষে হারায়। রঙিন মঞ্চের এই যে আলো, এই যে কোলাহল, ণিকের এই হাসিকান্না, চোখের ণিক জল। মুসাফির মোরা এই ভুবনে, পথেরই এক কণা, দিন ফুরালেই ভাঙবে মেলা, থাকবে না এই চেনা। মিছে কেন এই অহংকার, মিছে এই ক্রন্দন? ভেতরের সেই পরম সুধায় জুড়াক আত্মমন।।

স্রষ্টার খেলা- মানিক উল্লাহ

দেখবে দেখ, স্রষ্টার খেলা গিরি পর্বতে ধ্বংস লিলা সৃষ্টির মধ্যে জীবন খেলা ব্যস্ত সবাই আপন মেলা। করুণ স্বরে বাজছে বাঁশি আসছে তেড়ে সর্বগ্রাসী। ধর্ম বর্ণ জাতি ভুলে ভাসছে সবাই একই জলে। ইতর-ভদ্র খেস্তি মাসি সবাই আজ পরবাসী। দম্ভ অহম মিছামিছি পড়ে আছে পাশাপাশি।

জুঁইয়ের ভালবাসা- জাহাঙ্গীর চৌধুরী

জুঁই এসেছে শরৎ নিয়ে কুহেলি তার ছাতা, সঙ্গে আছে চামেলি বোন এক জননে গাঁথা। ভূঁইয়ে যখন পাপড়ি মেলে হরয জাগে মনে, তারকারা চেয়ে চেয়ে হাসে গেণে। সবাস ছড়ায় নিশির বুকে সমীরণ হয় মাতাল, পাপড়ি খোলা রূপের আগুন করে উতালপাতাল। সকাল হলে মালা হয়ে ঝুলে প্রিয় গলায়, জুঁইয়ের গোপন ভালবাসা

চাষী- মোহাম্মদ শামীম মিয়া

এদেশ আমার এদেশ তোমার আমরা বাংলাদেশী, নানান ফসল কষ্ট করে ফলাই প্রিয় চাষী। যায় যে ছুটে তে খামারে ভোরের আঁধারে উঠে, সূর্য উঠার আগেই চাষী কাজ করে যে মাঠে। হাসি মুখে কষ্ট করে পায়না ফসলের দাম, তবে কি বৃথায় ঢাখী ঝরায় শরীর ভেজা ঘাম! চাষীর মুখে ফুটাতে হাসি দৃষ্টি চাই সবার, মুখের খাবারের জোগান দেন যিনি তোমার আমার। আসুন সবাই বাঁচাই ফসল যাঁচাই সকল চাষী, আগের মতো ফিরিয়ে আনি।

জঙ্গলে মঙ্গল- মহসিন আলম মুহিন

আপনের চেয়ে পর ভালো, পরের চেয়ে জঙ্গল, লোকালয় পঁচে গেছে, মনে হয়, জঙ্গলেই মঙ্গল।। জঙ্গলের সব পশু পাখি-তারা মানুষ চেনে, সমাজের যা চিত্র। কে আর কারে মানে।। দিনবদলের নামে এখন রাত বদলের পালা, দুঃখের রাত্রি পোহায়না। জ্বালা আর জ্বালা।। কেউ শোনে না কারো কথা নিজে নিজেই রাজ্য, পরোপকার মুখের বুলি আসলে দেয় সাজা।। যুদ্ধের দামামা ‘বাজে, তু’ছ কারণে রণতরী সাজে, কোথায় হারালো মানবতা। মরি যেন আজ লাজে।। জঙ্গলে বসে বসে ধ্যান-জ্ঞান, উপাসনা’ করো, ভুবনের যা বেহাল দশা। ঘর-সংসার ছাড়ো।। ধূর্ত শিয়াল লোক সমাজে করে হুক্কা হুয়া, মানুষ হয়তো বেছে নেবে জঙ্গলেরই মায়া।।

সবার সেরা- মুহাম্মদ ইমদাদ হোসেন

বিশ্বটাকে জয় করেছে ধারণ করে বুকে যারা মহান রবের কালাম তাদের তরে হৃদয় থেকে হাজার কোটি সালাম। হৃদয় কাড়া মধুর কন্ঠে বিশ্ব বিজয় করে যারা পাঠ করিয়া কুরান তাদের প্রতি ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা অফুরান। কুরানেরই আলো দিয়ে মাতৃভূমির নিশান খারা বিশ্ব মাবো ওড়ায় তারাই হলো সবার সেরা দেশ ছাড়িয়া ধরায়।

কবিতার অন্তর্লোক- আসাদুজ্জামান খান মুকুল

কবিতার সাধনায় উন্মোচিত হয় আমার অন্তর্লোক। অতল গভীর থেকে কত কথা জেগে ওঠে নির্জনে বসলে। শব্দেয়া তখন চুপিচুপি এসে বসে মনের দুয়ারে। ছন্দের অদৃশ্য দোলায় ধীরে ধীরে ভাষা পায়? ভাবনারা। দিনের আলো থেকে রাতের নীরবতা- সখই ছুঁয়ে যায় আমার মন। মনের মাধুরীতে এঁকে রাখি তাদের আপন রঙে। জীবনের পথে দেখা কত ছবি। কলমের নিব ভিজিয়ে দেয় দলিতের অশ্রু। উদ্ভাসিত হয় পরমেশ্বরের ভাবনা প্রার্থনার নিভৃত আবেশে। মানুষের ভালোবাসার পাশাপাশি গোঁড়ামিও ধরা পড়ে। কখনো হারানো কোনো গল্পের সন্ধান পাই কল্পনার ভুবনে। স্বপ্নের পান গেয়ে উঠি শিশুদের নির্মল চোখে। সেই সুরের ভেতর এসে মিশে যায় জীবনের কত রং। প্রতিবাদের অনুনাদ হয়ে ওঠে কখনো নীরবতাও। আর অনুচ্চারিত কথার গভীরে খুঁজে পাই জীবনের স্বাদ।

অন্তর্যামী- নাসিমা বেগম

একদিন এক অবসরে গিয়েছিলাম অনেক দূরে সেথায় ওগিয়ে দেখি গাছগুলো সারি সারি ভরা ফুলে ফুলে। আরো কতদূর গিয়ে দেখি আছে এক নদী তার বুকেও কালো জল চলছে নিরবধি। আকাশ বাতাস চন্দ্র সূযের একই রকম ধারা কেউ কারো প্রযগ্রেজনে দেয়না কাউকে নাড়া। তুমি আমার অন্তর্যামী ছিলে গো অন্তরে কোন কাজে কোন মোহে যাওনি তো দূরে। মানুষ বলে ঘুরলে নাকি মনের বদল হয় কদাচিৎ দেখি না আমি তোমার স্থান বদল হয়। এজন্যই তোমায় ভাবি সর্বত্র বিরাজমান স্হান পাত্র কাল বেঁধে হয়না বদল তোমার স্থান। রেখেছি তোমারে আমার অন্তর মহলে আমারে করিও ত্রাণ সবল ভুল ভুলে। দয়াময় প্রভু তুমি আপে নিরঞ্জন কি করে করিব তোমার গুনেরি কীর্তন? আলো বাতাস অন্ন পানির কিছু দেইনা দাম সবারেই করেছো দান সমানে সমান। রোদ হলে ও সবার জন্য বৃষ্টি হলেও তাই সমানে করোগো দান জাত ধর্ম বিভেদ নাই।

নীলাকাশের ক্যানভাস- জহিরুল হক বিদ্যুৎ

কাশবনেতে রোদের ঝিলিক শিউলিবারা ভোর, নীলাকাশের ক্যানভাসে আজ রূপে লাগে ঘোর। সাদা মেঘের উড়ছে ভেলা ছুটছে সুদূর পানে, হিমেল হাওয়ায় মনটা ছুটে অচিন দেশের টানে। শিউলি তলায় মুক্তোছড়ির শিশির ভেজা ঘাস, কাশফুলের ওই নাচন দেখে যায় বেড়ে উচচ্ছ্বাস। শালিক পাখি ডানা মেলে ওড়ছে সোনার রোদে, ধানের েেত ঢেউ যে খেলে মিটি হাওয়ার যোতে। নীল জলের ওই বুকে ভেসে রাজহাঁসেরা ধায়, শরৎ তোমার রূপের সুধায় মন পিয়াসি যায়। শরৎ মানেই বুকের ভেতর উদাস করা হাওয়া, কান্ত দপুর কিংবা সাঁঝে মেঘের ভেসে যাওয়া। স্নিগ্ধ জ্যোৎল্লার পালকি চড়ে নামে রাতের পরী, তারার তারাখ? আকাশটা ঠিক লাগছে স্বপ্নপুরী রূপালি চাদর গায় জড়িয়ে ঘুমেই বিভোর মাঠ, নদীর চরে জ্বলছে জোনাক, জ্যোৎস্নাভরা ঘাট।

জগাই মাদাই – মজনু মিয়া

জগাই আর মাদাই দু ভাই এরা জাতে কুচ উপজাতীয় লোক। খুব কষ্ট করে এরা জীবন যাপন করে। জংগলের জংলা আলু কচু মেচু তুলে খেয়ে এরা বাঁচে কোনো রকমে দু বেলা দুমুঠো খেয়ে। পাশা পাশি একটা ব্যাবসা করে, তাহলো মদের ব্যাবসা। বিভিন্ন পুজা বা অনুষ্ঠানে এরা মদ খায় বেচে নাচা নাচি করে ফুর্তি করে। কিন্ বাঁধ সাধলো কিছু মুসলমান এসে মদ খায় আবার কিনে নিয়ে যায়। ফিল্ম এদেরকে মদ এরা দিতে চায় না তবু জোর করে নেয় খায়। খেয়ে খেয়ে যত গালি গালাজ মারা মারি করে গিয়ে ঘরের বৌয়ের সাথেও।তাই এলাকার মেম্বার চেয়ারম্যান এসে মাঝে মধ্যে এদেরকে শাষিয়ে যায়। একদিন সিদ্ধান্ত নিলো মদ আর বানাবেনা বেচবে না। এদের যা একটু আধটু জমি জমা আছে তাই চাষ বাস করে চলবে। তাতেও তো সুখ নেই পোকা মাকড় অনেক খরচ পোশে না। ভাবলো পাশা পাশি শুকর পালবে। অনেক দিন চলে গেলো, অনেক গুলো শুকর পালে তারা মাঝে মধ্যে একটা করে মেরে খায়। সেই শুকরে গোস্ত ভাগাভাগিতে কম বেশি করে জগাই নিবে নাকি মাদাই নিবে তা নিয়ে বাড়ীর পাশের লোকের সাথে তুমুল ঝগড়া হলো। রংগু নামের একজনকে বারি দিয়ে মাথা ফাটিয়ে দিলো মাদাই। এ নিয়ে থানায় মামলা হলো, ক্যাচে জগাই মাদাই দু ভাই যায়। কিছু দিন পর পর যেতে হয় টাকা লাগে, কামাই নাই অনেক গুলো পোলাপান খাওয়ান। দেওয়ান কাপড় চোপর এমনিতে দিতে পারে না তার পর আবার ক্যাচ বা মামলা। অনেক টাকা লাগে মামলায়, এক পর্যায়ে মামলা তারিখ পড়লো, জগাই দেয় মাদাইয়ের সী বিচারক অপোয় আছে জগাই কি বলে। ওকিল নানান কথা বলে এ বলে ও বলে অনেক সময় চলে যায় মাদাইয়ের এক চিন্তা বাড়ীতে খাবার নেই পোলাপান বৌ মা বাবা কি খাবে মাথা একদম হট। মাদাইকে কিছু জিগাইতেই রাগে গরম হয়ে বলল হহ সাব আমি বারি মারছি। আমাকে জেলে দিবেন না ফাঁসে দিবেন দিয়ে দেন আমার বৌ পোলাপান বাবা মা না খেয়ে আছে আমাকে জলদি বাড়ি যাইতে,, বিচারক অবাক হয়ে তার মুখে চেয়ে রইলো তিনি কি রায় দিয়েন, এখন।

জনপ্রিয় পোস্ট

জগন্নাথপুর- শান্তিগঞ্জে উন্নয়নের ছোয়া লেগেছে এমপি কয়ছর আহমেদ

ডাক সাহিত্য

আপডেট সময় : ০৯:২১:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রপঞ্চ- শেরগুল আহমেদ

মায়ার বাঁধন ছিঁড়ে যে প্রাণ সত্যের খোঁজে ধায়, বাহিরের এই রঙ-তামাশা নিমেষে হারায়। রঙিন মঞ্চের এই যে আলো, এই যে কোলাহল, ণিকের এই হাসিকান্না, চোখের ণিক জল। মুসাফির মোরা এই ভুবনে, পথেরই এক কণা, দিন ফুরালেই ভাঙবে মেলা, থাকবে না এই চেনা। মিছে কেন এই অহংকার, মিছে এই ক্রন্দন? ভেতরের সেই পরম সুধায় জুড়াক আত্মমন।।

স্রষ্টার খেলা- মানিক উল্লাহ

দেখবে দেখ, স্রষ্টার খেলা গিরি পর্বতে ধ্বংস লিলা সৃষ্টির মধ্যে জীবন খেলা ব্যস্ত সবাই আপন মেলা। করুণ স্বরে বাজছে বাঁশি আসছে তেড়ে সর্বগ্রাসী। ধর্ম বর্ণ জাতি ভুলে ভাসছে সবাই একই জলে। ইতর-ভদ্র খেস্তি মাসি সবাই আজ পরবাসী। দম্ভ অহম মিছামিছি পড়ে আছে পাশাপাশি।

জুঁইয়ের ভালবাসা- জাহাঙ্গীর চৌধুরী

জুঁই এসেছে শরৎ নিয়ে কুহেলি তার ছাতা, সঙ্গে আছে চামেলি বোন এক জননে গাঁথা। ভূঁইয়ে যখন পাপড়ি মেলে হরয জাগে মনে, তারকারা চেয়ে চেয়ে হাসে গেণে। সবাস ছড়ায় নিশির বুকে সমীরণ হয় মাতাল, পাপড়ি খোলা রূপের আগুন করে উতালপাতাল। সকাল হলে মালা হয়ে ঝুলে প্রিয় গলায়, জুঁইয়ের গোপন ভালবাসা

চাষী- মোহাম্মদ শামীম মিয়া

এদেশ আমার এদেশ তোমার আমরা বাংলাদেশী, নানান ফসল কষ্ট করে ফলাই প্রিয় চাষী। যায় যে ছুটে তে খামারে ভোরের আঁধারে উঠে, সূর্য উঠার আগেই চাষী কাজ করে যে মাঠে। হাসি মুখে কষ্ট করে পায়না ফসলের দাম, তবে কি বৃথায় ঢাখী ঝরায় শরীর ভেজা ঘাম! চাষীর মুখে ফুটাতে হাসি দৃষ্টি চাই সবার, মুখের খাবারের জোগান দেন যিনি তোমার আমার। আসুন সবাই বাঁচাই ফসল যাঁচাই সকল চাষী, আগের মতো ফিরিয়ে আনি।

জঙ্গলে মঙ্গল- মহসিন আলম মুহিন

আপনের চেয়ে পর ভালো, পরের চেয়ে জঙ্গল, লোকালয় পঁচে গেছে, মনে হয়, জঙ্গলেই মঙ্গল।। জঙ্গলের সব পশু পাখি-তারা মানুষ চেনে, সমাজের যা চিত্র। কে আর কারে মানে।। দিনবদলের নামে এখন রাত বদলের পালা, দুঃখের রাত্রি পোহায়না। জ্বালা আর জ্বালা।। কেউ শোনে না কারো কথা নিজে নিজেই রাজ্য, পরোপকার মুখের বুলি আসলে দেয় সাজা।। যুদ্ধের দামামা ‘বাজে, তু’ছ কারণে রণতরী সাজে, কোথায় হারালো মানবতা। মরি যেন আজ লাজে।। জঙ্গলে বসে বসে ধ্যান-জ্ঞান, উপাসনা’ করো, ভুবনের যা বেহাল দশা। ঘর-সংসার ছাড়ো।। ধূর্ত শিয়াল লোক সমাজে করে হুক্কা হুয়া, মানুষ হয়তো বেছে নেবে জঙ্গলেরই মায়া।।

সবার সেরা- মুহাম্মদ ইমদাদ হোসেন

বিশ্বটাকে জয় করেছে ধারণ করে বুকে যারা মহান রবের কালাম তাদের তরে হৃদয় থেকে হাজার কোটি সালাম। হৃদয় কাড়া মধুর কন্ঠে বিশ্ব বিজয় করে যারা পাঠ করিয়া কুরান তাদের প্রতি ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা অফুরান। কুরানেরই আলো দিয়ে মাতৃভূমির নিশান খারা বিশ্ব মাবো ওড়ায় তারাই হলো সবার সেরা দেশ ছাড়িয়া ধরায়।

কবিতার অন্তর্লোক- আসাদুজ্জামান খান মুকুল

কবিতার সাধনায় উন্মোচিত হয় আমার অন্তর্লোক। অতল গভীর থেকে কত কথা জেগে ওঠে নির্জনে বসলে। শব্দেয়া তখন চুপিচুপি এসে বসে মনের দুয়ারে। ছন্দের অদৃশ্য দোলায় ধীরে ধীরে ভাষা পায়? ভাবনারা। দিনের আলো থেকে রাতের নীরবতা- সখই ছুঁয়ে যায় আমার মন। মনের মাধুরীতে এঁকে রাখি তাদের আপন রঙে। জীবনের পথে দেখা কত ছবি। কলমের নিব ভিজিয়ে দেয় দলিতের অশ্রু। উদ্ভাসিত হয় পরমেশ্বরের ভাবনা প্রার্থনার নিভৃত আবেশে। মানুষের ভালোবাসার পাশাপাশি গোঁড়ামিও ধরা পড়ে। কখনো হারানো কোনো গল্পের সন্ধান পাই কল্পনার ভুবনে। স্বপ্নের পান গেয়ে উঠি শিশুদের নির্মল চোখে। সেই সুরের ভেতর এসে মিশে যায় জীবনের কত রং। প্রতিবাদের অনুনাদ হয়ে ওঠে কখনো নীরবতাও। আর অনুচ্চারিত কথার গভীরে খুঁজে পাই জীবনের স্বাদ।

অন্তর্যামী- নাসিমা বেগম

একদিন এক অবসরে গিয়েছিলাম অনেক দূরে সেথায় ওগিয়ে দেখি গাছগুলো সারি সারি ভরা ফুলে ফুলে। আরো কতদূর গিয়ে দেখি আছে এক নদী তার বুকেও কালো জল চলছে নিরবধি। আকাশ বাতাস চন্দ্র সূযের একই রকম ধারা কেউ কারো প্রযগ্রেজনে দেয়না কাউকে নাড়া। তুমি আমার অন্তর্যামী ছিলে গো অন্তরে কোন কাজে কোন মোহে যাওনি তো দূরে। মানুষ বলে ঘুরলে নাকি মনের বদল হয় কদাচিৎ দেখি না আমি তোমার স্থান বদল হয়। এজন্যই তোমায় ভাবি সর্বত্র বিরাজমান স্হান পাত্র কাল বেঁধে হয়না বদল তোমার স্থান। রেখেছি তোমারে আমার অন্তর মহলে আমারে করিও ত্রাণ সবল ভুল ভুলে। দয়াময় প্রভু তুমি আপে নিরঞ্জন কি করে করিব তোমার গুনেরি কীর্তন? আলো বাতাস অন্ন পানির কিছু দেইনা দাম সবারেই করেছো দান সমানে সমান। রোদ হলে ও সবার জন্য বৃষ্টি হলেও তাই সমানে করোগো দান জাত ধর্ম বিভেদ নাই।

নীলাকাশের ক্যানভাস- জহিরুল হক বিদ্যুৎ

কাশবনেতে রোদের ঝিলিক শিউলিবারা ভোর, নীলাকাশের ক্যানভাসে আজ রূপে লাগে ঘোর। সাদা মেঘের উড়ছে ভেলা ছুটছে সুদূর পানে, হিমেল হাওয়ায় মনটা ছুটে অচিন দেশের টানে। শিউলি তলায় মুক্তোছড়ির শিশির ভেজা ঘাস, কাশফুলের ওই নাচন দেখে যায় বেড়ে উচচ্ছ্বাস। শালিক পাখি ডানা মেলে ওড়ছে সোনার রোদে, ধানের েেত ঢেউ যে খেলে মিটি হাওয়ার যোতে। নীল জলের ওই বুকে ভেসে রাজহাঁসেরা ধায়, শরৎ তোমার রূপের সুধায় মন পিয়াসি যায়। শরৎ মানেই বুকের ভেতর উদাস করা হাওয়া, কান্ত দপুর কিংবা সাঁঝে মেঘের ভেসে যাওয়া। স্নিগ্ধ জ্যোৎল্লার পালকি চড়ে নামে রাতের পরী, তারার তারাখ? আকাশটা ঠিক লাগছে স্বপ্নপুরী রূপালি চাদর গায় জড়িয়ে ঘুমেই বিভোর মাঠ, নদীর চরে জ্বলছে জোনাক, জ্যোৎস্নাভরা ঘাট।

জগাই মাদাই – মজনু মিয়া

জগাই আর মাদাই দু ভাই এরা জাতে কুচ উপজাতীয় লোক। খুব কষ্ট করে এরা জীবন যাপন করে। জংগলের জংলা আলু কচু মেচু তুলে খেয়ে এরা বাঁচে কোনো রকমে দু বেলা দুমুঠো খেয়ে। পাশা পাশি একটা ব্যাবসা করে, তাহলো মদের ব্যাবসা। বিভিন্ন পুজা বা অনুষ্ঠানে এরা মদ খায় বেচে নাচা নাচি করে ফুর্তি করে। কিন্ বাঁধ সাধলো কিছু মুসলমান এসে মদ খায় আবার কিনে নিয়ে যায়। ফিল্ম এদেরকে মদ এরা দিতে চায় না তবু জোর করে নেয় খায়। খেয়ে খেয়ে যত গালি গালাজ মারা মারি করে গিয়ে ঘরের বৌয়ের সাথেও।তাই এলাকার মেম্বার চেয়ারম্যান এসে মাঝে মধ্যে এদেরকে শাষিয়ে যায়। একদিন সিদ্ধান্ত নিলো মদ আর বানাবেনা বেচবে না। এদের যা একটু আধটু জমি জমা আছে তাই চাষ বাস করে চলবে। তাতেও তো সুখ নেই পোকা মাকড় অনেক খরচ পোশে না। ভাবলো পাশা পাশি শুকর পালবে। অনেক দিন চলে গেলো, অনেক গুলো শুকর পালে তারা মাঝে মধ্যে একটা করে মেরে খায়। সেই শুকরে গোস্ত ভাগাভাগিতে কম বেশি করে জগাই নিবে নাকি মাদাই নিবে তা নিয়ে বাড়ীর পাশের লোকের সাথে তুমুল ঝগড়া হলো। রংগু নামের একজনকে বারি দিয়ে মাথা ফাটিয়ে দিলো মাদাই। এ নিয়ে থানায় মামলা হলো, ক্যাচে জগাই মাদাই দু ভাই যায়। কিছু দিন পর পর যেতে হয় টাকা লাগে, কামাই নাই অনেক গুলো পোলাপান খাওয়ান। দেওয়ান কাপড় চোপর এমনিতে দিতে পারে না তার পর আবার ক্যাচ বা মামলা। অনেক টাকা লাগে মামলায়, এক পর্যায়ে মামলা তারিখ পড়লো, জগাই দেয় মাদাইয়ের সী বিচারক অপোয় আছে জগাই কি বলে। ওকিল নানান কথা বলে এ বলে ও বলে অনেক সময় চলে যায় মাদাইয়ের এক চিন্তা বাড়ীতে খাবার নেই পোলাপান বৌ মা বাবা কি খাবে মাথা একদম হট। মাদাইকে কিছু জিগাইতেই রাগে গরম হয়ে বলল হহ সাব আমি বারি মারছি। আমাকে জেলে দিবেন না ফাঁসে দিবেন দিয়ে দেন আমার বৌ পোলাপান বাবা মা না খেয়ে আছে আমাকে জলদি বাড়ি যাইতে,, বিচারক অবাক হয়ে তার মুখে চেয়ে রইলো তিনি কি রায় দিয়েন, এখন।