সুনামগঞ্জের শাল্লায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিদায় সংবর্ধনা ও নবীন বরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি শাল্লা কর্তৃক আয়োজিত উপজেলা পরিষদ প্রঙ্গনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এতে ২০১৮ সাল থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত অবসরে যাওয়া ৭৮ জন শিক্ষকদের বিদায়ী সংবর্ধনা ও ২০১৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত নিয়োগপ্রাপ্ত ১০৮ জন নবীন শিক্ষকদের বরণ করে নেওয়া হয়। এর মধ্যে আটজন শিক্ষককে মরণোত্তর সম্মাননাও প্রদান করা হয়েছে
শাল্লা উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও বাহাড়া সপ্রাবি প্রধান শিক্ষক অরবিন্দু তালুকদার ও সরকারি শিক্ষক সিমিতির সভাপতি ও লক্ষীপাশা সপ্রাবি প্রধান শিক্ষক মনোজ কান্তি সরকার খোকন এর যৌথ সভাপতিত্বে এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক ও জাতগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনাদি তালুকদার ও শান্তিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পল্লবী চৌধুরীর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, শাল্লা উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সাবেক উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি গণেন্দ্র চন্দ্র সরকার, ১ম যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আউয়াল, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল করিম (মাস্টার), শাল্লা সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক (অব) তরুন কান্তি দাশ, গোবিন্দ চন্দ্র সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিপাল দাস মিল্টন, শাহীদ আলী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফ মোহাম্মদ দুলাল, সমাজ সেবক আজমান গণি তালুকদার, বিদায়ী শিক্ষক গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লাভলী রানী দাস, মুক্তারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বদেশ তালুকদার, কান্দিগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েরে প্রধান শিক্ষক কানন বালা সরকার। চবিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মোজাম্মেল হক সোহাগ, দক্ষিণ মামুদনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক লিংকন রায় প্রমূখ।
এসময় বক্তারা বলেন, শিক্ষকরা হলেন জাতির মেরুদন্ড এবং প্রাথমিক বিদ্যালয় হচ্ছে শিক্ষার মূল ভিত্তি। মাতা-পিতা সন্তান জন্ম দেন কিন্তু শিক্ষক শিক্ষা দান করে শিক্ষার্থীদের অন্ধকার থেকে আলোর জগতে জ্ঞান আহরণে মূখ্য ভূমিকা পালন করেন। একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করে তাদের যোগ্য নাগরিক এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যত কর্ণধার হিসেবে গড়ে তোলেন। পাশাপাশি শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের ন্যয় আদর্শ মানুষ হিসেবে তৈরি করারও অনুরোধ জানান। বিদায়ী শিক্ষকরা অশ্রুসিক্ত নয়নে তাদের কর্ম জীবনের স্মৃতিচারণ করেন এবং নবীন শিক্ষকরা সততা ও নিষ্ঠার সহিত দায়িত্ব ও বর্তব্য পালনে সুদৃঢ় থাকবেন।
অনুষ্ঠানে আনন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) শিল্পী রানী সরকার মানপত্র পাঠ করে।
অনুষ্ঠান শুরুর পূর্বে একটি বিশাল র্যালী করা হয় এবং অনুষ্ঠান সুচনালগ্নে জাতীয় সংগীত পরিবেশন, প্রয়াত শিক্ষকদের সম্মানে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। পরে নবীন শিক্ষকদের ফুল দিয়ে বরণ এবং বিদায়ী শিক্ষকদের হাতে মানপত্র ও সম্মাননা ক্রেষ্ট তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠান সমাপ্তির পূর্বে বিভিন্ন শিক্ষকরা দল বেঁধে বাঙালি সংস্কৃতি অন্যতম ধামাইল গান পরিবেশন করা হয়।
শাল্লা প্রতিনিধি: সন্দীপন তালুকদার সুজন 















