০৪:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই যোদ্ধা গাজী সালাউদ্দীনের মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের বাসিন্দা গাজী সালাউদ্দীন আর নেই। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুরুতর আহত এই যোদ্ধা গলায় বিঁধে থাকা স্প্লিন্টারের কারণে অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন।

রোববার রাত ১০টার দিকে নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। সোমবার সকাল ১০টায় সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল বাজার এলাকায় জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

তার মৃত্যুর খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান শহীদ মীর মুগ্ধের ভাই মীর স্নিগ্ধ। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি লেখেন, ‘জুলাই শহীদের তালিকায় যুক্ত হলো আরেকটি নাম। এই তালিকা কবে থামবে—কেউ জানে না। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।’

তিনি আরও জানান, “গাজী সালাউদ্দীন ভাই নারায়ণগঞ্জের আহত যোদ্ধা ছিলেন। গুলিতে একটি চোখ হারিয়েছিলেন, শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছিল একাধিক স্প্লিন্টার। গলায় আটকে থাকা একটি স্প্লিন্টার অপসারণ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। সেই থেকেই সৃষ্ট শ্বাসকষ্টে তিনি শেষ পর্যন্ত আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন।”

গাজী সালাউদ্দীনের পরিবার জানায়, জুলাই আন্দোলনের সময় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলির স্প্লিন্টার বিঁধে ছিল, যার একটি ছিল গলায়। চিকিৎসকদের মতে, ওই স্প্লিন্টার থেকেই সৃষ্ট জটিলতার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

তার ছেলে রাতুল বলেন, “আমার বাবা সৎ, সাহসী ও নিষ্ঠাবান মানুষ ছিলেন। দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন। সবাই বাবার জন্য দোয়া করবেন।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গাজী সালাউদ্দীন ছিলেন সম্মুখ সারির যোদ্ধা। আন্দোলনে স্প্লিন্টারের আঘাতে তার ডান চোখ পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যায় এবং বাম চোখের দৃষ্টিশক্তিও আংশিক হারান। দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে পড়াশোনা ও কাজ দুটোই বন্ধ হয়ে যায়। পরে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় তাকে একটি মুদি দোকান দেওয়া হয় জীবিকা নির্বাহের জন্য।

এনসিপির শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, “গাজী সালাউদ্দীন ছিলেন সত্যিকারের যোদ্ধা। অল্প কিছুদিন আগেই পুনর্বাসন কর্মসূচির মাধ্যমে তার জীবনে নতুন আলো ফিরেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুরনো আঘাতই তার জীবনের ইতি টেনে দিল।”

তিনি আরও জানান, “বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগ সমর্থিতদের হুমকির মুখেও তিনি সাহস হারাননি। ছিলেন নীতিবান ও দৃঢ়চেতা মানুষ।”

জনপ্রিয় পোস্ট

জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক রবিন আটক

জুলাই যোদ্ধা গাজী সালাউদ্দীনের মৃত্যু

আপডেট সময় : ০২:১৭:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের বাসিন্দা গাজী সালাউদ্দীন আর নেই। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুরুতর আহত এই যোদ্ধা গলায় বিঁধে থাকা স্প্লিন্টারের কারণে অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন।

রোববার রাত ১০টার দিকে নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। সোমবার সকাল ১০টায় সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল বাজার এলাকায় জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

তার মৃত্যুর খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান শহীদ মীর মুগ্ধের ভাই মীর স্নিগ্ধ। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি লেখেন, ‘জুলাই শহীদের তালিকায় যুক্ত হলো আরেকটি নাম। এই তালিকা কবে থামবে—কেউ জানে না। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।’

তিনি আরও জানান, “গাজী সালাউদ্দীন ভাই নারায়ণগঞ্জের আহত যোদ্ধা ছিলেন। গুলিতে একটি চোখ হারিয়েছিলেন, শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছিল একাধিক স্প্লিন্টার। গলায় আটকে থাকা একটি স্প্লিন্টার অপসারণ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। সেই থেকেই সৃষ্ট শ্বাসকষ্টে তিনি শেষ পর্যন্ত আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন।”

গাজী সালাউদ্দীনের পরিবার জানায়, জুলাই আন্দোলনের সময় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলির স্প্লিন্টার বিঁধে ছিল, যার একটি ছিল গলায়। চিকিৎসকদের মতে, ওই স্প্লিন্টার থেকেই সৃষ্ট জটিলতার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

তার ছেলে রাতুল বলেন, “আমার বাবা সৎ, সাহসী ও নিষ্ঠাবান মানুষ ছিলেন। দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন। সবাই বাবার জন্য দোয়া করবেন।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গাজী সালাউদ্দীন ছিলেন সম্মুখ সারির যোদ্ধা। আন্দোলনে স্প্লিন্টারের আঘাতে তার ডান চোখ পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যায় এবং বাম চোখের দৃষ্টিশক্তিও আংশিক হারান। দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে পড়াশোনা ও কাজ দুটোই বন্ধ হয়ে যায়। পরে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় তাকে একটি মুদি দোকান দেওয়া হয় জীবিকা নির্বাহের জন্য।

এনসিপির শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, “গাজী সালাউদ্দীন ছিলেন সত্যিকারের যোদ্ধা। অল্প কিছুদিন আগেই পুনর্বাসন কর্মসূচির মাধ্যমে তার জীবনে নতুন আলো ফিরেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুরনো আঘাতই তার জীবনের ইতি টেনে দিল।”

তিনি আরও জানান, “বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগ সমর্থিতদের হুমকির মুখেও তিনি সাহস হারাননি। ছিলেন নীতিবান ও দৃঢ়চেতা মানুষ।”