০৫:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাত্রলীগ নেতা প্রিন্সের পরিবারের সদস্য ও বন্ধুসহ ৮ জন কারাগারে

সুনামগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সকে গ্রেপ্তারের পর এবার তাঁর পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের ওপর হামলা, কাজে বাধা, মব সৃষ্টি ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করা হলে অপ্রাপ্তবয়স্ক এক আসামি ছাড়া অন্যদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাঁদের হাজির করা হয়। আদালতের বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাঁর বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য নারী ও শিশু আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বেলা আড়াইটায় ওই শিশুর বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।

আদালতে আসামিপক্ষের কেউ জামিনের আবেদন করেননি।

মামলার আসামিরা হলেন সুনামগঞ্জ শহরের তেঘরিয়া এলাকার বাসিন্দা দেওয়ান ছাদ রাজা চৌধুরীর ছেলে দেওয়ান শাহরুখ রাজা চৌধুরী, তাঁর ছেলে দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্স, দেওয়ান শাহরিয়ার চৌধুরী পিয়াল এবং মেয়ে শাম্মী আক্তার পলি ও সাবরিনা চৌধুরী রূপকথা। এ ছাড়া দেওয়ান ফারুক রাজা চৌধুরীর ছেলে ফাহিম রাজা চৌধুরীও এ মামলার আসামি।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন ছাতকের জালালপুর গ্রামের শফিক আহমদের ছেলে কাওছার আহমদ সোহাগ, গোলাপগঞ্জের ভাদেরশ্বর গ্রামের ওলিওর রহমান মানিকের ছেলে তাকরিব রহমান তানহির, দিরাই উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রামের শাহ আলমের ছেলে ইফাত আলম রাবিদ, সুনামগঞ্জের হাসননগর এলাকার সুজন মিয়ার ছেলে রানা এবং জামালগঞ্জ উপজেলার কদমতলী গ্রামের বিজয় করের ছেলে রজয় কর। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

কোর্ট ইন্সপেক্টর অজয় চন্দ্র দেব অপ্রাপ্তবয়স্ক সাবরিনা চৌধুরী রূপকথা ছাড়া অন্য আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নাশকতার মামলার আসামি হিসেবে প্রিন্সকে সুনামগঞ্জ শহরের নতুনপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের প্রায় এক ঘণ্টা পর হাজতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে ওই হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে প্রিন্সের পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশের অভিযোগ, প্রিন্সকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর পরিবারের সদস্যরা মব সৃষ্টি করে পুলিশের কাজে বাধা দেন, পুলিশ সদস্যদের আঘাত করেন এবং আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ও আদালতে সোপর্দ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রতন শেখ।

শতভাগ পাশের গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য অর্জন বাদাঘাট আইডিয়াল ভিশন কলেজ

ছাত্রলীগ নেতা প্রিন্সের পরিবারের সদস্য ও বন্ধুসহ ৮ জন কারাগারে

আপডেট সময় : ০৪:১০:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

সুনামগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সকে গ্রেপ্তারের পর এবার তাঁর পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের ওপর হামলা, কাজে বাধা, মব সৃষ্টি ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করা হলে অপ্রাপ্তবয়স্ক এক আসামি ছাড়া অন্যদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাঁদের হাজির করা হয়। আদালতের বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাঁর বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য নারী ও শিশু আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বেলা আড়াইটায় ওই শিশুর বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।

আদালতে আসামিপক্ষের কেউ জামিনের আবেদন করেননি।

মামলার আসামিরা হলেন সুনামগঞ্জ শহরের তেঘরিয়া এলাকার বাসিন্দা দেওয়ান ছাদ রাজা চৌধুরীর ছেলে দেওয়ান শাহরুখ রাজা চৌধুরী, তাঁর ছেলে দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্স, দেওয়ান শাহরিয়ার চৌধুরী পিয়াল এবং মেয়ে শাম্মী আক্তার পলি ও সাবরিনা চৌধুরী রূপকথা। এ ছাড়া দেওয়ান ফারুক রাজা চৌধুরীর ছেলে ফাহিম রাজা চৌধুরীও এ মামলার আসামি।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন ছাতকের জালালপুর গ্রামের শফিক আহমদের ছেলে কাওছার আহমদ সোহাগ, গোলাপগঞ্জের ভাদেরশ্বর গ্রামের ওলিওর রহমান মানিকের ছেলে তাকরিব রহমান তানহির, দিরাই উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রামের শাহ আলমের ছেলে ইফাত আলম রাবিদ, সুনামগঞ্জের হাসননগর এলাকার সুজন মিয়ার ছেলে রানা এবং জামালগঞ্জ উপজেলার কদমতলী গ্রামের বিজয় করের ছেলে রজয় কর। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

কোর্ট ইন্সপেক্টর অজয় চন্দ্র দেব অপ্রাপ্তবয়স্ক সাবরিনা চৌধুরী রূপকথা ছাড়া অন্য আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নাশকতার মামলার আসামি হিসেবে প্রিন্সকে সুনামগঞ্জ শহরের নতুনপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের প্রায় এক ঘণ্টা পর হাজতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে ওই হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে প্রিন্সের পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশের অভিযোগ, প্রিন্সকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর পরিবারের সদস্যরা মব সৃষ্টি করে পুলিশের কাজে বাধা দেন, পুলিশ সদস্যদের আঘাত করেন এবং আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ও আদালতে সোপর্দ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রতন শেখ।