০৯:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অসময়ের অতি বৃষ্টি: ফসল ও সবজি ক্ষেতের বড় ক্ষতির আশঙ্কা

সমাজ বার্তা কৃষি ডেস্ক | ঢাকা:
নভেম্বরের শুরুতেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্বাভাবিক ও টানা বৃষ্টিপাত দেখা দিয়েছে। শনিবার বিকেল থেকে শুরু হয়ে কখনো ভারি আবার কখনো হালকা বৃষ্টি দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরের এই সময়ে এমন বৃষ্টি ধান ও শীতকালীন সবজি ফসলের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

সাধারণত নভেম্বর-ডিসেম্বর ও জানুয়ারির সময়টা বাংলাদেশে আমন ধান ও শীতকালীন সবজি চাষের মৌসুম। কৃষিবিদরা বলছেন, এ সময়ে অল্প বৃষ্টিপাত ফসলের জন্য উপকারী হলেও অতিরিক্ত বা টানা বৃষ্টি বড় ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।

কৃষিবিদ তালহা জুবায়ের বলেন,

“যদি এই বৃষ্টিপাত অল্প হতো সেটা জমি কিংবা ফসলের জন্য উপকারী ছিল। কিন্তু শনিবার যে বৃষ্টি হয়েছে সেটা তো ভয়াবহ বৃষ্টি। নভেম্বরে তো এমন বৃষ্টি আমরা সাধারণত দেখি না।”

তিনি আরও জানান, ভারী বৃষ্টিতে ফসলি জমি পানির নিচে ডুবে গেলে মাটির নিচে থাকা ফসলের মূল পচে যায়, ফলে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এই সময়ে দেশের মাঠে আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ চলছে। অনেক কৃষক ধান কেটে মাঠে রেখেছেন, কেউ কেউ এখনও কাটতে পারেননি। এমন সময় মুষলধারে বৃষ্টি ধানের শীষ নষ্ট করে দিতে পারে।

কৃষিবিদ তালহা জুবায়ের বলেন,

“অনেক মানুষের জমিতে এখনো ধান রয়েছে। অনেকে ধান কেটে মাঠে রেখেছে। এরকম মুষলধারে বৃষ্টি ধানের জন্য বড় ক্ষতি। কারণ টানা বৃষ্টি হলে ধানগুলো ভিজে যাবে, শুকাতে পারবে না। আবার যে ধান এখনো কাটা হয়নি সেগুলোর শীষ মাটির সঙ্গে মিশে যেতে পারে।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বৃষ্টি থেমে গেলে ও দ্রুত রোদ উঠলে অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। তবে বৃষ্টি যদি আরও দুই-তিন দিন অব্যাহত থাকে, তাহলে ধান, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুনসহ শীতকালীন সবজির ক্ষতি ভয়াবহ হতে পারে।

মি. জুবায়ের বলেন,

“আজকে যে ভারি বৃষ্টি হয়েছে কাল থেকে যদি আবার রোদ ওঠে তাহলে অনেক সময় এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। কিন্তু বৃষ্টি যদি টানা কয়েক দিন চলে, তাহলে সেটা হবে কৃষকের জন্য সবচেয়ে বড় দুঃসংবাদ।”

দেশের কৃষি নির্ভরশীল অর্থনীতিতে এই অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ধান ও শীতকালীন ফসল উৎপাদনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মৌসুমভিত্তিক আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষকের মাঠে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই সেচ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা জোরদার করা না গেলে আসন্ন মৌসুমে খাদ্য সরবরাহ ও বাজারদরেও প্রভাব পড়তে পারে।

অসময়ের এই বৃষ্টি কৃষকের মুখে দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে ধান ও সবজি দুই ফসলেই বড় ক্ষতি হতে পারে, যা সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করবে।

জনপ্রিয় পোস্ট

দোয়ারাবাজারে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট শাখা থেকে গ্রাহকদের টাকা উধাও, প্রতিবাদ সমাবেশ

অসময়ের অতি বৃষ্টি: ফসল ও সবজি ক্ষেতের বড় ক্ষতির আশঙ্কা

আপডেট সময় : ০৩:০৫:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫

সমাজ বার্তা কৃষি ডেস্ক | ঢাকা:
নভেম্বরের শুরুতেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্বাভাবিক ও টানা বৃষ্টিপাত দেখা দিয়েছে। শনিবার বিকেল থেকে শুরু হয়ে কখনো ভারি আবার কখনো হালকা বৃষ্টি দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরের এই সময়ে এমন বৃষ্টি ধান ও শীতকালীন সবজি ফসলের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

সাধারণত নভেম্বর-ডিসেম্বর ও জানুয়ারির সময়টা বাংলাদেশে আমন ধান ও শীতকালীন সবজি চাষের মৌসুম। কৃষিবিদরা বলছেন, এ সময়ে অল্প বৃষ্টিপাত ফসলের জন্য উপকারী হলেও অতিরিক্ত বা টানা বৃষ্টি বড় ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।

কৃষিবিদ তালহা জুবায়ের বলেন,

“যদি এই বৃষ্টিপাত অল্প হতো সেটা জমি কিংবা ফসলের জন্য উপকারী ছিল। কিন্তু শনিবার যে বৃষ্টি হয়েছে সেটা তো ভয়াবহ বৃষ্টি। নভেম্বরে তো এমন বৃষ্টি আমরা সাধারণত দেখি না।”

তিনি আরও জানান, ভারী বৃষ্টিতে ফসলি জমি পানির নিচে ডুবে গেলে মাটির নিচে থাকা ফসলের মূল পচে যায়, ফলে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এই সময়ে দেশের মাঠে আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ চলছে। অনেক কৃষক ধান কেটে মাঠে রেখেছেন, কেউ কেউ এখনও কাটতে পারেননি। এমন সময় মুষলধারে বৃষ্টি ধানের শীষ নষ্ট করে দিতে পারে।

কৃষিবিদ তালহা জুবায়ের বলেন,

“অনেক মানুষের জমিতে এখনো ধান রয়েছে। অনেকে ধান কেটে মাঠে রেখেছে। এরকম মুষলধারে বৃষ্টি ধানের জন্য বড় ক্ষতি। কারণ টানা বৃষ্টি হলে ধানগুলো ভিজে যাবে, শুকাতে পারবে না। আবার যে ধান এখনো কাটা হয়নি সেগুলোর শীষ মাটির সঙ্গে মিশে যেতে পারে।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বৃষ্টি থেমে গেলে ও দ্রুত রোদ উঠলে অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। তবে বৃষ্টি যদি আরও দুই-তিন দিন অব্যাহত থাকে, তাহলে ধান, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুনসহ শীতকালীন সবজির ক্ষতি ভয়াবহ হতে পারে।

মি. জুবায়ের বলেন,

“আজকে যে ভারি বৃষ্টি হয়েছে কাল থেকে যদি আবার রোদ ওঠে তাহলে অনেক সময় এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। কিন্তু বৃষ্টি যদি টানা কয়েক দিন চলে, তাহলে সেটা হবে কৃষকের জন্য সবচেয়ে বড় দুঃসংবাদ।”

দেশের কৃষি নির্ভরশীল অর্থনীতিতে এই অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ধান ও শীতকালীন ফসল উৎপাদনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মৌসুমভিত্তিক আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষকের মাঠে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই সেচ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা জোরদার করা না গেলে আসন্ন মৌসুমে খাদ্য সরবরাহ ও বাজারদরেও প্রভাব পড়তে পারে।

অসময়ের এই বৃষ্টি কৃষকের মুখে দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে ধান ও সবজি দুই ফসলেই বড় ক্ষতি হতে পারে, যা সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করবে।