০৬:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তাহিরপুর শুল্ক বন্দরে পাকা সড়ক ও সেতু নির্মাণের উদ্যোগ, স্বস্তিতে ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার অতি গুরুত্বপূর্ণ তিনটি শুল্ক বন্দর—বড়ছড়া, বাগলী ও চারাগাঁও প্রতিবছর সরকার কে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব দিলেও বিগত দিনে সেভাবে উন্নয়নের ছোঁয়া পায়নি।

দীর্ঘদিন ধরে এসব বন্দরের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বেহাল থাকায় ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। ভাঙাচোরা সড়কের কারণে প্রায়ই ঘটতো দুর্ঘটনা, যাতে প্রাণ হারিয়েছেন পথচারী ও শ্রমিকরা।

অবশেষে এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। তাঁর উদ্যোগে বাগলী ও চারাগাঁও শুল্ক স্টেশনের জরাজীর্ণ সড়কগুলো পাকাকরণ এবং প্রয়োজনীয় ব্রিজ নির্মাণের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার দুপুরে বাগলী ও চারাগাঁও শুল্ক বন্দরের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও ব্রিজের স্থানগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বল, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা ফেরদৌস আলম আখঞ্জী, বালিজুরি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. সাখাওয়াত হোসেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোস্তাক আহমদ সহ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

স্থানীয় অধিবাসী ও ব্যবসায়ী: জামিল আহমেদ ফারুক মিয়াসহ স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, সড়ক বেহাল থাকায় কোনো যানবাহন চলাচলের উপযোগী ছিল না। সড়ক পাকা ও সেতু নির্মিত হলে কেবল যাতায়াত সহজ হবে না, ভারত থেকে আমদানি করা কয়লা ও চুনাপাথর পরিবহন খরচও বহুগুণ কমে আসবে।

রাজনৈতিক নেতৃত্ব: উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বল বলেন, “সীমান্তবর্তী এই বন্দরগুলো এতদিন উন্নয়ন বঞ্চিত ছিল। আমাদের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক।

সড়ক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে এই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফিরবে।উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানান, শুল্ক বন্দরের সড়কগুলোর বর্তমান অবস্থা ও ব্রিজের প্রয়োজনীয়তা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

শীঘ্রই এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়ে দ্রুত কাজের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সচেতন মহলের মতে, এই সড়ক ও সেতুগুলো নির্মিত হলে সীমান্ত এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের পাশাপাশি পর্যটকদের আগমনও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে, যা পুরো তাহিরপুরের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

টেগ :
জনপ্রিয় পোস্ট

পুলিশ কর্মকর্তার নাম-ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট, পুলিশ কর্মকর্তার জিডি

তাহিরপুর শুল্ক বন্দরে পাকা সড়ক ও সেতু নির্মাণের উদ্যোগ, স্বস্তিতে ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী

আপডেট সময় : ০৫:৪৪:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার অতি গুরুত্বপূর্ণ তিনটি শুল্ক বন্দর—বড়ছড়া, বাগলী ও চারাগাঁও প্রতিবছর সরকার কে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব দিলেও বিগত দিনে সেভাবে উন্নয়নের ছোঁয়া পায়নি।

দীর্ঘদিন ধরে এসব বন্দরের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বেহাল থাকায় ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। ভাঙাচোরা সড়কের কারণে প্রায়ই ঘটতো দুর্ঘটনা, যাতে প্রাণ হারিয়েছেন পথচারী ও শ্রমিকরা।

অবশেষে এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। তাঁর উদ্যোগে বাগলী ও চারাগাঁও শুল্ক স্টেশনের জরাজীর্ণ সড়কগুলো পাকাকরণ এবং প্রয়োজনীয় ব্রিজ নির্মাণের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার দুপুরে বাগলী ও চারাগাঁও শুল্ক বন্দরের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও ব্রিজের স্থানগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বল, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা ফেরদৌস আলম আখঞ্জী, বালিজুরি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. সাখাওয়াত হোসেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোস্তাক আহমদ সহ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

স্থানীয় অধিবাসী ও ব্যবসায়ী: জামিল আহমেদ ফারুক মিয়াসহ স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, সড়ক বেহাল থাকায় কোনো যানবাহন চলাচলের উপযোগী ছিল না। সড়ক পাকা ও সেতু নির্মিত হলে কেবল যাতায়াত সহজ হবে না, ভারত থেকে আমদানি করা কয়লা ও চুনাপাথর পরিবহন খরচও বহুগুণ কমে আসবে।

রাজনৈতিক নেতৃত্ব: উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বল বলেন, “সীমান্তবর্তী এই বন্দরগুলো এতদিন উন্নয়ন বঞ্চিত ছিল। আমাদের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক।

সড়ক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে এই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফিরবে।উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানান, শুল্ক বন্দরের সড়কগুলোর বর্তমান অবস্থা ও ব্রিজের প্রয়োজনীয়তা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

শীঘ্রই এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়ে দ্রুত কাজের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সচেতন মহলের মতে, এই সড়ক ও সেতুগুলো নির্মিত হলে সীমান্ত এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের পাশাপাশি পর্যটকদের আগমনও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে, যা পুরো তাহিরপুরের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।