০৫:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খরচের বোঝা বাড়ছে, আমনে লাভ হবে তো, শঙ্কায় মধ্যনগরের প্রান্তিক কৃষক

উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমন ধান চাষাবাদ ও পরিচর্যা করতে গিয়ে আর্থিক সংকট ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার প্রান্তিক কৃষকদের। জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে চারা রোপণ, সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি প্রায় প্রতিটি খাতেই গত বছরের তুলনায় এবার খরচ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।
কৃষকদের অভিযোগ, ডিজেলের দাম বৃদ্ধি, কৃষি শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি, সার ও কীটনাশকের বাড়তি দাম এবং বীজসহ অন্যান্য উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এক বিঘা জমিতে আমন ধান উৎপাদনে এবার তাদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। অথচ ধানের ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে আগ থেকেই অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তারা।
চলতি আমন মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণের কাজ চলছে। কোথাও কৃষক জমিতে হাল দিচ্ছেন, আবার কোথাও চলছে চারা রোপণ ও পরিচর্যার প্রস্তুতি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও বর্তমানে আমন রোপণের ব্যস্ততা চলছে।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবার বিঘাপ্রতি জমি প্রস্তুত ও হাল চাষে খরচ বেড়েছে। চারা রোপণের জন্য কৃষি শ্রমিকদেরও বেশি মজুরি দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকদের অভিযোগ, সংকটের অজুহাতে স্থানীয় খুচরা বাজারে কোনো কোনো ধরনের সারের বস্তায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দাম চাওয়া হচ্ছে। এর সঙ্গে রয়েছে কীটনাশক, বীজ, সেচ, আগাছা পরিষ্কারসহ অন্যান্য খরচ।
কৃষকদের ভাষ্য, আমন ধান ঘরে ওঠার আগেই উৎপাদন খরচের বড় একটি অংশ তাদের বহন করতে হচ্ছে। ধান কাটার সময় শ্রমিকের মজুরি, মাড়াই, পরিবহন ও শুকানোর খরচ যোগ হলে মোট ব্যয় আরও বাড়বে। ফলে শেষ পর্যন্ত বাজারে ধানের কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে এবারও লোকসানে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
মধ্যনগর উপজেলার বান্দ্রা গ্রামের কৃষক আতাউর রহমান বলেন, ধান চাষ করে লাভ হচ্ছে না। বোরো ধানই বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে দাম পাইনি। যেখানে সরকারি মূল্য ছিল ১ হাজার ৪৪০ টাকা মণ, সেখানে পাইকাররা ৮৫০ টাকা করে দাম হাঁকিয়েছে। সব জিনিসের দাম বাড়লেও ধানের দাম নেই। এবার আমন ধান চাষ করতে গিয়েও চিন্তায় আছি। বোরো ধানে উৎপাদন খরচই উঠেনি, রোপা আমন ধানের ন্যায্য দাম নিয়ে শঙ্কায় আছি, আমন ধানেও যদি লোকসান গুনতে হয়, তাহলে আমরা কীভাবে চলব?
উপজেলার কার্তিকপুর গ্রামের কৃষক রুবেল মিয়া বলেন, ফসল উৎপাদন করে দাম না পেয়ে দিন দিন আমরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছি। এর মাঝে বন্যার কারণে বোরো চাষ করে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এর ওপর সার, বীজ ও কীটনাশকের বাড়তি দাম। ১ হাজার ৩৫০ টাকা বস্তার সার ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা দাম হাঁকাচ্ছে। বাকিতে নিলে এ দাম আরও বাড়িয়ে বলছে। বাধ্য হয়ে উচ্চমূল্যেই সার কিনতে হচ্ছে। এভাবে সবকিছুর দাম বাড়ার পর যদি কাঙ্ক্ষিত দাম না পাই, তাহলে আমরা চলব কীভাবে?
এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আসয়াদ বিন খলিল রাহাত জানান, চলতি মৌসুমে মধ্যনগর উপজেলায় রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ১৮০ হেক্টর। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের চারা লাগানো হয়েছে। এ মৌসুমে উপজেলায় রোপা আমন থেকে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন।বাজারে সারের দাম বাড়তি থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের উপজেলায় সরকারি নির্ধারিত মূল্যেই সার বিক্রি হচ্ছে। এ বিষয়ে আমাদের নিয়মিত নজরদারি রয়েছে। কেউ যদি সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টেগ :
জনপ্রিয় পোস্ট

দোয়ারাবাজারে ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা প্রদান

খরচের বোঝা বাড়ছে, আমনে লাভ হবে তো, শঙ্কায় মধ্যনগরের প্রান্তিক কৃষক

আপডেট সময় : ০৫:০৩:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমন ধান চাষাবাদ ও পরিচর্যা করতে গিয়ে আর্থিক সংকট ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার প্রান্তিক কৃষকদের। জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে চারা রোপণ, সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি প্রায় প্রতিটি খাতেই গত বছরের তুলনায় এবার খরচ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।
কৃষকদের অভিযোগ, ডিজেলের দাম বৃদ্ধি, কৃষি শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি, সার ও কীটনাশকের বাড়তি দাম এবং বীজসহ অন্যান্য উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এক বিঘা জমিতে আমন ধান উৎপাদনে এবার তাদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। অথচ ধানের ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে আগ থেকেই অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তারা।
চলতি আমন মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণের কাজ চলছে। কোথাও কৃষক জমিতে হাল দিচ্ছেন, আবার কোথাও চলছে চারা রোপণ ও পরিচর্যার প্রস্তুতি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও বর্তমানে আমন রোপণের ব্যস্ততা চলছে।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবার বিঘাপ্রতি জমি প্রস্তুত ও হাল চাষে খরচ বেড়েছে। চারা রোপণের জন্য কৃষি শ্রমিকদেরও বেশি মজুরি দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকদের অভিযোগ, সংকটের অজুহাতে স্থানীয় খুচরা বাজারে কোনো কোনো ধরনের সারের বস্তায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দাম চাওয়া হচ্ছে। এর সঙ্গে রয়েছে কীটনাশক, বীজ, সেচ, আগাছা পরিষ্কারসহ অন্যান্য খরচ।
কৃষকদের ভাষ্য, আমন ধান ঘরে ওঠার আগেই উৎপাদন খরচের বড় একটি অংশ তাদের বহন করতে হচ্ছে। ধান কাটার সময় শ্রমিকের মজুরি, মাড়াই, পরিবহন ও শুকানোর খরচ যোগ হলে মোট ব্যয় আরও বাড়বে। ফলে শেষ পর্যন্ত বাজারে ধানের কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে এবারও লোকসানে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
মধ্যনগর উপজেলার বান্দ্রা গ্রামের কৃষক আতাউর রহমান বলেন, ধান চাষ করে লাভ হচ্ছে না। বোরো ধানই বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে দাম পাইনি। যেখানে সরকারি মূল্য ছিল ১ হাজার ৪৪০ টাকা মণ, সেখানে পাইকাররা ৮৫০ টাকা করে দাম হাঁকিয়েছে। সব জিনিসের দাম বাড়লেও ধানের দাম নেই। এবার আমন ধান চাষ করতে গিয়েও চিন্তায় আছি। বোরো ধানে উৎপাদন খরচই উঠেনি, রোপা আমন ধানের ন্যায্য দাম নিয়ে শঙ্কায় আছি, আমন ধানেও যদি লোকসান গুনতে হয়, তাহলে আমরা কীভাবে চলব?
উপজেলার কার্তিকপুর গ্রামের কৃষক রুবেল মিয়া বলেন, ফসল উৎপাদন করে দাম না পেয়ে দিন দিন আমরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছি। এর মাঝে বন্যার কারণে বোরো চাষ করে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এর ওপর সার, বীজ ও কীটনাশকের বাড়তি দাম। ১ হাজার ৩৫০ টাকা বস্তার সার ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা দাম হাঁকাচ্ছে। বাকিতে নিলে এ দাম আরও বাড়িয়ে বলছে। বাধ্য হয়ে উচ্চমূল্যেই সার কিনতে হচ্ছে। এভাবে সবকিছুর দাম বাড়ার পর যদি কাঙ্ক্ষিত দাম না পাই, তাহলে আমরা চলব কীভাবে?
এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আসয়াদ বিন খলিল রাহাত জানান, চলতি মৌসুমে মধ্যনগর উপজেলায় রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ১৮০ হেক্টর। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের চারা লাগানো হয়েছে। এ মৌসুমে উপজেলায় রোপা আমন থেকে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন।বাজারে সারের দাম বাড়তি থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের উপজেলায় সরকারি নির্ধারিত মূল্যেই সার বিক্রি হচ্ছে। এ বিষয়ে আমাদের নিয়মিত নজরদারি রয়েছে। কেউ যদি সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।