বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ২০২৩ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত অন্তত ১৯টি জেলায় প্রায় ১ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন টাকা (প্রায় ১১ মিলিয়ন ডলার) ক্ষতি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা অক্সফাম প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
বুধবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ড্যাশবোর্ড ফর ক্লাইমেট ইক্যুইটি’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে অক্সফাম। উদ্যোগে সহায়তা দেয় সুইডিশ উন্নয়ন সংস্থা সিডা, অক্সফাম অস্ট্রেলিয়া ও নোভিব।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জলবায়ুজনিত ক্ষতির দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলা হলো সুনামগঞ্জ, কক্সবাজার, কুড়িগ্রাম ও সাতক্ষীরা।
অক্সফামের তৈরি এই ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ড্যাশবোর্ড’ একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যেখানে স্থানীয় মানুষ সরাসরি জলবায়ুজনিত ক্ষতির তথ্য দিতে পারেন। পাইলট পর্যায়ে ১০ মাসে এই প্ল্যাটফর্মে ১১ হাজার ৫০০টির বেশি ক্ষতির ঘটনা রেকর্ড হয়। গড়ে প্রতিজন ক্ষতিগ্রস্তের ক্ষতির পরিমাণ ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা, যা একজন গড় শ্রমিকের প্রায় ১৫ মাসের আয়ের সমান।
অক্সফামের কান্ট্রি ডিরেক্টর আশীষ দামলে বলেন,
“এই ড্যাশবোর্ড মানুষ ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করবে। স্থানীয় অভিজ্ঞতাকে বৈজ্ঞানিক প্রমাণে রূপান্তর করেই আমরা সত্যিকারের জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারব।”
সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস বলেন,
“এটি দেখায়, কীভাবে স্থানীয় জ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক তথ্য একসাথে কাজ করে বৈশ্বিক পরিবর্তন আনতে পারে।”
প্রতিবেদনের লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে—পুরুষরা যেখানে বেশি আর্থিক ক্ষতির কথা জানিয়েছেন, নারীরা সেখানে স্বাস্থ্য ও জীবিকা-সংক্রান্ত ক্ষতির শিকার হয়েছেন বেশি।
অক্সফামের হিসেবে, বাংলাদেশ প্রতিবছর জলবায়ুজনিত দুর্যোগে জিডিপির ১-২ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতি সহ্য করছে, যা বছরে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের। তবে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে, কারণ ধীরগতির বিপর্যয়—যেমন লবণাক্ততা বৃদ্ধি বা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়া—এই হিসাবের বাইরে থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ড্যাশবোর্ড’ স্থানীয় মানুষকে ক্ষতির তথ্য নিজেরাই নথিবদ্ধ করতে সক্ষম করবে, যা ভবিষ্যতে সরকার ও আন্তর্জাতিক মহলের কাছে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও জবাবদিহি দাবি করার ক্ষেত্রে একটি কার্যকর হাতিয়ার হয়ে উঠবে।
স্টাফ রিপোর্টার 



















