সুনামগঞ্জ জেলার ব্যস্ততম অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক বিশ্বম্ভরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কে বর্তমানে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের এই প্রধান সড়কটি সংস্কার ও রক্ষণা-বেক্ষণের অভাবে এখন ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দে পরিণত হয়েছে।
ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক যোগাযোগ এবং চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রী, চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। সড়কটির বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা যায়, বিটুমিন ও পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে সড়কটি খালের রূপ নেয়। এতে যানবাহন চলাচলে চরম ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
বিশেষ করে মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো প্রায়ই উল্টে গিয়ে চালক ও যাত্রীরা আহত হচ্ছেন। সিএনজি চালক মানিক মিয়া, জানান রাতের আঁধারে এবং বর্ষার দিনে গর্ত না দেখতে পেয়ে ছোটখাটো দুর্ঘটনা এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
প্রাইভেট এম্বুলেন্স চালক আব্দুর হেকিম বলেন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা থেকে সুনামগঞ্জ জেলা সদরে যাতায়াতের একমাত্র সহজ মাধ্যম এই সড়কটি। উপজেলা থেকে জরুরি রোগী নিয়ে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল বা সিলেটে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে চরম বেগ পেতে হচ্ছে।
মুমূর্ষু রোগীদের ঝাঁকুনিতে যেমন অবস্থা আরো আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে, তেমনি অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতেও দীর্ঘ সময় ব্যয় হচ্ছে। বিশ্বম্ভপুর উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামের বাসিন্দা ফয়সল মিয়া জানান শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও নিত্যদিনের চাকরিজীবীদের নিয়মিত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এছাড়া গাড়ি চালকদের দাবি, সড়কটির বেহাল দশার কারণে একদিকে গাড়ির যন্ত্রাংশ বারবার নষ্ট হয়ে অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে, অন্যদিকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরে সড়কটির এমন জরাজীর্ণ অবস্থা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্থায়ী কোনো নজরদারি বা টেকসই সংস্কারের উদ্দোগ নেই।
মাঝে মাঝে নামকাওয়াস্তে সাময়িক মেরামত করা হলেও কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রী সাধারণের একবাক্যে দাবি—আর কোনো আশ্বাস নয়, বিশ্বম্ভরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের দ্রুত, মানসম্মত ও টেকসই পুর্ণাঙ্গ সংস্কার কাজ শুরু করতে হবে।
সড়কটিকে চলাচলের উপযোগী করে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা রোধ ও জনদুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্টাফ রিপোর্টার: 













