১১:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাওরে ‘হাওরে হল্লা

হাওর এলাকার হারিয়ে যাওয়া প্রাচীন ঐতিহ্য উজ্জীবিত করে তুলতে ব্যতিক্রমীম উদ্যোগ হাওরে হল্লা নামে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় শাল্লা উপজেলার নাইন্দ্যা গ্রামের হরিগাছ তলায় এই আয়োজন করা হয়। দিনভর চলে এই অনুষ্ঠান।

একাত্তর টেলিভিশনের সিনিয়র সাব-এডিটর হাসান আহমেদের উদ্যোগে হাওর এলাকায় কালের পরিবর্তনে হারিয়ে যাওয়া প্রাচীন সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও প্রাণবন্ত করতে এবং এই ব্যতিক্রমী “হাওরে হল্লা” আয়োজন করা হয়। এই “হাওরে হল্লা” অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে বাঙ্গালী সংস্কৃতির বিলুপ্ত প্রায় প্রাচীন ঐতিহ্য গাজীর গান, যাত্রাপালা, ধামাইল, পদ্মপুরাণ পাঠ ও বাউল গান। উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা স্থানীয় শিল্পীরা অংশগ্রহন করে এই অনুষ্ঠানে।

হাওরের অপার সৌন্দর্য আর খোলা প্রকৃতির মাঝে আগত শিল্পীরা বাউল গান, ধামাইল, পদ্মপুরাণ পাঠ, গাজীর নৃত্য যাত্রাপালা পরিবেশন করেন। তাদের পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে হাওরের নীরব প্রকৃতি। গান, নৃত্য ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

দিনভর এ আয়োজনে অংশ নেওয়া সদস্যদের জন্য দুপুরের খাবারেরও ব্যবস্থা করা হয়। প্রকৃতির মাঝে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন উপভোগ করেন উপস্থিত সবাই।

উৎসবে উপস্থিত ছিলেন, একাত্তর টিভির সিনিয়র সাব-এডিটর হাসান আহমেদ, বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) স্টাফ রিপোর্টার ফখরুল ইসলাম, কালের কণ্ঠের মাল্টিমিডিয়ার শাল্লা প্রতিনিধি সন্দীপন তালুকদার সুজন, দৈনিক এদিন পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি শান্ত কুমার তালুকদার, যায়যায় দিনের প্রতিনিধি দিলুয়ার হোসেন, পদাবলী কীর্তনী সুবোধ দাস বাচ্চু, বিপুল রায়, বাউল শিল্পী রথীন্দ্র দাস, রঞ্জন সরকার, জন্মান্ধ বাউল শিল্পী সুশান্ত দাস, শিশু শিল্পী জনার্দন দাস, গাজীর গানের গায়ক নুরুল আমিন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের আয়োজক হাসান আহমেদ জানান, আমরা বাঙ্গালীয়ানার শহরে এবং হাওরের জায়গাটাকে মিলবন্ধন করতে চাই। বাউলা সংস্কৃতিকে একটা চাপের মুখে রাখা হচ্ছে। তাই আমরা চাই এই সংস্কৃতিকে জাগিয়ে তুলে শহর ও হাওরের মানুষের মাঝে নতুন করে জানান দিতে। তিনি আরো বলেন, হই হুল্লা হচ্ছে একটা নেতিবাচক শব্দ তাই আমরা ইতিবাচক নিয়ে ‘হাওরে হল্লা’ আমরা শুরু করেছি। শুরু করাটা যেমন কঠিন, তবে এটাকে ধরে রাখা আরো কঠিন। তবুও আমরা প্রতিবছর ভাদ্র মাসের ১৯ তারিখে এই অনুষ্ঠানটি পালন করার চেষ্টা করবো। কর্মব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি কাটিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার পাশাপাশি হাওরের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক বন্ধন আরও দৃঢ় করা এবং সাংস্কৃতিক চর্চাকে প্রাণবন্ত করাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

উক্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা জানান, এই রকম অনুষ্ঠান করায় আমরা খুব আনন্দিত। আমাদের পুরোনো সংস্কৃতিকে ফিরিয়ে আনতে আপনাদের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তারা বলেন, ‘হাওরে হল্লা’ যদি বাংলার প্রতি অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হয় তাহলে নিশ্চয়ই বাঙ্গালী সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে টিকিয়ে থাকবে।

টেগ :
জনপ্রিয় পোস্ট

মধ্যনগরে নতুন ইউএনও শিল্পী রাণী মোদক

হাওরে ‘হাওরে হল্লা

আপডেট সময় : ১২:১৯:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হাওর এলাকার হারিয়ে যাওয়া প্রাচীন ঐতিহ্য উজ্জীবিত করে তুলতে ব্যতিক্রমীম উদ্যোগ হাওরে হল্লা নামে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় শাল্লা উপজেলার নাইন্দ্যা গ্রামের হরিগাছ তলায় এই আয়োজন করা হয়। দিনভর চলে এই অনুষ্ঠান।

একাত্তর টেলিভিশনের সিনিয়র সাব-এডিটর হাসান আহমেদের উদ্যোগে হাওর এলাকায় কালের পরিবর্তনে হারিয়ে যাওয়া প্রাচীন সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও প্রাণবন্ত করতে এবং এই ব্যতিক্রমী “হাওরে হল্লা” আয়োজন করা হয়। এই “হাওরে হল্লা” অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে বাঙ্গালী সংস্কৃতির বিলুপ্ত প্রায় প্রাচীন ঐতিহ্য গাজীর গান, যাত্রাপালা, ধামাইল, পদ্মপুরাণ পাঠ ও বাউল গান। উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা স্থানীয় শিল্পীরা অংশগ্রহন করে এই অনুষ্ঠানে।

হাওরের অপার সৌন্দর্য আর খোলা প্রকৃতির মাঝে আগত শিল্পীরা বাউল গান, ধামাইল, পদ্মপুরাণ পাঠ, গাজীর নৃত্য যাত্রাপালা পরিবেশন করেন। তাদের পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে হাওরের নীরব প্রকৃতি। গান, নৃত্য ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

দিনভর এ আয়োজনে অংশ নেওয়া সদস্যদের জন্য দুপুরের খাবারেরও ব্যবস্থা করা হয়। প্রকৃতির মাঝে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন উপভোগ করেন উপস্থিত সবাই।

উৎসবে উপস্থিত ছিলেন, একাত্তর টিভির সিনিয়র সাব-এডিটর হাসান আহমেদ, বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) স্টাফ রিপোর্টার ফখরুল ইসলাম, কালের কণ্ঠের মাল্টিমিডিয়ার শাল্লা প্রতিনিধি সন্দীপন তালুকদার সুজন, দৈনিক এদিন পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি শান্ত কুমার তালুকদার, যায়যায় দিনের প্রতিনিধি দিলুয়ার হোসেন, পদাবলী কীর্তনী সুবোধ দাস বাচ্চু, বিপুল রায়, বাউল শিল্পী রথীন্দ্র দাস, রঞ্জন সরকার, জন্মান্ধ বাউল শিল্পী সুশান্ত দাস, শিশু শিল্পী জনার্দন দাস, গাজীর গানের গায়ক নুরুল আমিন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের আয়োজক হাসান আহমেদ জানান, আমরা বাঙ্গালীয়ানার শহরে এবং হাওরের জায়গাটাকে মিলবন্ধন করতে চাই। বাউলা সংস্কৃতিকে একটা চাপের মুখে রাখা হচ্ছে। তাই আমরা চাই এই সংস্কৃতিকে জাগিয়ে তুলে শহর ও হাওরের মানুষের মাঝে নতুন করে জানান দিতে। তিনি আরো বলেন, হই হুল্লা হচ্ছে একটা নেতিবাচক শব্দ তাই আমরা ইতিবাচক নিয়ে ‘হাওরে হল্লা’ আমরা শুরু করেছি। শুরু করাটা যেমন কঠিন, তবে এটাকে ধরে রাখা আরো কঠিন। তবুও আমরা প্রতিবছর ভাদ্র মাসের ১৯ তারিখে এই অনুষ্ঠানটি পালন করার চেষ্টা করবো। কর্মব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি কাটিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার পাশাপাশি হাওরের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক বন্ধন আরও দৃঢ় করা এবং সাংস্কৃতিক চর্চাকে প্রাণবন্ত করাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

উক্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা জানান, এই রকম অনুষ্ঠান করায় আমরা খুব আনন্দিত। আমাদের পুরোনো সংস্কৃতিকে ফিরিয়ে আনতে আপনাদের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তারা বলেন, ‘হাওরে হল্লা’ যদি বাংলার প্রতি অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হয় তাহলে নিশ্চয়ই বাঙ্গালী সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে টিকিয়ে থাকবে।