০২:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাল্লায় ফেসবুকে ‘আমার মৃত্যুর কারণ তুমি’ লিখে পোস্ট, কিছুক্ষণ পর যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের মামুদনগর গ্রামের প্লাবন সরকার নামে এক হিন্দু যুবক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজ আইডিতে দুজনের বিভিন্নস্থানে তোলা যৌথ ছবির ক্যাপশন লিখে পোস্ট দেওয়ার কিছুক্ষন পরই মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

ফেসবুক পোস্ট

গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই এই যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। পরে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়রা শাল্লা থানার পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যান।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল আনুমানিক তিনটার দিকে প্লাবন সরকার তার নিজ ফেসবুক আইডিতে একই গ্রামের হাবিবুর রহমানসহ দুজনের বিভিন্ন স্থানের যৌথ ছবি দিয়ে ক্যাপশনে লিখেন “আমার মৃত্যুর একামাত্র কারন শুধু তুমি”। এই পোস্ট দেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই খবর পাওয়া যায় প্লাবন সরকার মারা গেছে। তবে এই সময়ে হাবিবুর রহমান ও মঈনুল ইসলাম নামে দুই ব্যক্তি স্থানীয় প্লাবন সরকারের বসত ঘরের দরজা ভেঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে লাশ নিচে নামিয়ে রাখেন।

পরে মামুদনগর বাজার থেকে এক পল্লী চিকিৎসককে সাথে নিয়ে প্লাবনের ব্লাড প্রেসার চেক করেন এবং পল্লী চিকিৎসক এই দুই ব্যক্তিকে প্লাবনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করলে হাবিবুর রহমান ও মঈনুল ইসলাম প্লাবনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে গিয়ে এলাকা ছাড়া হয়ে যান।

পল্লী চিকিৎসক প্রদীপ সরকার জানান, হাবিবুর, মঈনুল ও প্লাবন তিনজনই বাজারের ব্যবসায়ী। তাদের মধ্যে ভাল সম্পর্ক ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে হাবিবুর ও মঈনুল এসে আমাকে প্লাবনদের বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে। এবং বলে তোমাকে একটা জিনিস দেখাইতাম। তাদের এই কথায় আমি যাই। যাওয়ার পরই গাড়ি (হোন্ডা) থেকে নেমে আমাকে রেখেই তারা দুজন প্লাবনের ঘরের পেছনের দিকে যায়৷ পরে তাদেরকে আমি বলি পেছনে কেন সামনের দিকে আস। আমি আসতেই দেখি তারা প্লাবনের লাশটি নিচে নামিয়ে খাটের উপরে রাখে। পরে আমাকে তারা বিপি (ব্লাড প্রেসার যন্ত্র) নিয়ে আসার কথা বলে। আমি দৌঁড় দিয়ে চিৎকার করে কে কোথায় আছ বইলা বিপি নিয়ে আসি। পরে বিপি লাগিয়ে দেখি তার রেসপন্স নাই। এই কথা বলতেই তারা দুজন দ্রুত পালিয়ে যায় এবং প্লাবনের সাথে থাকা মোবাইল ফোনটি নিয়ে যান বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে হাবিবুর রহমান ও মঈনুলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

তবে মঈনুলের আপন বড় ভাই জহিরুল ইসলাম জানান, আমার ভাই মঈনুল ওদের সাথে বাজারে হাঁস খাইত। তবে প্লাবনের মৃত্যুর বিষয়ে আমার ভাই জড়িত থাকলে তারও শাস্তি হোক। তবে আমরা জানতাম প্লাবন ও হাবিবুর রহমানের মধ্যে একটা সম্পর্ক আছে। যা মুখে প্রকাশ করার মত না। কয়েকবারই ওদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হয়েছে। যা বাজারের মানুষে খারাপভাবে বলাবলি করতো।

এবিষয়ে শাল্লা থানার ওসি মোহাম্মদ সোহেল জানান, সংবাদ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। ঘটনার পেছনে কি রহস্য রয়েছে এবং এটি আত্মহত্যা নাকি কোনো প্ররোচনা বা হত্যাকান্ড তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

টেগ :
জনপ্রিয় পোস্ট

যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জগন্নাথপুরে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

শাল্লায় ফেসবুকে ‘আমার মৃত্যুর কারণ তুমি’ লিখে পোস্ট, কিছুক্ষণ পর যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

আপডেট সময় : ০৭:০৯:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের মামুদনগর গ্রামের প্লাবন সরকার নামে এক হিন্দু যুবক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজ আইডিতে দুজনের বিভিন্নস্থানে তোলা যৌথ ছবির ক্যাপশন লিখে পোস্ট দেওয়ার কিছুক্ষন পরই মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

ফেসবুক পোস্ট

গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই এই যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। পরে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়রা শাল্লা থানার পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যান।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল আনুমানিক তিনটার দিকে প্লাবন সরকার তার নিজ ফেসবুক আইডিতে একই গ্রামের হাবিবুর রহমানসহ দুজনের বিভিন্ন স্থানের যৌথ ছবি দিয়ে ক্যাপশনে লিখেন “আমার মৃত্যুর একামাত্র কারন শুধু তুমি”। এই পোস্ট দেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই খবর পাওয়া যায় প্লাবন সরকার মারা গেছে। তবে এই সময়ে হাবিবুর রহমান ও মঈনুল ইসলাম নামে দুই ব্যক্তি স্থানীয় প্লাবন সরকারের বসত ঘরের দরজা ভেঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে লাশ নিচে নামিয়ে রাখেন।

পরে মামুদনগর বাজার থেকে এক পল্লী চিকিৎসককে সাথে নিয়ে প্লাবনের ব্লাড প্রেসার চেক করেন এবং পল্লী চিকিৎসক এই দুই ব্যক্তিকে প্লাবনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করলে হাবিবুর রহমান ও মঈনুল ইসলাম প্লাবনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে গিয়ে এলাকা ছাড়া হয়ে যান।

পল্লী চিকিৎসক প্রদীপ সরকার জানান, হাবিবুর, মঈনুল ও প্লাবন তিনজনই বাজারের ব্যবসায়ী। তাদের মধ্যে ভাল সম্পর্ক ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে হাবিবুর ও মঈনুল এসে আমাকে প্লাবনদের বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে। এবং বলে তোমাকে একটা জিনিস দেখাইতাম। তাদের এই কথায় আমি যাই। যাওয়ার পরই গাড়ি (হোন্ডা) থেকে নেমে আমাকে রেখেই তারা দুজন প্লাবনের ঘরের পেছনের দিকে যায়৷ পরে তাদেরকে আমি বলি পেছনে কেন সামনের দিকে আস। আমি আসতেই দেখি তারা প্লাবনের লাশটি নিচে নামিয়ে খাটের উপরে রাখে। পরে আমাকে তারা বিপি (ব্লাড প্রেসার যন্ত্র) নিয়ে আসার কথা বলে। আমি দৌঁড় দিয়ে চিৎকার করে কে কোথায় আছ বইলা বিপি নিয়ে আসি। পরে বিপি লাগিয়ে দেখি তার রেসপন্স নাই। এই কথা বলতেই তারা দুজন দ্রুত পালিয়ে যায় এবং প্লাবনের সাথে থাকা মোবাইল ফোনটি নিয়ে যান বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে হাবিবুর রহমান ও মঈনুলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

তবে মঈনুলের আপন বড় ভাই জহিরুল ইসলাম জানান, আমার ভাই মঈনুল ওদের সাথে বাজারে হাঁস খাইত। তবে প্লাবনের মৃত্যুর বিষয়ে আমার ভাই জড়িত থাকলে তারও শাস্তি হোক। তবে আমরা জানতাম প্লাবন ও হাবিবুর রহমানের মধ্যে একটা সম্পর্ক আছে। যা মুখে প্রকাশ করার মত না। কয়েকবারই ওদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হয়েছে। যা বাজারের মানুষে খারাপভাবে বলাবলি করতো।

এবিষয়ে শাল্লা থানার ওসি মোহাম্মদ সোহেল জানান, সংবাদ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। ঘটনার পেছনে কি রহস্য রয়েছে এবং এটি আত্মহত্যা নাকি কোনো প্ররোচনা বা হত্যাকান্ড তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।