দোয়ারাবাজার উপজেলার লিয়াকতগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল কাদিরকে শর্তসাপেক্ষে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুনর্বহালের রেজুলেশন বাতিল ও বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাকিলা রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বেগম হাছিনা মমতাজ।
রোববার দুপুর সাড়ে ৩টায় অভিযোগটি দেওয়া হয়। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালে আব্দুল কাদিরের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন ও হিসাব-নিকাশ নিয়ে অভিযোগ ওঠে। উপজেলা প্রশাসন ও তৎকালীন স্কুল ম্যানেজিং কমিটির উদ্যোগে গঠিত তদন্ত কমিটির দুই দফা প্রতিবেদনে প্রায় ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়। পরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থায়ী বরখাস্তের জন্য শিক্ষা বোর্ডে সুপারিশ করা হয়।
এরপর ৫ জুলাই ২০২৬ বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোস্তাফিজুর রহমান আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। ওই কমিটির প্রতিবেদনে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার হিসাব পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
৩০ সেপ্টেম্বর এডহক কমিটির সভায় নির্ধারিত অর্থ প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে ফেরত দেওয়ার শর্তে আব্দুল কাদিরকে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে পূর্বের তদন্ত কমিটির সদস্য হিসেবে মোস্তাফিজুর রহমানের সম্পৃক্ততা থাকায় পুনর্বহালের সিদ্ধান্তে তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
এডহক কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তৎকালীন তদন্ত প্রতিবেদনে শুধু আয়ের বিষয় উল্লেখ ছিল, ব্যয়ের কোনো হিসাব বা রেজিস্টার ছিল না। পরবর্তী তদন্তে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার হিসাব পাওয়া যায়নি। অডিটে আরও অর্থ পাওনা পাওয়া গেলে তা আব্দুল কাদিরকে পরিশোধ করতে হবে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত শিক্ষা বোর্ডে পাঠানোর বিষয়ে তিনি বলেন, কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ বিধি অনুযায়ী নেওয়া হবে।
সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল কাদির সভাপতির বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।
স্টাফ রিপোর্টার: 















