বাইট ডেস্ক :

সুনামগঞ্জে বন্ধুর সাথে পরকীয়ার জেরে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে স্বামী আব্দুল হামিদ মিল্টন(৩৬)কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) দুপুরে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ মোঃ হেমায়ত উদ্দিন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আব্দুল হামিদ মিল্টন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহমানের ছেলে। ২০২২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারিতে ঘটা হত্যা কাণ্ডটি দ্রুত বিচার আইনে আজ এ রায় ঘোষণা করলেন আদালত।
জানা যায়,সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের মইনপুর গ্রামের মদরিছ আলমের মেয়ে রিপা বেগম স্থানীয় এক সংগীত শিল্পী। তার প্রথম স্বামী ফখর উদ্দিনের সাথে পারিবারিক কলহের কারণে এক কন্যা সন্তানসহ স্বামীর সংসার ছাড়েন। পরে আব্দুল হামিদ মিল্টনকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তাদের সংসারে এক কন্যা সন্তান জন্ম নেয়।পারিবারিক কলহের জেরে রিপা বেগম সংসারের বিচ্ছেদ চেয়ে সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান। ২০২২ সালে তিন ফেব্রুয়ারি আদালতের মাধ্যমে আসামি আব্দুল হামিদ মিল্টনকে তালাক প্রদান করেন স্ত্রী রিপা বেগম।
বাবার বাড়িতে থাকা অবস্থায় স্বামী মিল্টনের বন্ধু গুলজার নামের এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। শহরের বড়পাড়ায় বাসা ভাড়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে বসবাস করতে থাকেন গুলজার ও রিপা। বিষয়টি জানতে পেরে রিপার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে সবার অগোচরে বাসায় প্রবেশ করে ঘুমন্ত অবস্থায় স্ত্রীকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায় মিল্টন। এ ঘটনায় রিপার বাবা মদরিছ আলম আব্দুল হামিদ মিল্টনের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করেন।পরে ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মিল্টনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
শুনানী শেষে আদালত মঙ্গলবার আসামি আব্দুল হামিদ মিল্টনকে দি পেনাল কোড ১৮৬০ এর ৩০২ ধারার অধীনে খুনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদন্ড ও দশ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আব্দুল হামিদ মিল্টনের রায়ের তারিখ হতে সাত দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপীল করতে পারবে। রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর খায়রুল কবির রুমেন।
বাইট/বুরহান/সুনাম-২৩
স্টাফ রিপোর্টার 















