০৯:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একতরফা ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে ১৩ বছর পর যুব এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান

একেবারেই একতরফা হয়ে গেল অনূর্ধ্ব–১৯ এশিয়া কাপ ২০২৫-এর ফাইনাল। দুবাইয়ের আইসিসি একাডেমি গ্রাউন্ডে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে রীতিমতো গুঁড়িয়ে দিয়ে ১৩ বছর পর যুব এশিয়া কাপের শিরোপা জিতেছে পাকিস্তান অনূর্ধ্ব–১৯ দল। ফাইনালে ১৯১ রানের বিশাল ব্যবধানে জিতে দ্বিতীয়বারের মতো ট্রফি নিজেদের করে নেয় পাকিস্তান, যা যুব এশিয়া কাপ ফাইনালের ইতিহাসে রানের ব্যবধানে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জয়।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ওপেনার সামির মিনহাসের রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরিতে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩৪৭ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান। জবাবে খেলতে নেমে ভারতীয় অনূর্ধ্ব–১৯ দল মাত্র ২৬.২ ওভারেই ১৫৬ রানে অলআউট হয়ে যায়।

পাকিস্তানের ইনিংসে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন সামির মিনহাস। ১৯ বছর বয়সী এই ওপেনার ১১৩ বল খেলে ১৭টি চার ও ৯টি ছক্কার সাহায্যে ১৭২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। এটি যুব ওয়ানডেতে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড। একই সঙ্গে যুব এশিয়া কাপের ইতিহাসেও এটি সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। সামির ভেঙেছেন ভারতের বৈভব সূর্যবংশীর করা ১৭১ রানের আগের রেকর্ড।

হামজা জহুরকে ৩১ রানে হারানোর পর উসমান খানের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ৯২ রানের জুটি গড়েন সামির। পরে আহমেদ হুসেইনকে সঙ্গে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে যোগ করেন ১৩৭ রান। আহমেদ হুসেইন ৭২ বলে ৫৬ রান করেন। শেষ পর্যন্ত ৩০২ রানে দলকে রেখে আউট হন সামির।

জবাবে বড় লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় ভারত। তৃতীয় ওভারেই অধিনায়ক আয়ুশ মাত্রে আউট হন মাত্র ২ রানে। বিস্ময়বালক সূর্যবংশী শুরুতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে ৯ বলে ২৬ রান করলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ভারতের স্কোর দ্রুত ৪৯/৩ হয়ে যায়। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে ভারতীয় যুবারা। দশ নম্বরে ব্যাট করতে নামা দীপেশ দেবেন্দ্রন ১৬ বলে ৩৬ রান না করলে আরও আগেই শেষ হয়ে যেত ভারতের ইনিংস।

পাকিস্তানের বোলিংয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন পেসার আলী রাজা। তিনি ৪ উইকেট নিয়ে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দেন। এছাড়া হুজাইফা, সুবহান ও সাইয়াম সমানতালে চাপ বজায় রাখেন।

এই জয়ের মাধ্যমে ২০১২ সালের পর আবারও যুব এশিয়া কাপের শিরোপা জিতল পাকিস্তান অনূর্ধ্ব–১৯ দল। পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবেই এই শিরোপা জয় দেখছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয় পোস্ট

ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ভাটি বাংলার ঐতিহ্যের প্রতীক সুখাইড় জমিদার বাড়ি

একতরফা ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে ১৩ বছর পর যুব এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান

আপডেট সময় : ১০:০০:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

একেবারেই একতরফা হয়ে গেল অনূর্ধ্ব–১৯ এশিয়া কাপ ২০২৫-এর ফাইনাল। দুবাইয়ের আইসিসি একাডেমি গ্রাউন্ডে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে রীতিমতো গুঁড়িয়ে দিয়ে ১৩ বছর পর যুব এশিয়া কাপের শিরোপা জিতেছে পাকিস্তান অনূর্ধ্ব–১৯ দল। ফাইনালে ১৯১ রানের বিশাল ব্যবধানে জিতে দ্বিতীয়বারের মতো ট্রফি নিজেদের করে নেয় পাকিস্তান, যা যুব এশিয়া কাপ ফাইনালের ইতিহাসে রানের ব্যবধানে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জয়।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ওপেনার সামির মিনহাসের রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরিতে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩৪৭ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান। জবাবে খেলতে নেমে ভারতীয় অনূর্ধ্ব–১৯ দল মাত্র ২৬.২ ওভারেই ১৫৬ রানে অলআউট হয়ে যায়।

পাকিস্তানের ইনিংসে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন সামির মিনহাস। ১৯ বছর বয়সী এই ওপেনার ১১৩ বল খেলে ১৭টি চার ও ৯টি ছক্কার সাহায্যে ১৭২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। এটি যুব ওয়ানডেতে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড। একই সঙ্গে যুব এশিয়া কাপের ইতিহাসেও এটি সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। সামির ভেঙেছেন ভারতের বৈভব সূর্যবংশীর করা ১৭১ রানের আগের রেকর্ড।

হামজা জহুরকে ৩১ রানে হারানোর পর উসমান খানের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ৯২ রানের জুটি গড়েন সামির। পরে আহমেদ হুসেইনকে সঙ্গে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে যোগ করেন ১৩৭ রান। আহমেদ হুসেইন ৭২ বলে ৫৬ রান করেন। শেষ পর্যন্ত ৩০২ রানে দলকে রেখে আউট হন সামির।

জবাবে বড় লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় ভারত। তৃতীয় ওভারেই অধিনায়ক আয়ুশ মাত্রে আউট হন মাত্র ২ রানে। বিস্ময়বালক সূর্যবংশী শুরুতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে ৯ বলে ২৬ রান করলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ভারতের স্কোর দ্রুত ৪৯/৩ হয়ে যায়। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে ভারতীয় যুবারা। দশ নম্বরে ব্যাট করতে নামা দীপেশ দেবেন্দ্রন ১৬ বলে ৩৬ রান না করলে আরও আগেই শেষ হয়ে যেত ভারতের ইনিংস।

পাকিস্তানের বোলিংয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন পেসার আলী রাজা। তিনি ৪ উইকেট নিয়ে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দেন। এছাড়া হুজাইফা, সুবহান ও সাইয়াম সমানতালে চাপ বজায় রাখেন।

এই জয়ের মাধ্যমে ২০১২ সালের পর আবারও যুব এশিয়া কাপের শিরোপা জিতল পাকিস্তান অনূর্ধ্ব–১৯ দল। পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবেই এই শিরোপা জয় দেখছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা।