১১:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশে ফিরলেন সৌদিতে কোরআন প্রতিযোগীতায় জয়ী ৪ হাফেজ

ছবি সংগ্রহীত

সৌদি আরবের মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪৬তম বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কারজয়ী বাংলাদেশের চার হাফেজ দেশে ফিরেছেন। শুক্রবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

পুরস্কারজয়ী হাফেজদের অভ্যর্থনা জানাতে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বিমানবন্দরে পাঠান ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। অসুস্থতার কারণে নিজে বিমানবন্দরে যেতে না পারলেও বিজয়ীদের স্বাগত জানাতে তার প্রবল ইচ্ছা ছিল বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

সৌদি বিজয়ী হাফেজদের অভিনন্দন জানিয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে চারজন অংশগ্রহণ করে সকলেই পুরস্কৃত হয়েছেন। একজন প্রথম, বাকিরা তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। এ অর্জন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সম্মান ও গর্বের। বাংলাদেশ কুরআনের পাখিদের উর্বর ভূমি-এ অর্জন তারই স্মারক।

ধর্মমন্ত্রীর নির্দেশে বিমানবন্দরে পুরস্কার বিজয়ী হাফেজদের অভ্যর্থনা জানান মন্ত্রণালয়ের হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আয়াতুল ইসলামের নেতৃত্বে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা। এতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুহাম্মদ মুহিবুল্লাহিল বাকী, ঢাকা হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেন ও মন্ত্রীর একান্ত সচিব (যুগ্মসচিব) মো. মাহবুব আলম উপস্থিত ছিলেন।

পাঁচটি গ্রুপে অনুষ্ঠিত ৪৬তম বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে চারজন নির্বাচিত কুরআনের হাফেজ অংশগ্রহণ করেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন এই প্রতিযোগীদেরকে বাছাই করে সৌদিতে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। প্রতিযোগিতার চতুর্থ গ্রুপে পুরুষদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন বাংলাদেশের মুহাম্মদ জাকারিয়া এবং একই গ্রুপে নারীদের মধ্যে তৃতীয় হয়েছেন রাবেতা বিনতে রমজান। মুহাম্মদ জাকারিয়া পেয়েছেন এক লাখ ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল এবং রাবিতা বিনতে রমজান পেয়েছেন এক লাখ ৩০ হাজার সৌদি রিয়াল।

এছাড়া, প্রতিযোগিতার তৃতীয় গ্রুপে পুরুষ ও নারী উভয় ক্যাটাগরিতেই তৃতীয় হয়েছেন বাংলাদেশের শেখ মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান এবং মুসফিরা বিনতে মাহমুদ। তারা দুজনেই পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন এক লাখ ৩০ হাজার সৌদি রিয়াল।

সৌদি বিজয়ী হাফেজ মুহাম্মদ জাকারিয়া নারায়ণগঞ্জের সানারপাড়ের আর-রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসা এবং হাফেজ মাহমুদুল হাসান আশরাফী রাজধানীর ডেমরার মারকাযুল মাদীনা ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার শিক্ষার্থী।

অন্যদিকে, রাবেতা বিনতে রমজান রাজধানীর উত্তরার তানযীমুল উম্মাহ গার্লস হিফয মাদরাসা এবং মুসফিরা বিনতে মাহমুদ পুরান ঢাকার ওয়ারিতে অবস্থিত সাওদা বিনতে যামআহ আন্তর্জাতিক বালিকা হিফজ মাদরাসার শিক্ষার্থী।

গত বুধবার পবিত্র মসজিদুল হারামে বর্ণাঢ্য সমাপনী অনুষ্ঠানে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মক্কা অঞ্চলের ডেপুটি গভর্নর প্রিন্স সাউদ বিন মিশাল। প্রতিযোগিতার পাঁচ গ্রুপে মোট ৫০ জনকে পুরস্কৃত করা হয়।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন.কম

টেগ :
জনপ্রিয় পোস্ট

দোয়ারাবাজারে পুত্রবধু কর্তৃক শ্বশুর হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

দেশে ফিরলেন সৌদিতে কোরআন প্রতিযোগীতায় জয়ী ৪ হাফেজ

আপডেট সময় : ০৬:৫৭:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

সৌদি আরবের মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪৬তম বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কারজয়ী বাংলাদেশের চার হাফেজ দেশে ফিরেছেন। শুক্রবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

পুরস্কারজয়ী হাফেজদের অভ্যর্থনা জানাতে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বিমানবন্দরে পাঠান ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। অসুস্থতার কারণে নিজে বিমানবন্দরে যেতে না পারলেও বিজয়ীদের স্বাগত জানাতে তার প্রবল ইচ্ছা ছিল বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

সৌদি বিজয়ী হাফেজদের অভিনন্দন জানিয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে চারজন অংশগ্রহণ করে সকলেই পুরস্কৃত হয়েছেন। একজন প্রথম, বাকিরা তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। এ অর্জন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সম্মান ও গর্বের। বাংলাদেশ কুরআনের পাখিদের উর্বর ভূমি-এ অর্জন তারই স্মারক।

ধর্মমন্ত্রীর নির্দেশে বিমানবন্দরে পুরস্কার বিজয়ী হাফেজদের অভ্যর্থনা জানান মন্ত্রণালয়ের হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আয়াতুল ইসলামের নেতৃত্বে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা। এতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুহাম্মদ মুহিবুল্লাহিল বাকী, ঢাকা হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেন ও মন্ত্রীর একান্ত সচিব (যুগ্মসচিব) মো. মাহবুব আলম উপস্থিত ছিলেন।

পাঁচটি গ্রুপে অনুষ্ঠিত ৪৬তম বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে চারজন নির্বাচিত কুরআনের হাফেজ অংশগ্রহণ করেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন এই প্রতিযোগীদেরকে বাছাই করে সৌদিতে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। প্রতিযোগিতার চতুর্থ গ্রুপে পুরুষদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন বাংলাদেশের মুহাম্মদ জাকারিয়া এবং একই গ্রুপে নারীদের মধ্যে তৃতীয় হয়েছেন রাবেতা বিনতে রমজান। মুহাম্মদ জাকারিয়া পেয়েছেন এক লাখ ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল এবং রাবিতা বিনতে রমজান পেয়েছেন এক লাখ ৩০ হাজার সৌদি রিয়াল।

এছাড়া, প্রতিযোগিতার তৃতীয় গ্রুপে পুরুষ ও নারী উভয় ক্যাটাগরিতেই তৃতীয় হয়েছেন বাংলাদেশের শেখ মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান এবং মুসফিরা বিনতে মাহমুদ। তারা দুজনেই পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন এক লাখ ৩০ হাজার সৌদি রিয়াল।

সৌদি বিজয়ী হাফেজ মুহাম্মদ জাকারিয়া নারায়ণগঞ্জের সানারপাড়ের আর-রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসা এবং হাফেজ মাহমুদুল হাসান আশরাফী রাজধানীর ডেমরার মারকাযুল মাদীনা ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার শিক্ষার্থী।

অন্যদিকে, রাবেতা বিনতে রমজান রাজধানীর উত্তরার তানযীমুল উম্মাহ গার্লস হিফয মাদরাসা এবং মুসফিরা বিনতে মাহমুদ পুরান ঢাকার ওয়ারিতে অবস্থিত সাওদা বিনতে যামআহ আন্তর্জাতিক বালিকা হিফজ মাদরাসার শিক্ষার্থী।

গত বুধবার পবিত্র মসজিদুল হারামে বর্ণাঢ্য সমাপনী অনুষ্ঠানে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মক্কা অঞ্চলের ডেপুটি গভর্নর প্রিন্স সাউদ বিন মিশাল। প্রতিযোগিতার পাঁচ গ্রুপে মোট ৫০ জনকে পুরস্কৃত করা হয়।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন.কম