সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে খাসিয়ামারা সেতুর নির্মান কাজে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের আলিপুর এলাকায় নির্মানাধীন এই সেতুটির কাজ ৪ বছর পেরিয়ে গেলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আর সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অবহেলায় তা এখনো ঝুলে আছে। ফলে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে বাধ্য হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে সম্প্রতি সেতুটির ডালাই কাজ সম্পন্ন হলেও দু’পাশে এপ্রোচের কাজ না করা,সেতুর রেলিংয়ে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং নানান অনিয়মের কারনে তা এখন মানুষের ভোগান্তির কারন হয়ে দাড়িয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ৫০০ মিটার চেইনেজে ৭৫ মিটার পিসি গার্ডার সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ২৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। ২০২২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি আলীপুর-টেংরাটিলা খেয়াঘাটে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে আনুষ্ঠানিকভাবে এর নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। কিন্তু শুরু থেকেই স্থানীয় এলজিইডি কর্মকর্তার যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানান অনিয়মের অভিযোগ উঠে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঠিকাদার দুই দিন কাজ করলে চার মাস কাজ বন্ধ রাখেন। কখনো আরও দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ থাকে।
ব্রিজের কাজ শুরু হওয়ার আগে এই জায়গায় খেয়া নৌকার মাধ্যমে মানুষ নদী পারাপার হলেও সেতুর কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে তা চালাতে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। তবুও একদিন ভোগান্তির শেষ হবে সেই আশায় স্থানীয়রা দিন গুনছিলেন। তবে কাজের ধীরগতি আর সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অবহেলায় এই যেনো ভোগান্তির কারন হয়ে দাড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আশিস রহমান বলেন, ২ বছরের কাজ ৪ বছর অতিক্রম হলেও শেষ হয়নি। স্থানীয়দের চাপে সম্প্রতি সেতুর ডালাইকাজ সম্পন্ন হলেও এপ্রোচ নিয়ে চলছে গড়িমসি। ফলে জীবনবাজি রেখে খেয়া দিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে । সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে স্কুল-মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থী, জরুরি রোগি এবং কৃষকের ফসল পরিবহনে।
মুহিবুর রহমান মানিক সোনালী নুর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মৌমিতা জাহান মিতা বলেন, “ব্রিজের কাজ শেষ না হওয়ায় সবসময় ঝুঁকি নিয়ে খেয়া পাড়ি দিয়ে স্কুলে যেতে হয়। ব্রিজের জন্য খেয়া নৌকা চলাচলের ও নিরাপদ নয়। সবসময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা আরো জানান, দোয়ারাবাজার এলজিইডি কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের তদারকির অভাব,কাজে অবহেলা আর দূর্নীতিগস্থ হওয়াতে মানুষের ভোগান্তির শেষ হচ্ছেনা।
তবে দোয়ারাবাজার এলজিইডির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঠিকাদারের খামখেয়ালীপনায় ব্রিজের কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিলো। কাজ বন্ধ না রাখলে আরো দুই বছর আগেই ব্রিজের কাজ শেষ হয়ে যেতো।
এবিষয়ে ঠিকাদার শংকর বাবুর মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
দোয়ারাবাজার উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ নিজ দপ্তরের উপর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,দ্রুতই সেতুটির সকল কাজ সম্পন্নের মাধ্যমে চলাচলের উপযোগী করা হবে।
দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি: সোহেল মিয়া 


















