অভাবের তাড়নায় অনাহার-অর্ধাহারে চলত চা-বিক্রেতা আব্দুল কাদিরের পাঁচ সদস্যের ছোট সংসার।
পরিবারের সদস্যদের লেখাপড়ার কথা তো দূরের কথা, ভরণপোষণ নিয়েই ছিল আকাশসম দুশ্চিন্তা। সেই শত বাধা ও প্রতিকূলতা জয় করে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রায় ৭৫ লাখ টাকার স্কলারশিপ অর্জন করেছেন চা-বিক্রেতার মেয়ে মেরিন জাহান (রুহি)। তাঁর এই সাফল্যে এলাকায় আনন্দের জোয়ার বইছে।
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের গণেশপুর গ্রামের চা-বিক্রেতা আব্দুল কাদিরের ছোট মেয়ে মেরিন জাহান (রুহি)।
এক ভাই ও দুই বোনের মধ্যে ছোট রুহি ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ায় ছিলেন অত্যন্ত মনোযোগী। পরিবারের অভাব-অনটন কিংবা বাবার পেশা—কোনোটিই তাঁকে উচ্চশিক্ষা অর্জনের স্বপ্ন থেকে দূরে রাখতে পারেনি।
জানা গেছে, উচ্চশিক্ষার জন্য সিলেট উইমেন্স মডেল কলেজের শিক্ষার্থী মেরিন জাহান (রুহি) চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন (এইউডব্লিউ) থেকে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা (৬০ হাজার মার্কিন ডলার) মূল্যের বৃত্তি অর্জন করেছেন। এই স্কলারশিপের আওতায় তিনি আগামী চার বছর এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন থেকে স্নাতক (গ্র্যাজুয়েশন) সম্পন্ন করার সুযোগ পাবেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে দিন-রাত সমানতালে নদীতে নৌকা নিয়ে ঘুরে ঘুরে চা বিক্রি করে পরিবারের ভরণপোষণ ও মেয়ের লেখাপড়ার খরচ জোগান দেন আব্দুল কাদির।
সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও মেয়ের পড়াশোনার স্বপ্নকে থামতে দেননি তিনি। তাঁর সেই ত্যাগ ও সংগ্রামকে সাফল্যে রূপ দিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য ৭৫ লাখ টাকার স্কলারশিপ অর্জন করে বাবার মুখ উজ্জ্বল করেছেন দরিদ্র পরিবারের মেয়ে রুহি।
রুহির এমন অসাধারণ সাফল্যে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর এই অর্জন শুধু পরিবারের জন্যই নয়, ছাতক-সুনামগঞ্জ তথা সিলেটের শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।
মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্কলারশিপ অর্জন করে রুহি তাঁর বাবার মুখ উজ্জ্বল করেছেন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। তাঁর এই অসাধারণ অর্জনের খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে।
স্বজন ও স্থানীয়রা বলছেন, রুহির এই সাফল্য শুধু তাঁর পরিবারের জন্য গর্বের বিষয় নয়; এটি ছাতকের তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের জন্যও বড় ধরনের অনুপ্রেরণা। তাঁরা আশা করছেন, মেরিন জাহান রুহি তাঁর মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবেন এবং দেশ ও এলাকার জন্য সম্মান বয়ে আনবেন।
মেয়ের স্কলারশিপ অর্জনে উচ্ছ্বসিত রুহির বাবা আব্দুল কাদির বলেন, “আমার মেয়ে এই স্কলারশিপ পাওয়ায় আমি খুবই আনন্দিত। দেশ-বিদেশের সবার কাছে আমার মেয়ের জন্য দোয়া চাই।
সোহেল মিয়া: 

















