সিলেটের জাফলং ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনে কর্মরত এক পুলিশ কর্মকর্তার নাম ও ছবি ব্যবহার করে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে ধর্ম অবমাননাকর ও বিভ্রান্তিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সিলেটের গোয়াইনঘাট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী পুলিশ কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ রায়।
বিশ্বজিৎ রায় সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার মধ্যনগর পূর্বপাড়ার বাসিন্দা। তিনি বেনু মাধব রায় ও অঞ্জনা রানী রায়ের ছেলে। বর্তমানে তিনি সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনে কর্মরত রয়েছেন।
জিডি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ১১টা ৪৪ মিনিটে পরিচিত এক সাংবাদিকের মাধ্যমে ভুয়া ফেসবুক আইডির বিষয়টি জানতে পারেন বিশ্বজিৎ রায়। পরে তাকে পাঠানো লিংকে প্রবেশ করে তিনি দেখতে পান, তার নাম ও মূল ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডির ছবি হুবহু ব্যবহার করে একটি ভুয়া আইডি খোলা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ওই ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে পবিত্র কোরআন শরিফ, ইসলাম ধর্ম, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ও হজরত ফাতেমা (রা.)-কে নিয়ে আপত্তিকর ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পুলিশ কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ রায়ের দাবি, তার মূল ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এ ধরনের কোনো পোস্ট করা হয়নি। ভুয়া আইডিটি পর্যালোচনা করলে সেখানে একাধিক বানান ভুলও দেখা যায় বলে জানান তিনি।
বিশ্বজিৎ রায় বলেন, আমার মূল ভেরিফায়েড আইডি থেকে এ ধরনের কোনো পোস্ট করা হয়নি। আমাকে ও আমার পরিবারকে সামাজিকভাবে বিব্রত করা এবং চক্রান্তমূলকভাবে আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই কেউ এই ভুয়া আইডি তৈরি করেছে। বিষয়টি জাফলং ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের ইনচার্জ তপন তালুকদারকে জানিয়েছি। পরে গোয়াইনঘাট থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে শুধু আমার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিই নয়, পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
এ ঘটনায় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) গোয়াইনঘাট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন বিশ্বজিৎ রায়।
গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ওমর ফারুক বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। ভুয়া আইডি পরিচালনাকারী ও সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
মধ্যনগর প্রতিনিধি: জয়নাল আবেদীন জহিরুল 

















