
নিজস্ব প্রতিবেদক :
“সমবায়ে গড়ব দেশ,স্মার্ট হবে বাংলাদেশ,বঙ্গবুন্ধ দর্শন সমবায়ে উন্নয়ন” এই প্রতিপাদ্য নিয়ে সুনামগঞ্জে ৫২তম জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য র্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার( ৪নভেম্বর) সকাল ১০টায় জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষ্য সুনামগগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও জেলা সমবায় কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালীটি নিয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শিল্পকলা একাডেমির হাছনরাজা মিলনায়নে গিয়ে সমবেত হন আয়োজকেরা। র্যালী পরবর্তী সময়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সুনামগঞ্জ জেলা সমবায় অফিসার মো.বশির আহমদের সভাপতিত্বে ও অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক মোছাঃ তামান্না আক্তারের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন,সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি নাদের বখত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন চন্দ্র দাস,জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মো. জসিম উদ্দিন দিলীপ,দপ্তর সম্পাদক এ্যাডভোকেট বিমান কান্তি রায়,এ্যাডভোকেট মাহমুদুল হক,মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নিগার সুলতানা কেয়া,জেলা মৎস্য অফিসার মো. সামছুল করিম,সদর উপজেলা সমবায় অফিসার বিজিত রজ্ঞন কর,এনজিও প্রতিনিধি মো. মিজানুল হক,সদর উপজেলা সমবায় অফিসের সহকারী পরিদর্শক ও অডিট অফিসার জিতেন্দ্র সূত্রধর প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে বাংলাদেশে সমবায় আন্দোলন পুনর্জীবিত হয়ে গড়ে উঠেছিল। তারা এসময় উল্লেখ করেন,
১৯৭২ সালের ৩ জুন বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়ন আয়োজিত সম্মেলনে ভাষণ দানকালে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমার দেশের প্রতিটি মানুষ খাদ্য পাবে, আশ্রয় পাবে, শিক্ষা পাবে, উন্নত জীবনের অধিকারী হবে এই হচ্ছে আমার স্বপ্ন। এই পরিপ্রেক্ষিতে গণমুখী সমবায় আন্দোলনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। কেননা সমবায়ের পথ সমাজতন্ত্রের পথ, গণতন্ত্রের পথ। সমবায়ের মাধ্যমে গরিব কৃষকরা যৌথভাবে উৎপাদন যন্ত্রের মালিকানা লাভ করবে। অন্যদিকে অধিকতর উৎপাদন বৃদ্ধি ও সুষম বণ্টন ব্যবস্থায় প্রতিটি ক্ষুদ্র চাষী গণতান্ত্রিক অংশ ও অধিকার পাবে। জোতদার ধনী চাষির শোষণ থেকে তারা মুক্তিলাভ করবে সমবায়ের সংহত শক্তির দ্বারা। একইভাবে কৃষক, শ্রমিক, তাঁতি, জেলে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যদি একজোট হয়ে পুঁজি এবং অন্যান্য উৎপাদনের মাধ্যম একত্র করতে পারেন, তবে আর মধ্যবর্তী ধনিক ব্যবসায়ী-শিল্পপতিগোষ্ঠী তাদের শ্রমের ফসলকে লুট করে খেতে পারবে না। সমবায়ের মাধ্যমে গ্রামবাংলায় গড়ে উঠবে ক্ষুদ্র শিল্প, যার মালিক হবে সাধারণ কৃষক, শ্রমিক এবং ভূমিহীন নির্যাতিত দুঃখী মানুষ। সমাজতন্ত্র স্থাপনের জন্য আমরা ইতোমধ্যেই সমস্ত বড় শিল্প, ব্যাংক, পাটকল, চিনিকল, সুতাকল ইত্যাদি জাতীয়করণ করেছি। জমির সর্বোচ্চ মালিকানা সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছি। আজ সমবায় পদ্ধতিতে গ্রামে গ্রামে, থানায়, বন্দরে গড়ে তুলতে হবে মেহনতি মানুষের যৌথ মালিকানা। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের বিনিময়ে পাবে ন্যায্যমূল্য, শ্রমিকরা পাবে শ্রমের ফল ভোগের ন্যায্য অধিকার।’ তারা বলেন বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন তাঁরই কন্যা বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাস্তবায়ন হচ্ছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী বলেন,’জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ডাকে ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার সাথে সাথে সমবায় সমিতি গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। দেশের একেবারেই তৃণমূলের মানুষজন সমবায় সমিতি গঠন করে বিশেষ করে নারী সমাজ স্বাবলম্বী হয়েছেন।সমবায় সমিতির আওতায় প্রান্তিক মানুষজন দারিদ্র বিমোনচনের মাধ্যমে পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন’। তিনি আরো বলেন বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার তৃণমূলের মানুষদের ভাগ্যে পরিবর্তনে নানামুখী উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করায় প্রতিটি পরিবারের মানুষজন শিক্ষা,স্বাস্থ্য,বাসস্থান ও চিকিৎসা সেবাসহ সরকারের সকল সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করার সুযোগ পাচ্ছেন । এসময় জেলা প্রশাসক জানান, এই সমবায় সমিতি থেকে একেবারেই স্বল্পসুদে ঋণ নিয়ে নিজের বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি চাষ,পুকুরে মাছ চাষসহ নানান কর্মকান্ডে অংশগ্রহন করলে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব। তবে সুনামগঞ্জে গুটি কয়েকজন ধনী ব্যাক্তিরা দাদন ব্যবসার সাথে জড়িত। তারা এই জেলার সহজ সরল মানুষদের নিকট চড়াসুদে দাদন ব্যবসার টাকা দিয়ে ইতিমধ্যে অনেক পরিবারের সহায় সম্পত্তি দখল করে তাদের পথে বসিয়ে ঘরছাড়া করেছেন। দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী ঐ সমস্ত দাদন ব্যবসায়ীদের বয়কট করতে সবার প্রতি আহবান জানান। আলোচনা পরবর্তী সময়ে জেলা পর্যায়ে সমবায় সমিতির কার্যক্রমে বিশেষ অবদান রাখায় তিনটি সমিতিসহ কয়েকজনকে সম্মাননা ক্রেষ্ট ও সদনপত্র তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। ##
স্টাফ রিপোর্টার 





















