০১:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে হাওর প্রকল্প বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সুনামগঞ্জে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে সংগঠনের ‘হাওর প্রকল্পের’ মাধ্যমে হাওর অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশের সুরক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও মানুষের জীবনমান উন্নয়ন সম্পর্কে উদ্বুব্দকরণ বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার ( ১৮ অক্টোবর) সকাল ১১ টায় সুনামগঞ্জ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারের শুরুতেই কোরান তিলাওয়াত করেন সুনামগঞ্জ মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের মুয়াজ্জিন হাফেজ মাওঃ মোঃ উসমান গণি পরে শুরু হয় সেমিনারেন কার্যক্রম।
সুনামগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) মোহাম্মদ রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে ও হাওর প্রকল্পের সহকারী পরিচালক মোঃ মশিউর রহমানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ( অতিরিক্ত সচিব) ড. মহাঃ বশিরুল আলম, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখানে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মোঃ মহিউদ্দিন, সুনামগঞ্জের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ সুকদেব সাহা, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ শামশুল করিম।
এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন সুনামগঞ্জের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন।
বক্তারা হাওরাঞ্চলের জেলা খ্যাত সুনামগঞ্জের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে এগুলো বাস্তবায়নের জন্য ইমামদের সহযোগিতার কথা ব্যক্ত করেন। সমাজ থেকে গুজব ও কুসংস্কার দূর করার জন্য এবং সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ইমামদের ভূমিকা রাখার আহবান জানান তারা। এসময় বক্তরা জেলার মৎস্য সম্পদ রক্ষার জন্য খাল-বিলের পানি শুকিয়ে মাছ না ধরার সচেতনা বৃদ্ধি করার কথা উল্লেখ করেন বার বার । একেই সাথে রোগ-বালাই দূর করার ক্ষেকে বিভিন্ন টিকা এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করার বিষয়ে মানুষকে সঠিক তথ্য প্রদানের আহবান জানান ইমাম-মুয়াজ্জিন – খতীবদের কাছে ।

প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে ফাউন্ডেশনর
মহাপরিচালক ড. মহাঃ বশিরুল আলম বলেন, ‘ হাওর এলাকার জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইমামদের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধকরণ প্রকল্প ব্যপক ভূমিকা রাখছে। এক্সপার্টরা বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেন আর তা সামাজিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য ইমামরা ভূমিকা রাখতে পারেন তা বুঝতে পেরেই সরকার ইমাম-মুয়াজ্জিনদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। পাশাপাশি আর্থিকভাবে সহায়তা করা হচ্ছে।’
এসময় ডাঃ বশিরুল আলম উল্লেখ করেন, শুধু মাত্র আইন তৈরি করে সমস্যার সমাধান হয় না সেটি বাস্তবায়নের জন্য সামাজিক সচেতনা প্রয়োজন হয়। সন্ত্রাস- জঙ্গিবাদ ও সামাজিক অপরাধ দমনে ইমামরা ভূমিকা রাখবেন কারণ ইমামদের কথা সমাজের মানুষ শুনে।
উল্লেখ্য ; গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘ হাওর এলাকায় জনহণের জীবনমান উন্নয়ন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইমামদের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম ‘ শীর্ষক প্রকল্পটি হাওর অঞ্চলের ৭ টি জেলার ৫৭ টি উপজেলায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক বাস্তবায়িত হচ্ছে। হাওর এলাকার জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সম্পর্কে উদ্বুদ্ধকরণের জন্য যুগোপযোগী ও আধুনিক বিষয়ের উপর কুরআন-সুন্নাহর আলোকে খুতবা পূর্ব আলোচনা বা প্রাক খুতবা প্রণয়ন করার লক্ষ্যে কমিটি গঠন করা হয়েছে যার মাধ্যমে বছরের ৫২ সপ্তাহের জন্য ৫২ টি খুতবা পূর্ব আলোচনা বা প্রাক খুতবা প্রস্তুত করা হয়েছে। আর এটি বাস্তবায়নের জন্য খতীবদের প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে প্রশিক্ষণলদ্ধ জ্ঞান এবং প্রকল্প দপ্তর হতে সরবরাহকৃত প্রাক খুতবার আলোকে বক্তব্য প্রদানের জন্য খতীবগণকে উক্ত প্রকল্পের মাধ্যমে খুতবা প্রতি ১৫০ টাকা হারে ভাতা প্রদান করা হয়ে থাকে।

বাইট/দ্বিপাল/সজীব/সুনাম-২০২৩

টেগ :
জনপ্রিয় পোস্ট

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শান্তিগঞ্জে জন্মাষ্টমী উদযাপন

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে হাওর প্রকল্প বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় : ১০:৪৮:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সুনামগঞ্জে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে সংগঠনের ‘হাওর প্রকল্পের’ মাধ্যমে হাওর অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশের সুরক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও মানুষের জীবনমান উন্নয়ন সম্পর্কে উদ্বুব্দকরণ বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার ( ১৮ অক্টোবর) সকাল ১১ টায় সুনামগঞ্জ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারের শুরুতেই কোরান তিলাওয়াত করেন সুনামগঞ্জ মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের মুয়াজ্জিন হাফেজ মাওঃ মোঃ উসমান গণি পরে শুরু হয় সেমিনারেন কার্যক্রম।
সুনামগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) মোহাম্মদ রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে ও হাওর প্রকল্পের সহকারী পরিচালক মোঃ মশিউর রহমানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ( অতিরিক্ত সচিব) ড. মহাঃ বশিরুল আলম, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখানে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মোঃ মহিউদ্দিন, সুনামগঞ্জের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ সুকদেব সাহা, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ শামশুল করিম।
এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন সুনামগঞ্জের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন।
বক্তারা হাওরাঞ্চলের জেলা খ্যাত সুনামগঞ্জের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে এগুলো বাস্তবায়নের জন্য ইমামদের সহযোগিতার কথা ব্যক্ত করেন। সমাজ থেকে গুজব ও কুসংস্কার দূর করার জন্য এবং সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ইমামদের ভূমিকা রাখার আহবান জানান তারা। এসময় বক্তরা জেলার মৎস্য সম্পদ রক্ষার জন্য খাল-বিলের পানি শুকিয়ে মাছ না ধরার সচেতনা বৃদ্ধি করার কথা উল্লেখ করেন বার বার । একেই সাথে রোগ-বালাই দূর করার ক্ষেকে বিভিন্ন টিকা এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করার বিষয়ে মানুষকে সঠিক তথ্য প্রদানের আহবান জানান ইমাম-মুয়াজ্জিন – খতীবদের কাছে ।

প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে ফাউন্ডেশনর
মহাপরিচালক ড. মহাঃ বশিরুল আলম বলেন, ‘ হাওর এলাকার জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইমামদের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধকরণ প্রকল্প ব্যপক ভূমিকা রাখছে। এক্সপার্টরা বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেন আর তা সামাজিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য ইমামরা ভূমিকা রাখতে পারেন তা বুঝতে পেরেই সরকার ইমাম-মুয়াজ্জিনদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। পাশাপাশি আর্থিকভাবে সহায়তা করা হচ্ছে।’
এসময় ডাঃ বশিরুল আলম উল্লেখ করেন, শুধু মাত্র আইন তৈরি করে সমস্যার সমাধান হয় না সেটি বাস্তবায়নের জন্য সামাজিক সচেতনা প্রয়োজন হয়। সন্ত্রাস- জঙ্গিবাদ ও সামাজিক অপরাধ দমনে ইমামরা ভূমিকা রাখবেন কারণ ইমামদের কথা সমাজের মানুষ শুনে।
উল্লেখ্য ; গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘ হাওর এলাকায় জনহণের জীবনমান উন্নয়ন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইমামদের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম ‘ শীর্ষক প্রকল্পটি হাওর অঞ্চলের ৭ টি জেলার ৫৭ টি উপজেলায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক বাস্তবায়িত হচ্ছে। হাওর এলাকার জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সম্পর্কে উদ্বুদ্ধকরণের জন্য যুগোপযোগী ও আধুনিক বিষয়ের উপর কুরআন-সুন্নাহর আলোকে খুতবা পূর্ব আলোচনা বা প্রাক খুতবা প্রণয়ন করার লক্ষ্যে কমিটি গঠন করা হয়েছে যার মাধ্যমে বছরের ৫২ সপ্তাহের জন্য ৫২ টি খুতবা পূর্ব আলোচনা বা প্রাক খুতবা প্রস্তুত করা হয়েছে। আর এটি বাস্তবায়নের জন্য খতীবদের প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে প্রশিক্ষণলদ্ধ জ্ঞান এবং প্রকল্প দপ্তর হতে সরবরাহকৃত প্রাক খুতবার আলোকে বক্তব্য প্রদানের জন্য খতীবগণকে উক্ত প্রকল্পের মাধ্যমে খুতবা প্রতি ১৫০ টাকা হারে ভাতা প্রদান করা হয়ে থাকে।

বাইট/দ্বিপাল/সজীব/সুনাম-২০২৩