এ কুল ভাঙ্গে ও কূল গড়ে এইতো নদীর খেলা, সকাল বেলা বাদশারে ভাই ফকির সন্ধ্যা বেলা”। চিরায়ত এই গানের ভাষার মতোই সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাঁক ইউনিয়নের কামধরপুর গ্রামের শতাধিক বসত বাড়ি সুরমা নদীর কড়াল গ্রাসের ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে ১০/১৫ টি পরিবারের ঘর বাড়ি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এই গ্রামের সকল বাসিন্ধাই কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল। কৃষক পরিবারগুলো ভাঙ্গন কবলে পড়ে নির্ঘুম রাত কাটে তাদের।
কামধরপুর গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, নদী ভাঙনে এই গ্রামের লোকজনের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়াও গ্রামের জামে মসজিদ, গ্রামীণ বাজার, কৃষকদের বসতভিটা, পাকা- আধাপাকা ঘর সুরমা নদীর ভাঙ্গনে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। জামালগঞ্জের প্রাচীনতম এই গ্রামটি প্রায় বিলীন হতে যাচ্ছে। নদীর ভাঙ্গন রোধে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে; মসজিদ, বাজারসহ শতাধিক বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে পুরো গ্রামের মানচিত্র বিলিন হতে পারে। গ্রামের বাজারটিতে প্রায় ৭০ টি দোকানে ব্যবসায়ীরাও এই ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে। কামধরপুর গ্রাম ও বাজারে বিগত কয়েক বছর ধরে সুরমা নদীর ভাঙ্গন সৃষ্টি হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহন করেননি। এই গ্রাম ছাড়াও আলীপুর, রামপুর সহ উপজেলার আরো কিছু গ্রাম ও বাজার সুরমা নদীর ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে।
কামধরপুর গ্রামের আফজাল হোসেন বলেন, আমাদের গ্রামটি উপজেলার একটি প্রাচীনতম গ্রাম। কয়েক বছর আগেও আমরা নদীর পাড়ে খেলাধুলা করতাম। এখন খেলার মাঠসহ গ্রামের ভিটা বাড়ি ভেঙ্গে যাচ্ছে নদী ভাঙ্গনে। যে ভাবে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে আমাদের গ্রাম আর বেশি দিন থাকবেনা। এই যে দেখেন ; মসজিদের সীমানা দেয়াল ভেঙ্গে গেছে, শতাধিক পরিবারের ভিটামাটি সহ মসজিদটিও ভাঙ্গার পথে। কামধরপুর গ্রামের মো: শফিক মিয়া, দ্বীন ইসলাম, হুমায়ুন সহ আরো অনেকেই বলেন আমাদের কামধরপুর গ্রামের শতাধিক পরিবারের ঘর ও জামে মসজিদটি নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। সরকার যদি দ্রুত কোন পদক্ষেপ না নেয় তাহলে আমাদের গ্রাম ছাড়া হতে হবে।
ফেনারবাঁক ইউনিয়ন পরিষদের বিগত তিনটি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নিকটতম প্রতিদ্ধন্ধি ও আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা বিএনপি’র নেতা মো: জুলফিকার চৌধুরী রানা বলেন, কামধরপুর একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীনতম গ্রাম। গ্রামের সহজ সরল মানুষজন কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল। নদী ভাঙ্গনে প্রায় শতাধিক বসতবাড়ি উচ্ছেদ হওয়ার পথে। অনেক পরিবারের বাপ-দাদার ঐতিহ্য স্মৃতি বিজড়িত বসতভিটা হারিয়েছেন। এখন দিন দিন নদী ভাঙ্গন বাড়ছে। গ্রামের মসজিদসহ শতাধিক বসতভিটা খুব ঝুঁকিতে আছে। তিনি এই গ্রাম, মসজিদ ও বাজার রক্ষায় সরকারের কাছে জোর দাবী করছেন। তিনি আরো বলেন, কামধরপুর সহ রামপুর, জামলাবাজ, গজারিয়া, আলীপুর, আমানিপুর, নিধিপুর, বিষ্ণুপুর গ্রামগুলোতেও ভাঙ্গন আছে। সে গুলো রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপে জোর দাবি জানান।
সুনামগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার কে মুঠো ফোনে কল দিয়ে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জামালগঞ্জের কামধরপুর গ্রাম ও উপজেলার সুরমা নদীর তীরবর্তী ভাঙ্গন কবলিত কয়েকটি গ্রামের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এমপি মহোদয় ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করে ভাঙ্গন রোধে প্রকল্প তৈরি করে কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবো। অনুমোদন হলে প্রযোজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জামালগঞ্জ প্রতিনিধি: তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ 














