০৪:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জে ধারাবাহিকভাবে কমছে এসএসসির পাশের হার ও জিপিএ-৫ উদ্বেগজনক চিত্রে হাওরাঞ্চলের শিক্ষা

সংগৃহীত ছবি

টানা চার বছর ধরে সুনামগঞ্জ জেলায় মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় পাশের হার এবং জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। সিলেট বোর্ডের অধীন চার জেলার মধ্যে এবার ফলাফলে সবচেয়ে পিছিয়ে পড়েছে হাওরবেষ্টিত এই জেলাটি।
চলতি বছরের প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ জেলার ১৮ হাজার ২৯২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ১০ হাজার জন। পাশের হার ৫৪.৬৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৪১০ জন শিক্ষার্থী।
বিগত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সুনামগঞ্জের ফলাফলে ধারাবাহিক অবনমন ঘটেছে:৫ বছরে ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়  ২০২২ সালে ৭৯.৯৫% | জিপিএ – ৫  ৬৬৮ জন।  ২০২৩  সাল পাশের হার ৭৫.৪৯%  জিপিএ ৫-  ৬৫৬ জন |২০২৪  সাল পাশের হার ৭৪.৪১%  জিপিএ ৫- ৬৪৫ জন | ২০২৫  সালে পাশের হার ৬৮.৪৬%  জিপিএ ৫-  ৪১৭ জন |চলতি বছর  অর্থাৎ ২০২৬ সালে পাশের  ৫৪.৬৭%  জিপিএ-  ৫ পেয়েছে  ৪১০ জন |উপজেলাভিত্তিক ফলাফলের ব্যবধান ও সার্বিক অবস্থা: জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে ফলাফল ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে চরম বৈষম্য পরিলক্ষিত হয়েছে। ৩টি উপজেলায় অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী ফেল করেছে।
১. শীর্ষ ও তলানির উপজেলা সেরা উপজেলা: সুনামগঞ্জ সদর (পাশের হার ৬৫.৭৮%)। এখান থেকে ১৬৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে, যা পুরো জেলার মোট জিপিএ-৫ প্রাপ্তির এক-তৃতীয়াংশের বেশি। সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা উপজেলা: তাহিরপুর (পাশের হার মাত্র ৪১.১৮%)।
২. ১২টি উপজেলার একনজরে ফলাফল  সুনামগঞ্জ সদর: পাশের হার ৬৫.৭৮% | জিপিএ-৫: ১৬৩ জন। জামালগঞ্জ: পাশের হার ৬৩.৪৭% | জিপিএ-৫: ২৮ জন। শান্তিগঞ্জ: পাশের হার ৬৩.৪৬% | জিপিএ-৫: ১০ জন।মধ্যনগর: পাশের হার ৬১.১৬% | জিপিএ-৫: ২৮ জন।শাল্লা: পাশের হার ৫৫.৯৮% | জিপিএ-৫: ১১ জন। বিশ্বম্ভরপুর: পাশের হার ৫৪.৪১% | জিপিএ-৫: ২৩ জন।জগন্নাথপুর: পাশের হার ৫৩.৬৮% | জিপিএ-৫: ২৩ জন ধর্মপাশা: পাশের হার ৫২.২৫% | জিপিএ-৫: ২৯ জন।ছাতক: পাশের হার ৫২.০৬% | জিপিএ-৫: ৩৬ জন। দিরাই: পাশের হার ৪৯.৬২% | জিপিএ-৫: ৩৯ জন।দোয়ারাবাজার: পাশের হার ৪৭.৮৬% | জিপিএ-৫: ৯ জন।  তাহিরপুর: পাশের হার ৪১.১৮% | জিপিএ-৫: ১১ জন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অর্জন ও বিপর্যয় জেলা জুড়ে শতভাগ পাশের অভাবনীয় সাফল্য থেকে শুরু করে দুই অঙ্কের নিচে নামা চরম বিপর্যয়ের চিত্রও দেখা গেছে।
সেরা পারফর্মার প্রতিষ্ঠানসমূহ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়: একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সর্বোচ্চ ৬২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে (পাশের হার ৮৪.৩২%)। সরকারি সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়: জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৯ জন (পাশের হার ৭৮.৭১%)। সুনামগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়: জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৭ জন (পাশের হার ৭৮.৪৮%)। ব্রিজ একাডেমি (ছাতক): ১৪ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাশ করে ১০০% পাশের সাফল্য অর্জন করেছে (জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন)। চরম বিপর্যয়মুখী প্রতিষ্ঠানসমূহ  কালাই মিয়া চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় (শাল্লা): ১৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে মাত্র ১ জন (পাশের হার ৭.৬৯%)।
আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (তাহিরপুর): ৪৫ জনের মধ্যে পাশ করেছে ৫ জন (পাশের হার ১১.১১%)।হায়দরপুর উচ্চ বিদ্যালয় (ছাতক): ৪০ জনের মধ্যে পাশ করেছে ৬ জন (পাশের হার ১৫.০০%)।আলহাজ্ব জমিরুন নুর উচ্চ বিদ্যালয়: ৯৭ জনের মধ্যে পাশ করেছে ২৫ জন (পাশের হার ২৫.৭৭%)।
হাওরাঞ্চলের দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিষয়াভিত্তিক শিক্ষকের ঘাটতি এবং সচেতনতার অভাবের কারণে প্রান্তিক উপজেলাগুলোতে (যেমন: তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার, শাল্লা) জিপিএ-৫ ও পাশের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, জেলার শিক্ষার মান ফেরাতে এখন থেকেই নিবিড় তদারকি ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। উল্লেখ্য গত ১০ আগস্ট সোমবার সারাদেশে একযোগে এসএসিসি সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে
জনপ্রিয় পোস্ট

পারিবারিক বিরোধে সমঝোতার আহ্বান, এমপি নাছির উদ্দিনকে শিশির মনিরের খোলা চিঠি

সুনামগঞ্জে ধারাবাহিকভাবে কমছে এসএসসির পাশের হার ও জিপিএ-৫ উদ্বেগজনক চিত্রে হাওরাঞ্চলের শিক্ষা

আপডেট সময় : ০৬:৫৫:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
টানা চার বছর ধরে সুনামগঞ্জ জেলায় মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় পাশের হার এবং জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। সিলেট বোর্ডের অধীন চার জেলার মধ্যে এবার ফলাফলে সবচেয়ে পিছিয়ে পড়েছে হাওরবেষ্টিত এই জেলাটি।
চলতি বছরের প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ জেলার ১৮ হাজার ২৯২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ১০ হাজার জন। পাশের হার ৫৪.৬৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৪১০ জন শিক্ষার্থী।
বিগত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সুনামগঞ্জের ফলাফলে ধারাবাহিক অবনমন ঘটেছে:৫ বছরে ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়  ২০২২ সালে ৭৯.৯৫% | জিপিএ – ৫  ৬৬৮ জন।  ২০২৩  সাল পাশের হার ৭৫.৪৯%  জিপিএ ৫-  ৬৫৬ জন |২০২৪  সাল পাশের হার ৭৪.৪১%  জিপিএ ৫- ৬৪৫ জন | ২০২৫  সালে পাশের হার ৬৮.৪৬%  জিপিএ ৫-  ৪১৭ জন |চলতি বছর  অর্থাৎ ২০২৬ সালে পাশের  ৫৪.৬৭%  জিপিএ-  ৫ পেয়েছে  ৪১০ জন |উপজেলাভিত্তিক ফলাফলের ব্যবধান ও সার্বিক অবস্থা: জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে ফলাফল ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে চরম বৈষম্য পরিলক্ষিত হয়েছে। ৩টি উপজেলায় অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী ফেল করেছে।
১. শীর্ষ ও তলানির উপজেলা সেরা উপজেলা: সুনামগঞ্জ সদর (পাশের হার ৬৫.৭৮%)। এখান থেকে ১৬৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে, যা পুরো জেলার মোট জিপিএ-৫ প্রাপ্তির এক-তৃতীয়াংশের বেশি। সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা উপজেলা: তাহিরপুর (পাশের হার মাত্র ৪১.১৮%)।
২. ১২টি উপজেলার একনজরে ফলাফল  সুনামগঞ্জ সদর: পাশের হার ৬৫.৭৮% | জিপিএ-৫: ১৬৩ জন। জামালগঞ্জ: পাশের হার ৬৩.৪৭% | জিপিএ-৫: ২৮ জন। শান্তিগঞ্জ: পাশের হার ৬৩.৪৬% | জিপিএ-৫: ১০ জন।মধ্যনগর: পাশের হার ৬১.১৬% | জিপিএ-৫: ২৮ জন।শাল্লা: পাশের হার ৫৫.৯৮% | জিপিএ-৫: ১১ জন। বিশ্বম্ভরপুর: পাশের হার ৫৪.৪১% | জিপিএ-৫: ২৩ জন।জগন্নাথপুর: পাশের হার ৫৩.৬৮% | জিপিএ-৫: ২৩ জন ধর্মপাশা: পাশের হার ৫২.২৫% | জিপিএ-৫: ২৯ জন।ছাতক: পাশের হার ৫২.০৬% | জিপিএ-৫: ৩৬ জন। দিরাই: পাশের হার ৪৯.৬২% | জিপিএ-৫: ৩৯ জন।দোয়ারাবাজার: পাশের হার ৪৭.৮৬% | জিপিএ-৫: ৯ জন।  তাহিরপুর: পাশের হার ৪১.১৮% | জিপিএ-৫: ১১ জন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অর্জন ও বিপর্যয় জেলা জুড়ে শতভাগ পাশের অভাবনীয় সাফল্য থেকে শুরু করে দুই অঙ্কের নিচে নামা চরম বিপর্যয়ের চিত্রও দেখা গেছে।
সেরা পারফর্মার প্রতিষ্ঠানসমূহ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়: একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সর্বোচ্চ ৬২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে (পাশের হার ৮৪.৩২%)। সরকারি সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়: জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৯ জন (পাশের হার ৭৮.৭১%)। সুনামগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়: জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৭ জন (পাশের হার ৭৮.৪৮%)। ব্রিজ একাডেমি (ছাতক): ১৪ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাশ করে ১০০% পাশের সাফল্য অর্জন করেছে (জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন)। চরম বিপর্যয়মুখী প্রতিষ্ঠানসমূহ  কালাই মিয়া চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় (শাল্লা): ১৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে মাত্র ১ জন (পাশের হার ৭.৬৯%)।
আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (তাহিরপুর): ৪৫ জনের মধ্যে পাশ করেছে ৫ জন (পাশের হার ১১.১১%)।হায়দরপুর উচ্চ বিদ্যালয় (ছাতক): ৪০ জনের মধ্যে পাশ করেছে ৬ জন (পাশের হার ১৫.০০%)।আলহাজ্ব জমিরুন নুর উচ্চ বিদ্যালয়: ৯৭ জনের মধ্যে পাশ করেছে ২৫ জন (পাশের হার ২৫.৭৭%)।
হাওরাঞ্চলের দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিষয়াভিত্তিক শিক্ষকের ঘাটতি এবং সচেতনতার অভাবের কারণে প্রান্তিক উপজেলাগুলোতে (যেমন: তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার, শাল্লা) জিপিএ-৫ ও পাশের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, জেলার শিক্ষার মান ফেরাতে এখন থেকেই নিবিড় তদারকি ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। উল্লেখ্য গত ১০ আগস্ট সোমবার সারাদেশে একযোগে এসএসিসি সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে