স্টাফ রিপোর্টার | সুনামগঞ্জ | ২১ মে ২০২৫
সুনামগঞ্জ সীমান্তে ঈদকে সামনে রেখে ভারতীয় গরুর চোরাচালান উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলার তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন রাতের আঁধারে প্রবেশ করছে বিপুলসংখ্যক ভারতীয় গরু। এতে সরকার হারাচ্ছে শুল্ক ও রাজস্ব, আর লাভবান হচ্ছে সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্র।
সম্প্রতি বিজিবির সুনামগঞ্জ ২৮ ব্যাটালিয়নের অভিযানে এক সপ্তাহে প্রায় সাত লাখ টাকার ভারতীয় গরু আটক করা হয়েছে। বিজিবির দাবি, সীমান্তে ১২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তাদের নিয়মিত টহল ও নজরদারি চলছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সীমান্তের ৮৮ কিলোমিটার এলাকাতেই কাঁটাতারের বেড়া থাকলেও তাতে পুরোপুরি চোরাচালান বন্ধ হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, ডলুরা, বাগানবাড়ি, চিনাকান্দি, বাশতলা ও নরসিংপুর সীমান্ত এলাকায় রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গরু পারাপারের কাজ শুরু হয়। নদীপথ ও দুর্গম পাহাড়ি পথ ব্যবহার করে গরুগুলো আনা হয় সীমান্তের এপারে। এই কাজে সক্রিয় একাধিক চোরাকারবারি সিন্ডিকেট। তাদের পেছনে রয়েছে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কিছু অসাধু প্রশাসনিক সদস্য।
বাশতলা গ্রামের বাসিন্দা ফজলুল হক বলেন, “ঈদ এলেই গরুর চোরাচালান বাড়ে। তবে শুধু ঈদ নয়, বছরজুড়েই সীমান্ত দিয়ে গরু আসছে। অনেকে এই ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত, কারণ এটা লাভজনক। প্রশাসনের কিছু সদস্য টাকা নিলে গরু নির্বিঘ্নে চলে যায়, আর না নিলে আটক হয়।”
তাহিরপুরের সালাম নামের এক বাসিন্দা জানান, সীমান্তের ভেতরে-পথে ও নদীপথে গরু চোরাচালান এখন নিয়মিত চিত্র। অনেক সময় চোরাচালানিদের পক্ষ নিয়ে স্থানীয়ভাবে কেউ প্রতিবাদ করলেই হুমকি-ধামকির শিকার হতে হয়।
সুনামগঞ্জের নবাগত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহাম্মেদ বলেন, “চোরাচালান বন্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। ঈদ সামনে রেখে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। কোনো পুলিশ সদস্য যদি এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও জনবল ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তারা বলছেন, শুধুমাত্র বিজিবি বা পুলিশের অভিযান নয়, চোরাচালানের উৎস নির্মূল করতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা দরকার।
স্টাফ রিপোর্টার 

















