০৪:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) রাণাঘাটের এমপি জগন্নাথ সরকারের মন্তব্যে উত্তাল রাজনীতি, তৃণমূল কংগ্রেস তীব্র সমালোচনায়

জগন্নাথ সরকার বলেন — “জিতলে বাংলাদেশের সঙ্গে কাঁটাতার থাকবে না”

পশ্চিমবঙ্গের রাণাঘাট কেন্দ্র থেকে বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার একটি জনসভায় বলেছেন যে, আগামী বার বাংলা বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি জিতলে ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের দেওয়া বন্ধ করা হবে। তিনি বলেন, “আমরা আপনাদের প্রতি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি — যদি আমরা এইবার জিতে যাই, তাহলে বাংলাদেশের সঙ্গে থাকা কাঁটাতার আমাদের হাতে থাকবে না। আমরা এক ছিলাম, ভবিষ্যতেও এক হবো।”

তৃণমূল কংগ্রেস এই মন্তব্যকে একে “দ্বৈতচরিত্র” ও “জাতীয়তাবাদবিরোধী” রূপে অভিহিত করেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রসঙ্গে লিখেছেন — “বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকার সীমান্ত সংরক্ষণের দায়ভার নিয়েছে, কিন্তু তাদেরই এমপি বলছেন সীমান্ত থাকবে না! এটা নয় জাতীয়তাবাদ — এটা প্রতারণা।”

জগন্নাথ সরকার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই বক্তব্য মূলত মাটুয়া সম্প্রদায়ের প্রতি রাজনৈতিক মনোবল বাড়ানোর উদ্দেশ্যে দেওয়া ছিল — কারণ এই সম্প্রদায় বাংলাদেশের পল্লিবাসী শরণার্থী ও তাদের উত্তরসূরিদের বড় ভোটবহুল অংশ।

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের ভূখণ্ডে বাংলাদেশ সীমান্ত প্রায় ২,২১৬ কিমি, যার মধ্যে ইতিমধ্যে প্রায় ১,৬৪৭ কিমি অংশে সীমান্ত প্রাচীর (ফেন্সিং) বা কাঁটাতার দেওয়া হয়েছে।

  • এই মন্তব্য রাজনীতির দিক থেকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর: সীমান্ত নিরাপত্তা, দেশীয় অভিবাসন, প্রত্যাবাসন ও ভোট-ভিত্তিক গণনা—সবকিছুর সঙ্গে সম্পর্কিত।

  • একজন কেন্দ্রীয় সরকারের অংশীদার হিসেবে এবং নিরাপত্তা-নিউনতম সীমান্তের দায়িত্বে থাকা সরকারের দলীয় নেতা এই ধরনের মন্তব্য করলে সেই দলের নীতিগত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

  • তৃণমূল কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিক্রিয়া দ্রুত দিয়েছে — বিজেপিকে সাংস্কৃতিক-রাষ্ট্রীয় সংহতির দিক থেকে দায়বদ্ধ মনে করেছে।

  • ভবিষ্যতে এই প্রসঙ্গ বিরোধীদলীয় বার্তা হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে, এবং ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এটি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে।

রাণাঘাটের বিজেপি এমপি জগন্নাথ সরকারের এই মন্তব্য সীমান্ত ও জনবিভাগের সংবেদনশীল বিষয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। তাঁর বক্তব্য বাংলাদেশের সঙ্গে কাঁটাতার অপসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা তৃণমূলসহ বিরোধীদের তীব্র সমালোচনায় পড়ে। এই প্রসঙ্গ আগামী দিনে জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতিতে বড় ইঙ্গিত হয়ে থাকতে পারে।

 

জনপ্রিয় পোস্ট

দোয়ারাবাজারে ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা প্রদান

ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) রাণাঘাটের এমপি জগন্নাথ সরকারের মন্তব্যে উত্তাল রাজনীতি, তৃণমূল কংগ্রেস তীব্র সমালোচনায়

জগন্নাথ সরকার বলেন — “জিতলে বাংলাদেশের সঙ্গে কাঁটাতার থাকবে না”

আপডেট সময় : ১২:৫৮:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫

পশ্চিমবঙ্গের রাণাঘাট কেন্দ্র থেকে বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার একটি জনসভায় বলেছেন যে, আগামী বার বাংলা বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি জিতলে ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের দেওয়া বন্ধ করা হবে। তিনি বলেন, “আমরা আপনাদের প্রতি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি — যদি আমরা এইবার জিতে যাই, তাহলে বাংলাদেশের সঙ্গে থাকা কাঁটাতার আমাদের হাতে থাকবে না। আমরা এক ছিলাম, ভবিষ্যতেও এক হবো।”

তৃণমূল কংগ্রেস এই মন্তব্যকে একে “দ্বৈতচরিত্র” ও “জাতীয়তাবাদবিরোধী” রূপে অভিহিত করেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রসঙ্গে লিখেছেন — “বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকার সীমান্ত সংরক্ষণের দায়ভার নিয়েছে, কিন্তু তাদেরই এমপি বলছেন সীমান্ত থাকবে না! এটা নয় জাতীয়তাবাদ — এটা প্রতারণা।”

জগন্নাথ সরকার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই বক্তব্য মূলত মাটুয়া সম্প্রদায়ের প্রতি রাজনৈতিক মনোবল বাড়ানোর উদ্দেশ্যে দেওয়া ছিল — কারণ এই সম্প্রদায় বাংলাদেশের পল্লিবাসী শরণার্থী ও তাদের উত্তরসূরিদের বড় ভোটবহুল অংশ।

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের ভূখণ্ডে বাংলাদেশ সীমান্ত প্রায় ২,২১৬ কিমি, যার মধ্যে ইতিমধ্যে প্রায় ১,৬৪৭ কিমি অংশে সীমান্ত প্রাচীর (ফেন্সিং) বা কাঁটাতার দেওয়া হয়েছে।

  • এই মন্তব্য রাজনীতির দিক থেকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর: সীমান্ত নিরাপত্তা, দেশীয় অভিবাসন, প্রত্যাবাসন ও ভোট-ভিত্তিক গণনা—সবকিছুর সঙ্গে সম্পর্কিত।

  • একজন কেন্দ্রীয় সরকারের অংশীদার হিসেবে এবং নিরাপত্তা-নিউনতম সীমান্তের দায়িত্বে থাকা সরকারের দলীয় নেতা এই ধরনের মন্তব্য করলে সেই দলের নীতিগত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

  • তৃণমূল কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিক্রিয়া দ্রুত দিয়েছে — বিজেপিকে সাংস্কৃতিক-রাষ্ট্রীয় সংহতির দিক থেকে দায়বদ্ধ মনে করেছে।

  • ভবিষ্যতে এই প্রসঙ্গ বিরোধীদলীয় বার্তা হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে, এবং ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এটি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে।

রাণাঘাটের বিজেপি এমপি জগন্নাথ সরকারের এই মন্তব্য সীমান্ত ও জনবিভাগের সংবেদনশীল বিষয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। তাঁর বক্তব্য বাংলাদেশের সঙ্গে কাঁটাতার অপসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা তৃণমূলসহ বিরোধীদের তীব্র সমালোচনায় পড়ে। এই প্রসঙ্গ আগামী দিনে জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতিতে বড় ইঙ্গিত হয়ে থাকতে পারে।