নগর বা পৌরসভার সড়ক ও ফুটপাত তৈরি করা হয় সাধারণ পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলেও সত্য, আমাদের শহরের ফুটপাতগুলো এখন আর পথচারীদের নিয়ন্ত্রণে নেই। প্রধান প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলির ভেতরের ফুটপাত—সবই এখন ফল ব্যবসায়ীদের দখলে।
ডালিম, আম, আপেল আর মাল্টার প্লাস্টিকের ক্যারেট এবং ফলের ঝুড়ি সাজিয়ে রাখা হয়েছে ফুটপাতজুড়ে। ফলে মূল রাস্তা দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে হাঁটতে গিয়ে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে বৃদ্ধ, নারী ও স্কুলগামী কোমলমতি শিশুরা। ফুটপাত দখল কেবল চলাচলের প্রতিবন্ধকতাই তৈরি করছে না, বরং পুরো শহরের যানজট ও বিশৃঙ্খলা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ফল কেনার জন্য ক্রেতারা যখন রাস্তার ওপর যানবাহন বা মোটরসাইকেল দাঁড় করান, তখন পুরো সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। আবার ফলের পচা অংশ ও উচ্ছিষ্ট পলিথিন ও ক্যারেট ফুটপাতে ফেলায় একদিকে যেমন পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রবে পথচারীদের টেকা দায় হয়ে পড়েছে।
প্রশ্ন হলো, আইনের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে দিনের পর দিন ফুটপাত এভাবে দখল হয়ে থাকে? স্থানীয় প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ কি এই ভোগান্তি দেখতে পায় না? মাঝে মাঝে লোকদেখানো ‘উচ্ছেদ অভিযান’ চালানো হলেও তা যেন কেবল সাময়িক নাটক মাত্র। অভিযান শেষ হতে না হতেই পরিস্থিতি আবার পূর্বের রূপ নেয়।
কোনো স্থায়ী সমাধান বা নজরদারি না থাকায় এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী ফুটপাতকে নিজেদের স্থায়ী দোকানঘর মনে করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।ব্যবসা করা বা জীবিকা নির্বাহের অধিকার প্রত্যেকেরই আছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ রুদ্ধ করে নয়। পৌর কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব কেবল কর আদায় করা বা শহরের আলো-বাতাসের হিসাব রাখা নয়; পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা দেওয়াও তাদের মৌলিক দায়িত্ব।আমরা আশা করি, পৌর কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন অবিলম্বে এই উদাসীনতা পরিহার করবে।
শুধু সাময়িক উচ্ছেদ অভিযান নয়, বরং ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে কঠোর ও নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। শহরের ফুটপাতগুলো দ্রুত পুনরুদ্ধার করে পথচারীদের জন্য নিরাপদ ও চলাচলের উপযোগী করা এখন সময়ের দাবি।
সম্পাদকীয় 


















