০৪:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধর্মপাশা জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪ পদে নিয়োগ, জানেন না অনেক চাকরিপ্রার্থী

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ধর্মপাশা জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে চারটি পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত প্রচারণা না করার অভিযোগ উঠেছে। এতে অনেক শিক্ষিত ও বেকার চাকরিপ্রার্থী নিয়োগের বিষয়টি জানতে পারেননি বলে দাবি করেছেন।

বিদ্যালয়টি ১৯৩১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে বর্তমানে উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহায়ক, আয়া ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকট দেখা দেওয়ায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তে এসব পদে জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

গত ৩১ জুলাই জাতীয় দৈনিক ভোরের ডাক ও সিলেটের স্থানীয় দৈনিক উত্তর-পূর্ব পত্রিকায় চারটি পদে একজন করে মোট চারজন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ১৬ আগস্ট বিকেল ৪টার মধ্যে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ে আবেদন জমা দেওয়ার কথা বলা হয়। কম্পিউটার অপারেটর পদের জন্য ৫০০ টাকা এবং অন্যান্য পদের জন্য ৩০০ টাকা পোস্টাল অর্ডার সংযুক্ত করার কথাও উল্লেখ করা হয়।

তবে স্থানীয় চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বাইরে নিয়োগের বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রচারণা করা হয়নি। বিদ্যালয়ের নোটিশ বোর্ড ও ফেসবুক পেজে নিয়োগের বিষয়টি প্রকাশ করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রচারের উদ্যোগ থাকলে আরও বেশি যোগ্য প্রার্থী আবেদন করার সুযোগ পেতেন বলে তারা মনে করছেন।

চাকরিপ্রার্থী রিপন মিয়া বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য চেষ্টা করছি। কিন্তু ধর্মপাশা জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বিষয়টি সময়মতো জানতে পারিনি। স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রচারণা হলে হয়তো আমিও আবেদন করার সুযোগ পেতাম। চাকরির বাজারে যেখানে প্রতিটি সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে তথ্যের অভাবে আবেদন করতে না পারাটা খুবই হতাশাজনক।

অনার্সপড়ুয়া শিক্ষার্থী লামিয়া আক্তার বলেন, আমি নিয়মিত চাকরির বিজ্ঞপ্তি খোঁজ করি। কিন্তু এই নিয়োগের বিষয়ে আগে জানতে পারিনি। পরে অন্যদের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরেছি। শুধু পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে প্রচারণা করা হলে এলাকার আরও অনেক শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণী আবেদন করার সুযোগ পেতেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চাকরিপ্রার্থী বলেন, এই নিয়োগের ব্যাপারে তো কিছুই জানতে পারিনি। আমি স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য চেষ্টা করছি। বিষয়টি আগে জানতে পারলে আমিও আবেদন করতাম।

শিক্ষা উদ্যোক্তা ও মাস্টারবাড়ি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ গোলাম জিলানী বলেন, স্কুলের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে—এটা আমি কোথাও পাইনি। আমার প্রতিষ্ঠানে চাকরিপ্রার্থীরা বিভিন্ন নিয়োগের জন্য প্রস্তুতি নেন, তারাও এ বিষয়ে জানেন না।

তবে অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক খান বলেন, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি গত ৩১ জুলাই দুটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির প্রচারণা করা হয়েছে।

আবেদনকারীর সংখ্যা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রত্যেক পদে চারজনের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। কোনো কোনো পদে ছয়-সাতজনও আবেদন করেছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার জাহাঙ্গীর হোসেন মোহাম্মদ ফারুক বলেন, নিয়োগের প্রচারণা ঠিকমতো হয়নি বিষয়টি আমি আপনার কাছ থেকেই প্রথম জানতে পারলাম। প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে আপনাকে জানাব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায় বলেন, স্কুলের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম হলে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

টেগ :
জনপ্রিয় পোস্ট

দিরাইয়ে পাওনা টাকা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ আহত ৭

ধর্মপাশা জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪ পদে নিয়োগ, জানেন না অনেক চাকরিপ্রার্থী

আপডেট সময় : ০৯:২০:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ধর্মপাশা জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে চারটি পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত প্রচারণা না করার অভিযোগ উঠেছে। এতে অনেক শিক্ষিত ও বেকার চাকরিপ্রার্থী নিয়োগের বিষয়টি জানতে পারেননি বলে দাবি করেছেন।

বিদ্যালয়টি ১৯৩১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে বর্তমানে উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহায়ক, আয়া ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকট দেখা দেওয়ায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তে এসব পদে জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

গত ৩১ জুলাই জাতীয় দৈনিক ভোরের ডাক ও সিলেটের স্থানীয় দৈনিক উত্তর-পূর্ব পত্রিকায় চারটি পদে একজন করে মোট চারজন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ১৬ আগস্ট বিকেল ৪টার মধ্যে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ে আবেদন জমা দেওয়ার কথা বলা হয়। কম্পিউটার অপারেটর পদের জন্য ৫০০ টাকা এবং অন্যান্য পদের জন্য ৩০০ টাকা পোস্টাল অর্ডার সংযুক্ত করার কথাও উল্লেখ করা হয়।

তবে স্থানীয় চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বাইরে নিয়োগের বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রচারণা করা হয়নি। বিদ্যালয়ের নোটিশ বোর্ড ও ফেসবুক পেজে নিয়োগের বিষয়টি প্রকাশ করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রচারের উদ্যোগ থাকলে আরও বেশি যোগ্য প্রার্থী আবেদন করার সুযোগ পেতেন বলে তারা মনে করছেন।

চাকরিপ্রার্থী রিপন মিয়া বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য চেষ্টা করছি। কিন্তু ধর্মপাশা জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বিষয়টি সময়মতো জানতে পারিনি। স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রচারণা হলে হয়তো আমিও আবেদন করার সুযোগ পেতাম। চাকরির বাজারে যেখানে প্রতিটি সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে তথ্যের অভাবে আবেদন করতে না পারাটা খুবই হতাশাজনক।

অনার্সপড়ুয়া শিক্ষার্থী লামিয়া আক্তার বলেন, আমি নিয়মিত চাকরির বিজ্ঞপ্তি খোঁজ করি। কিন্তু এই নিয়োগের বিষয়ে আগে জানতে পারিনি। পরে অন্যদের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরেছি। শুধু পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে প্রচারণা করা হলে এলাকার আরও অনেক শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণী আবেদন করার সুযোগ পেতেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চাকরিপ্রার্থী বলেন, এই নিয়োগের ব্যাপারে তো কিছুই জানতে পারিনি। আমি স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য চেষ্টা করছি। বিষয়টি আগে জানতে পারলে আমিও আবেদন করতাম।

শিক্ষা উদ্যোক্তা ও মাস্টারবাড়ি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ গোলাম জিলানী বলেন, স্কুলের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে—এটা আমি কোথাও পাইনি। আমার প্রতিষ্ঠানে চাকরিপ্রার্থীরা বিভিন্ন নিয়োগের জন্য প্রস্তুতি নেন, তারাও এ বিষয়ে জানেন না।

তবে অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক খান বলেন, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি গত ৩১ জুলাই দুটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির প্রচারণা করা হয়েছে।

আবেদনকারীর সংখ্যা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রত্যেক পদে চারজনের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। কোনো কোনো পদে ছয়-সাতজনও আবেদন করেছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার জাহাঙ্গীর হোসেন মোহাম্মদ ফারুক বলেন, নিয়োগের প্রচারণা ঠিকমতো হয়নি বিষয়টি আমি আপনার কাছ থেকেই প্রথম জানতে পারলাম। প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে আপনাকে জানাব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায় বলেন, স্কুলের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম হলে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।