০৮:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাওরাঞ্চলের চিকিৎসা পাওয়ার প্রধান আশাস্থল সদর হাসপাতালে চরম সংকট: বারান্দা-মেঝেতে রোগীদের ঠাঁই, সেবা পেতে ভোগান্তি

দেশের সীমান্তবর্তী জেলা সুনামগঞ্জের ২৯ লাখ মানুষের চিকিৎসার প্রধান আশ্রয়স্থল ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতাল। হাওর ও দুর্গম এলাকা থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ উন্নত চিকিৎসার আশায় এই হাসপাতালে আসেন। তবে বর্তমানে চরম চিকিৎসক ও জনবল সংকটে থমকে দাঁড়িয়েছে এর স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসকের ৭৪টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ২৩ জন। নার্সের ২৬৩টি পদের মধ্যে কর্মরত ১৯৩ জন এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ অন্যান্য ১৩৬টি পদের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ৮৮ জন। ফলে সিনিয়র ও জুনিয়র কনসালট্যান্টের শূন্যতা নিয়ে সীমিত জনবল দিয়েই হাসপাতালটি চালনা করা হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসক: মোট পদ ৭৪টির মধ্যে শূন্য রয়েছে ৫১টি (কর্মরত আছেন ২৩ জন)।নার্স: মোট পদ ২৬৩টির মধ্যে শূন্য রয়েছে ৭০টি (কর্মরত আছেন ১৯৩ জন)।মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও অন্যান্য: মোট পদ ১৩৬টির মধ্যে শূন্য রয়েছে ৪৮টি (কর্মরত আছেন ৮৮ জন)। হাসপাতালটিতে মোট ৪৭৩টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে ১৬৯টি পদই শূন্য রয়েছে।

এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পাঁচজন চিকিৎসককে পার্শ্ববর্তী সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজে বদলি করা হয়েছে—যেখানে এখনো হাসপাতালই চালু হয়নি।

ফলে সদর হাসপাতালের ওপর বাড়তি চাপের মধ্যে চিকিৎসক সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। ধারণক্ষমতার অন্তত তিন গুণ রোগীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

প্রতিদিন গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ জন রোগী সেবা নিতে আসছেন। সম্প্রতি শিশু ও হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় শয্যা সংকট আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। বেড না পেয়ে রোগীদের হাসপাতালের মেঝে, বারান্দা ও করিডোরে অবস্থান করতে হচ্ছে।

শৌচাগার ও পর্যাপ্ত সুবিধার অভাবে বারান্দায় থাকা রোগীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। জনবল ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে সদ্য চালু হওয়া আইসিইউ সুবিধাও পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।বিশ্বম্ভরপুর থেকে আসা শিশু রোগীর অভিভাবক বুরহান উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, “মেঝেতে থেকে বাচ্চার চিকিৎসা করাতে হচ্ছে, তার ওপর সময়মতো ডাক্তার পাওয়া যায় না।

অন্য এক রোগীর স্বজন রোকেয়া বেগম জানান, বেডের অভাবে বারান্দায় থাকতে হচ্ছে এবং সেবা না পেয়ে রোগী সামলাতেই নিজেরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।পৌর শহরের বাসিন্দা সেলিম আহমেদ বলেন, “হাওরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা বাড়লেও হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা বাড়েনি। সরকারের উচিত দ্রুত এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা।

সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আহম্মদ হোসেন জানান, সীমিত জনবল সত্ত্বেও প্রতিদিন আসা ৭০০ থেকে ৮০০ জন রোগীর সাধ্যমতো সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে জনবল সংকট নিরসনে ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে নতুন নিয়োগ ও শূন্য পদ পূরণের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। স্বাস্থ্য সচেতন নাগরিকদের দাবি, দ্রুত সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় টেকনোলজিস্ট নিয়োগ দিয়ে হাওরাঞ্চলের মানুষের মৌলিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা জরুরি।

টেগ :
জনপ্রিয় পোস্ট

হাওরাঞ্চলের চিকিৎসা পাওয়ার প্রধান আশাস্থল সদর হাসপাতালে চরম সংকট: বারান্দা-মেঝেতে রোগীদের ঠাঁই, সেবা পেতে ভোগান্তি

হাওরাঞ্চলের চিকিৎসা পাওয়ার প্রধান আশাস্থল সদর হাসপাতালে চরম সংকট: বারান্দা-মেঝেতে রোগীদের ঠাঁই, সেবা পেতে ভোগান্তি

আপডেট সময় : ০৬:৫৪:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের সীমান্তবর্তী জেলা সুনামগঞ্জের ২৯ লাখ মানুষের চিকিৎসার প্রধান আশ্রয়স্থল ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতাল। হাওর ও দুর্গম এলাকা থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ উন্নত চিকিৎসার আশায় এই হাসপাতালে আসেন। তবে বর্তমানে চরম চিকিৎসক ও জনবল সংকটে থমকে দাঁড়িয়েছে এর স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসকের ৭৪টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ২৩ জন। নার্সের ২৬৩টি পদের মধ্যে কর্মরত ১৯৩ জন এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ অন্যান্য ১৩৬টি পদের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ৮৮ জন। ফলে সিনিয়র ও জুনিয়র কনসালট্যান্টের শূন্যতা নিয়ে সীমিত জনবল দিয়েই হাসপাতালটি চালনা করা হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসক: মোট পদ ৭৪টির মধ্যে শূন্য রয়েছে ৫১টি (কর্মরত আছেন ২৩ জন)।নার্স: মোট পদ ২৬৩টির মধ্যে শূন্য রয়েছে ৭০টি (কর্মরত আছেন ১৯৩ জন)।মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও অন্যান্য: মোট পদ ১৩৬টির মধ্যে শূন্য রয়েছে ৪৮টি (কর্মরত আছেন ৮৮ জন)। হাসপাতালটিতে মোট ৪৭৩টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে ১৬৯টি পদই শূন্য রয়েছে।

এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পাঁচজন চিকিৎসককে পার্শ্ববর্তী সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজে বদলি করা হয়েছে—যেখানে এখনো হাসপাতালই চালু হয়নি।

ফলে সদর হাসপাতালের ওপর বাড়তি চাপের মধ্যে চিকিৎসক সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। ধারণক্ষমতার অন্তত তিন গুণ রোগীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

প্রতিদিন গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ জন রোগী সেবা নিতে আসছেন। সম্প্রতি শিশু ও হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় শয্যা সংকট আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। বেড না পেয়ে রোগীদের হাসপাতালের মেঝে, বারান্দা ও করিডোরে অবস্থান করতে হচ্ছে।

শৌচাগার ও পর্যাপ্ত সুবিধার অভাবে বারান্দায় থাকা রোগীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। জনবল ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে সদ্য চালু হওয়া আইসিইউ সুবিধাও পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।বিশ্বম্ভরপুর থেকে আসা শিশু রোগীর অভিভাবক বুরহান উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, “মেঝেতে থেকে বাচ্চার চিকিৎসা করাতে হচ্ছে, তার ওপর সময়মতো ডাক্তার পাওয়া যায় না।

অন্য এক রোগীর স্বজন রোকেয়া বেগম জানান, বেডের অভাবে বারান্দায় থাকতে হচ্ছে এবং সেবা না পেয়ে রোগী সামলাতেই নিজেরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।পৌর শহরের বাসিন্দা সেলিম আহমেদ বলেন, “হাওরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা বাড়লেও হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা বাড়েনি। সরকারের উচিত দ্রুত এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা।

সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আহম্মদ হোসেন জানান, সীমিত জনবল সত্ত্বেও প্রতিদিন আসা ৭০০ থেকে ৮০০ জন রোগীর সাধ্যমতো সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে জনবল সংকট নিরসনে ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে নতুন নিয়োগ ও শূন্য পদ পূরণের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। স্বাস্থ্য সচেতন নাগরিকদের দাবি, দ্রুত সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় টেকনোলজিস্ট নিয়োগ দিয়ে হাওরাঞ্চলের মানুষের মৌলিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা জরুরি।