০১:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সম্পাদকীয়: সেন্টমার্টিনে পর্যটন—নিয়ম মেনে টেকসই ব্যবস্থাপনার পথে

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটন মৌসুম আবারও শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে দুই হাজার অনুমোদিত পর্যটকের বিপরীতে মাত্র ১১৭৪ জন দ্বীপে গেছেন—যা একদিকে যদিও প্রত্যাশার তুলনায় কম, অন্যদিকে দায়িত্বশীল পর্যটনের নতুন বাস্তবতা তুলে ধরে। পরিবেশ রক্ষায় সরকারের জারি করা ১২ দফা নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ এবং প্রবেশপথে কিউআর কোড স্ক্যানসহ কড়া নজরদারি প্রশংসনীয়।

দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ন্ত্রিত ভ্রমণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং প্রবাল-জীববৈচিত্র্য ক্ষতির ফলে সেন্টমার্টিন ভীষণ ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। এবার পর্যটন সীমিতকরণ ও অনুমোদিত জাহাজের মাধ্যমে যাতায়াত বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত দ্বীপকে বাঁচানোর জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। প্রথম দিনেই অনিয়মের দায়ে জরিমানা হওয়া দেখায়—নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শুধু কাগজে নয়, বাস্তবেও প্রয়োগ হচ্ছে।

এখন প্রয়োজন এ ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করা এবং সকল অংশীজন—পর্যটক, পরিবহন মালিক, স্থানীয় ব্যবসায়ী— সবাইকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা। বিশেষ করে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধকরণ, সৈকতে শব্দ নিয়ন্ত্রণ ও কচ্ছপ-প্রবাল সংরক্ষণে কঠোরতা অব্যাহত রাখতে হবে।

সেন্টমার্টিন আমাদের জাতীয় সম্পদ; এর সৌন্দর্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা শুধু সরকারের নয়, আমাদের সবার দায়িত্ব। নিয়ন্ত্রিত পর্যটনই পারে দ্বীপটিকে বাঁচিয়ে রেখে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই ধারায় উপভোগযোগ্য রাখতে।

জনপ্রিয় পোস্ট

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শান্তিগঞ্জে জন্মাষ্টমী উদযাপন

সম্পাদকীয়: সেন্টমার্টিনে পর্যটন—নিয়ম মেনে টেকসই ব্যবস্থাপনার পথে

আপডেট সময় : ০২:০২:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটন মৌসুম আবারও শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে দুই হাজার অনুমোদিত পর্যটকের বিপরীতে মাত্র ১১৭৪ জন দ্বীপে গেছেন—যা একদিকে যদিও প্রত্যাশার তুলনায় কম, অন্যদিকে দায়িত্বশীল পর্যটনের নতুন বাস্তবতা তুলে ধরে। পরিবেশ রক্ষায় সরকারের জারি করা ১২ দফা নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ এবং প্রবেশপথে কিউআর কোড স্ক্যানসহ কড়া নজরদারি প্রশংসনীয়।

দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ন্ত্রিত ভ্রমণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং প্রবাল-জীববৈচিত্র্য ক্ষতির ফলে সেন্টমার্টিন ভীষণ ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। এবার পর্যটন সীমিতকরণ ও অনুমোদিত জাহাজের মাধ্যমে যাতায়াত বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত দ্বীপকে বাঁচানোর জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। প্রথম দিনেই অনিয়মের দায়ে জরিমানা হওয়া দেখায়—নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শুধু কাগজে নয়, বাস্তবেও প্রয়োগ হচ্ছে।

এখন প্রয়োজন এ ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করা এবং সকল অংশীজন—পর্যটক, পরিবহন মালিক, স্থানীয় ব্যবসায়ী— সবাইকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা। বিশেষ করে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধকরণ, সৈকতে শব্দ নিয়ন্ত্রণ ও কচ্ছপ-প্রবাল সংরক্ষণে কঠোরতা অব্যাহত রাখতে হবে।

সেন্টমার্টিন আমাদের জাতীয় সম্পদ; এর সৌন্দর্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা শুধু সরকারের নয়, আমাদের সবার দায়িত্ব। নিয়ন্ত্রিত পর্যটনই পারে দ্বীপটিকে বাঁচিয়ে রেখে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই ধারায় উপভোগযোগ্য রাখতে।