০৬:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সোনালী চেলা নদীতে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন, প্রতিরোধের ঘোষণা এলাকাবাসীর

সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার সীমান্তে সোনালী চেলা নদী তীরবর্তী বেশ কিছু এলাকায় ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করছে বালুখেকোচক্র। এ কারণে নদীর তীরবর্তী ১০-১২টি গ্রামগুলোর বাড়ি-ঘর, রাস্তা-ঘাট, ফসলি জমি, বৃক্ষবাগান, বাজার, মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে।

 

বালুখেকোদের বিরুদ্ধে এলাকার সচেতন মানুষরা প্রতিবাদ জানিয়ে আসলেও স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই চলে আসছিল তাদের ড্রেজার তাণ্ডব। এর প্রতিবাদে এবং সোনালী চেলা নদীর তীরবর্তী সোনাপুর, হাবিবনগর, কলাবাগান, কাজিরগাঁওসহ বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দ্বারা বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে গত বুধবার সন্ধ্যায় দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের নাছিমপুর বাজারে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

 

সোনালী চেলা ক্ষুদ্র বালু ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড, সোনাপুর গ্রামবাসী, পূর্ব চাইরগাঁও গ্রামবাসীসহ বিভিন্ন গ্রাম ও সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে প্রতিবাদ সমাবেশে লোকজন মিলিত হয়।

 

এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে প্রতিরোধের ঘোষণা দেয়া হয়।ছাতকের ইসলামপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হেকিমের সভাপতিত্বে ও হাফিজ মিয়ার পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, হাফেজ ফয়াজ উদ্দিন, ইউপি সদস্য চাইরগাওঁ গ্রামের নুরু মিয়া, আবুল বাশার, রহমতপুর গ্রামের জালাল উদ্দীন, নাছিমপুর বাজার আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি বিএনপির নেতা মো.খলিলুর রহমান, আপ্তাব উদ্দিন, নওশাদ জামিল, রুবেল আহমেদ, ইসরাইল মিয়া প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, জেলার অন্যতম বালু মহাল চেলা নদী সংলগ্ন সোনাপুর, কলাবাগান, কাজিরগাঁও, আলমপুর, শারপিন পাড়াসহ এলাকার আশপাশ এলাকায় রাতের আঁধারে পরিবেশ বিধ্বংসী ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছে একাধিক প্রভাবশালী চক্র। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকার কয়েকটি গ্রামে তীব্র ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়ে ঘরবাড়ি, বিভিন্ন স্থাপনা, কবরস্থান, ফসলিজমি, রাস্তা-ঘাট ও সরকারি বন হুমকীর মুখে পড়েছে।

 

প্রশাসনের অসহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তারা আরও বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কার্যকর ব্যবস্থা নিলে আমাদের প্রতিবাদ সমাবেশ ও আন্দোলন করার প্রয়োজন পড়তো না।

 

অবৈধ ড্রেজার মেশিনের তাণ্ডবে ইতোমধ্যেই এলাকার অর্ধশত বসতভিটে নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশে দিনের পর দিন অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করা হলেও তা বন্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।

 

সরকার কর্তৃক ইজারা বর্হিভূত স্থানে বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি অনতি বিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তা না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুশিয়ারী প্রদান করেন বক্তারা।

জনপ্রিয় পোস্ট

জগন্নাথপুরে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন

সোনালী চেলা নদীতে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন, প্রতিরোধের ঘোষণা এলাকাবাসীর

আপডেট সময় : ১০:৪০:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার সীমান্তে সোনালী চেলা নদী তীরবর্তী বেশ কিছু এলাকায় ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করছে বালুখেকোচক্র। এ কারণে নদীর তীরবর্তী ১০-১২টি গ্রামগুলোর বাড়ি-ঘর, রাস্তা-ঘাট, ফসলি জমি, বৃক্ষবাগান, বাজার, মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে।

 

বালুখেকোদের বিরুদ্ধে এলাকার সচেতন মানুষরা প্রতিবাদ জানিয়ে আসলেও স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই চলে আসছিল তাদের ড্রেজার তাণ্ডব। এর প্রতিবাদে এবং সোনালী চেলা নদীর তীরবর্তী সোনাপুর, হাবিবনগর, কলাবাগান, কাজিরগাঁওসহ বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দ্বারা বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে গত বুধবার সন্ধ্যায় দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের নাছিমপুর বাজারে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

 

সোনালী চেলা ক্ষুদ্র বালু ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড, সোনাপুর গ্রামবাসী, পূর্ব চাইরগাঁও গ্রামবাসীসহ বিভিন্ন গ্রাম ও সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে প্রতিবাদ সমাবেশে লোকজন মিলিত হয়।

 

এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে প্রতিরোধের ঘোষণা দেয়া হয়।ছাতকের ইসলামপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হেকিমের সভাপতিত্বে ও হাফিজ মিয়ার পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, হাফেজ ফয়াজ উদ্দিন, ইউপি সদস্য চাইরগাওঁ গ্রামের নুরু মিয়া, আবুল বাশার, রহমতপুর গ্রামের জালাল উদ্দীন, নাছিমপুর বাজার আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি বিএনপির নেতা মো.খলিলুর রহমান, আপ্তাব উদ্দিন, নওশাদ জামিল, রুবেল আহমেদ, ইসরাইল মিয়া প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, জেলার অন্যতম বালু মহাল চেলা নদী সংলগ্ন সোনাপুর, কলাবাগান, কাজিরগাঁও, আলমপুর, শারপিন পাড়াসহ এলাকার আশপাশ এলাকায় রাতের আঁধারে পরিবেশ বিধ্বংসী ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছে একাধিক প্রভাবশালী চক্র। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকার কয়েকটি গ্রামে তীব্র ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়ে ঘরবাড়ি, বিভিন্ন স্থাপনা, কবরস্থান, ফসলিজমি, রাস্তা-ঘাট ও সরকারি বন হুমকীর মুখে পড়েছে।

 

প্রশাসনের অসহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তারা আরও বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কার্যকর ব্যবস্থা নিলে আমাদের প্রতিবাদ সমাবেশ ও আন্দোলন করার প্রয়োজন পড়তো না।

 

অবৈধ ড্রেজার মেশিনের তাণ্ডবে ইতোমধ্যেই এলাকার অর্ধশত বসতভিটে নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশে দিনের পর দিন অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করা হলেও তা বন্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।

 

সরকার কর্তৃক ইজারা বর্হিভূত স্থানে বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি অনতি বিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তা না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুশিয়ারী প্রদান করেন বক্তারা।