বিএনপি সরকার দিনের ভোটে নির্বাচিত, রাতের ভোটে নয়—মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. জি কে গউছ। একই সঙ্গে প্রশাসনকে জনগণের আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতি সম্মান রেখে নিরপেক্ষতা, সততা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা, উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজনৈতিক প্রসঙ্গে জি কে গউছ বলেন, প্রশাসনের কার্যক্রমে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় যেন প্রভাব ফেলতে না পারে। কে কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত—এটি খুঁজে বেড়ানোর পরিবর্তে প্রশাসনের ভেতরে কোনো অনিয়ম, অসঙ্গতি বা দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে কি না, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি বলেন, “কে কোন দল সেটা খোঁজার দরকার নেই। বাইরে ডেভিল না খুঁজে প্রশাসনের ভেতর ডেভিল খুঁজবেন।”
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আরও সতর্ক ও জবাবদিহিমূলকভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে হুইপ বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম কিংবা দায়িত্বে অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয়।
সভায় সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জি কে গউছ। প্রতি মাসে বিজিবি যে পরিমাণ চোরাই মালামাল আটক করে, সেগুলো কোথায় যায় এবং যথাযথভাবে কাস্টমসে জমা দেওয়া হয় কি না—তা জানতে চান তিনি। আটক করা মালামালের হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং পরবর্তী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিয়েও আলোচনা করেন হুইপ। হাসপাতালে বর্তমানে কতজন চিকিৎসক ও নার্স কর্মরত রয়েছেন, তা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছে জানতে চান তিনি। পাশাপাশি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও ব্যবস্থাপনায় কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসককে হাসপাতাল পরিদর্শনের আহ্বান জানান।
জি কে গউছ বলেন, “ডিসি সপ্তাহে সপ্তাহে, মাঝে মাঝে হাসপাতালে পরিদর্শনে যাবেন। কোনো অসঙ্গতি দেখলে স্থানীয় এমপিদের জানাবেন।”
ক্রীড়া উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী গোল্ড কাপ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রতিটি জেলা ও উপজেলা থেকে নতুন প্রতিভা বের করে আনা। পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় স্টেডিয়াম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলার ইউএনওদের কাছে সরকারের এ উদ্যোগ সম্পর্কে তাঁরা অবহিত আছেন কি না এবং সংশ্লিষ্ট কাজের অগ্রগতি কতদূর হয়েছে—তা জানতে চান তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান। সভা সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুনজিত কুমার চন্দ।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম নুরুল, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কায়ছর আহমেদ, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কমরুজ্জামান কামরুল, জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী, পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন, পিপিএম, ২৮ বিজিবি সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক এ কে এম জাকারিয়া কাদির, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক অসীম চন্দ্র বণিক, সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান খাঁন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাকিলা রহমান, সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা এবং জেলা আনসার কমান্ডার মোরশেদা খানম।
এছাড়া বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল হক, অ্যাডভোকেট মঈদ উদ্দিন মল্লিক, সোহেল, অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী, অ্যাডভোকেট মাসুক আলম, নাদির আহমেদ, রেজাউল হক, সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ (অব.) শেরগুল আহমেদসহ সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, হাসপাতাল প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
স্টাফ রিপোর্টার 


















