সুনামগঞ্জের ছাতকে পুলিশ হেফাজত হতে আওয়ামিলীগ নেতা হাজ্বী স্বপন মিয়া উধাও হওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছাতক থানার ওসি মিজানুর রহমানকে প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয় জনতা।
আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধা সাড়ে ৭ টায় ছাতক পৌর শহরে এই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী এক সমাবেশে বক্তারা বলেন,রাত সাড়ে এগারোটার দিকে আওয়ামীলীগ নেতা হাজ্বী স্বপন মিয়া সিএনজি চড়ে ছাতক শহরের তাহির প্লাজার সামনে আসছিলেন। এসময় স্থানীয় শতাধিক লোকজন জড়ো হয়ে সিএনজি থেকে টেনেহিঁচড়ে তাকে নামিয়ে মারধর করে। একপর্যায়ে পুলিশে খবর দেয়, ছাতক থানার ওসি মিজানুর রহমানসহ থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে আসলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। পুলিশ প্রথমে চিকিৎসার জন্য ছাতক উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যায় তাকে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য পুলিশি পাহারায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে এর কিছুক্ষণ পর থেকে কথিত এই আওয়ামীলীগ নেতা হাজ্বী স্বপন মিয়ার গ্রেপ্তারের কোন তথ্য বা সন্ধান পাওয়া যায়নি। রোববার রাত থেকে সোমবার সন্ধা পর্যন্ত হাজ্বী স্বপন মিয়ার গ্রেপ্তারের বিষয়ে একাধিকবার ওসির সাথে যোগাযোগ করা হলেও এবিষয়ে কোন সঠিক উত্তর দেননি তিনি। স্থানীয় সাংবাদিকরা ও একাধিকবার ওসির সাথে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে,মূলত হাজ্বী স্বপন মিয়ার সাথে ছাতক থানার ওসির ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় না থাকলেও ওসি মিজানুর রহমানকে কথিত এই আওয়ামীলীগ নেতার বাসায় নিয়মিত আসা-যাওয়া করতে দেখা যায়। তাদের এই সম্পর্কের কারনেই হাজ্বী স্বপন মিয়াকে ছেড়ে দেয় ছাতকের ওসি মিজানুর রহমান।
ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয়রা আরো বলেন,
দোয়ারাবাজার উপজেলার আওয়ামিলীগ নেতা এবং উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের সারপিননগর গ্রামের মৃত: আব্দুল মতিনের ছেলে ও বর্তমান ছাতক পৌর শহরের ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হাজ্বী স্বপন মিয়া আওয়ামীলীগের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব কাটিয়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মামলা হামলা দিয়ে হয়রানি, জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্টান দখল প চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন। কিন্তু আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর অনেক নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠানো হয় আবার কেউ কেউ আত্মগোপনে চলে গেলেও স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনের যোগসাজশে পুরোনো নিয়মেই চলছিলো কথিত এই আওয়ামীলীগ নেতা হাজ্বী স্বপনের তান্ডব ।
জুলাই আন্দোলনে ছাত্রজনতাকে হত্যার হুমকি দাতা এই আওয়ামীলীগ নেতা বর্তমান সময়েও প্রকাশ্যে – সীমান্তে চোরাচালান, টেন্ডার বাজি, নিজস্ব বাহিনী দিয়ে চাঁদাবাজি, জোরপূর্বক নদীর পাড় কেটে বালুউত্তোলনসহ তার অপকর্মের তান্ডব চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একাধিকবার ছাতক থানার ওসি মিজানুর রহমানকে অবগত করা হলেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মাঝে মধ্যে ওসি মিজানুর রহমান স্থানীয়দের বলতেন সে আত্মগোপনে তাই তাকে পাওয়া যাচ্ছেনা। তবে প্রতিনিয়তো হাজ্বী স্বপন মিয়ার সাথে ওসি মিজানুর রহমানের যোগাযোগ ছিলো এবং বাসায় নিয়মিত আসা-যাওয়ার অভিযোগ ও করেন তারা। এতে আগামী ২৪ ঘন্টার ভিতরে দূর্নীতিবাজ এই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। না হয় পরবর্তী কঠুর আন্দোলনের হুশিয়ারী দেওয়া হয়।
এদিকে, কথিত এই আওয়ামীলীগ নেতাকে পুলিশি নিরাপত্তায় ছাতক উপজেলা হাসপাতাল থেকে এম্বুলেন্স করে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে পুলিশের সহযোগিতায় তাকে হাসপাতাল থেকে বের করে এম্বুলেন্সে তুলা হচ্ছে।
এবিষয়ে ছাতক থানার ওসি মিজানুর রহমানের বক্তব্য নিতে তার থানা কার্যালয়ে গেলে পাওয়া যায়নি। সেখানে গেলে ওসির অফিসকক্ষ তালাবদ্ধ দেখতে পাওয়ায় তার মোবাইল নাম্বারে কল দিলেও রিসিভ না করায় আওয়ামীলীগ নেতা হাজ্বী স্বপন মিয়া গ্রেপ্তার অথবা তার বিরুদ্ধে আগের কোন অভিযোগ আছে কিনা এসক্রান্ত্রে জানা যায়নি।
বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন,ছাতক পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক (সাক্ষর ক্ষমতা প্রাপ্ত) ও সাবেক কাউন্সিলর জসিমউদদীন সুমেন, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শজসিম উদ্দিন সালমান, ছাতক উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক বাকি বিল্লাহ, উপজেলা জাসাস এর আহ্বায়ক আব্দুল আলীম।
এসময় ছাতক পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য তানিমুল ইসলাম তানিম,সাবেক ছাতক পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুনেম মামনুন,পৌর যুবদলের সদস্য নোমান ইমদাদ কানন,সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও ছাতক উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আব্দুল বাকী মুহিত, বিএনপি নেতা জাহির উদ্দিন দিনান, গোলাম দস্তগীর জীবন, ঝুমন আহমেদ, সোনা আলী, সিফাত, তানভীর, ঈদরাক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি: সোহেল মিয়া 


















