০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জগন্নাথপুরে হাজারো মানুষের অশ্রুসিক্ত হৃদয়ে আলেমের বিদায়

জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী জামেয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম অলইতলী ও কাতিয়া মাদরাসার প্রবীণ মুহতামিম, প্রখ্যাত বুজুর্গ আলেম শায়খে কাতিয়া হযরত মাওলানা আমিন উদ্দীন (রহ.)-এর বড় সাহেবজাদা হাফেজ মাওলানা হাজী ইমদাদুল্লাহ আমিনী (রহ.)-এর নামাজে জানাজা বিপুল সংখ্যক মুসল্লি ও সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় দারুল উলুম কাতিয়া মাদরাসা মাঠে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় সুনামগঞ্জ ৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ, জামায়াতের এমপি প্রার্থী এডভোকেট ইয়াসিন খান, উপজেলা বিএনপি আহবায়ক আবু হোরায়রা সাদ মাস্টার, প্রথম যুগ্ম আহবায় জামাল উদ্দিন আহমদ, উপজেলা জামায়াতের সভাপতি মাওলানা লুৎফুর রহমান, সেক্রেটারী আফজাল হোসাইন সহ বিভিন্ন দলের সিলেট বিভাগের জেলা-উপজেলা নেতাকর্মী সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত ওলামায়ে কেরাম, মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ এবং সর্বস্তরের তাওহিদী জনতা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় মাদরাসা মাঠ ও আশপাশের এলাকায় মানুষের ঢল নামে। প্রিয় আলেমকে শেষবারের মতো দেখতে ও জানাজায় শরিক হতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন অসংখ্য মানুষ। জানাজা শেষে মরহুমের মরদেহ মাদরাসার পশ্চিম পাশে অবস্থিত পারিবারিক কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়।

মরহুম হাফেজ মাওলানা হাজী ইমদাদুল্লাহ আমিনীর ইন্তেকালের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই পাইলগাঁও ইউনিয়নসহ জগন্নাথপুর ও আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তাঁকে হারিয়ে পরিবার, স্বজন, সহকর্মী, ছাত্র, শুভাকাঙ্ক্ষী ও ভক্তদের মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোক। জানাজাস্থলে অনেককেই অশ্রুসিক্ত নয়নে প্রিয় আলেমের জন্য দোয়া করতে দেখা যায়।

গত বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে সিলেট নগরীর আল-হারামাইন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হাফেজ মাওলানা হাজী ইমদাদুল্লাহ আমিনী (রহ.)। তাঁর ইন্তেকালের সংবাদে ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও আলেম-ওলামাদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃত্যুকালে তিনি ৪ ছেলে ও ৪ মেয়েসহ অসংখ্য ছাত্র, আত্মীয়-স্বজন, ভক্ত ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর ইন্তেকালে পরিবার ও স্বজনদের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের ছাত্র ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝেও গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার সকাল থেকেই কাতিয়া মাদরাসা মাঠে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসতে শুরু করেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মাদরাসা মাঠ ও আশপাশের এলাকা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত আলেম-ওলামা, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষ মরহুমের জানাজায় অংশ নেন। জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই মরহুমের সঙ্গে তাঁদের ব্যক্তিগত স্মৃতি ও তাঁর ধর্মীয় অবদানের কথা স্মরণ করেন। একজন আলেম হিসেবে তাঁর জীবন, মাদরাসাকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ড এবং মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তাঁরা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। জানাজা শেষে উপস্থিত মুসল্লিরা মরহুমের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।

হাফেজ মাওলানা হাজী ইমদাদুল্লাহ আমিনীর মৃত্যুতে পাইলগাঁও ইউনিয়নসহ জগন্নাথপুর উপজেলার ধর্মীয় অঙ্গনে শোকের আবহ বিরাজ করছে। তাঁর মৃত্যুতে স্থানীয় আলেম সমাজ, মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং তাঁর অসংখ্য গুণগ্রাহী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

টেগ :
জনপ্রিয় পোস্ট

বাউল সাধক শাহ আবদুল করিম স্মরণে সুনামগঞ্জে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

জগন্নাথপুরে হাজারো মানুষের অশ্রুসিক্ত হৃদয়ে আলেমের বিদায়

আপডেট সময় : ০৭:৩৭:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী জামেয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম অলইতলী ও কাতিয়া মাদরাসার প্রবীণ মুহতামিম, প্রখ্যাত বুজুর্গ আলেম শায়খে কাতিয়া হযরত মাওলানা আমিন উদ্দীন (রহ.)-এর বড় সাহেবজাদা হাফেজ মাওলানা হাজী ইমদাদুল্লাহ আমিনী (রহ.)-এর নামাজে জানাজা বিপুল সংখ্যক মুসল্লি ও সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় দারুল উলুম কাতিয়া মাদরাসা মাঠে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় সুনামগঞ্জ ৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ, জামায়াতের এমপি প্রার্থী এডভোকেট ইয়াসিন খান, উপজেলা বিএনপি আহবায়ক আবু হোরায়রা সাদ মাস্টার, প্রথম যুগ্ম আহবায় জামাল উদ্দিন আহমদ, উপজেলা জামায়াতের সভাপতি মাওলানা লুৎফুর রহমান, সেক্রেটারী আফজাল হোসাইন সহ বিভিন্ন দলের সিলেট বিভাগের জেলা-উপজেলা নেতাকর্মী সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত ওলামায়ে কেরাম, মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ এবং সর্বস্তরের তাওহিদী জনতা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় মাদরাসা মাঠ ও আশপাশের এলাকায় মানুষের ঢল নামে। প্রিয় আলেমকে শেষবারের মতো দেখতে ও জানাজায় শরিক হতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন অসংখ্য মানুষ। জানাজা শেষে মরহুমের মরদেহ মাদরাসার পশ্চিম পাশে অবস্থিত পারিবারিক কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়।

মরহুম হাফেজ মাওলানা হাজী ইমদাদুল্লাহ আমিনীর ইন্তেকালের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই পাইলগাঁও ইউনিয়নসহ জগন্নাথপুর ও আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তাঁকে হারিয়ে পরিবার, স্বজন, সহকর্মী, ছাত্র, শুভাকাঙ্ক্ষী ও ভক্তদের মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোক। জানাজাস্থলে অনেককেই অশ্রুসিক্ত নয়নে প্রিয় আলেমের জন্য দোয়া করতে দেখা যায়।

গত বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে সিলেট নগরীর আল-হারামাইন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হাফেজ মাওলানা হাজী ইমদাদুল্লাহ আমিনী (রহ.)। তাঁর ইন্তেকালের সংবাদে ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও আলেম-ওলামাদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃত্যুকালে তিনি ৪ ছেলে ও ৪ মেয়েসহ অসংখ্য ছাত্র, আত্মীয়-স্বজন, ভক্ত ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর ইন্তেকালে পরিবার ও স্বজনদের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের ছাত্র ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝেও গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার সকাল থেকেই কাতিয়া মাদরাসা মাঠে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসতে শুরু করেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মাদরাসা মাঠ ও আশপাশের এলাকা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত আলেম-ওলামা, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষ মরহুমের জানাজায় অংশ নেন। জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই মরহুমের সঙ্গে তাঁদের ব্যক্তিগত স্মৃতি ও তাঁর ধর্মীয় অবদানের কথা স্মরণ করেন। একজন আলেম হিসেবে তাঁর জীবন, মাদরাসাকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ড এবং মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তাঁরা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। জানাজা শেষে উপস্থিত মুসল্লিরা মরহুমের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।

হাফেজ মাওলানা হাজী ইমদাদুল্লাহ আমিনীর মৃত্যুতে পাইলগাঁও ইউনিয়নসহ জগন্নাথপুর উপজেলার ধর্মীয় অঙ্গনে শোকের আবহ বিরাজ করছে। তাঁর মৃত্যুতে স্থানীয় আলেম সমাজ, মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং তাঁর অসংখ্য গুণগ্রাহী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।