স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক নাগরিক অধিকার। একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো নাগরিকদের জন্য সহজলভ্য, মানসম্মত, নিরাপদ ও জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।
এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে “স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত ও উন্নয়ন কমিটি” গঠনের জন্য মেজর মাহফুজুর রহমান সবুজ ব্যক্তিগতভাবে এই প্রস্তাব করছেন। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার কৃতি সন্তান। তিনি মনে করেন এটা কার্যকরি হলে আমাদের ভাটির জনপদের মানুষজন স্বাস্থ্য সেবায় পিছিয়ে থাকবে না।
প্রস্তাবিত কমিটির কাঠামো:
সভাপতি: স্থানীয় সংসদ সদস্য
সদস্য–১: উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি)
সদস্য–২: সমাজসেবা কর্মকর্তা
সদস্য–৩: উপজেলা/জেলা সদর মসজিদের ইমাম
সদস্য–৪: চারজন ছাত্র প্রতিনিধি কমিটির প্রধান কার্যক্রম:
১. ওষুধের হিসাব ও স্বচ্ছতা:
প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক/সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরকারের কাছ থেকে প্রাপ্ত ওষুধের পরিমাণ, পূর্ববর্তী মাসের অবশিষ্ট মজুদ এবং ব্যবহৃত ওষুধের পরিমাণের পূর্ণাঙ্গ হিসাব কমিটির সামনে উপস্থাপন করবেন।
২. ওষুধ বিতরণের স্বচ্ছতা:
কোন ধরনের ওষুধ, কতজন রোগীকে সরবরাহ করা হয়েছে, তার হিসাব প্রকাশ করতে হবে। তবে রোগীর ব্যক্তিগত ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করে রোগী-আইডি বা পরিসংখ্যানভিত্তিক তথ্য ব্যবহার করা হবে।
৩. স্বাস্থ্যসেবার পরিমাণ ও মান:
প্রতি মাসে হাসপাতাল কতজন বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগের রোগীকে সেবা দিয়েছে, কতটি অপারেশন হয়েছে এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা কতজনকে প্রদান করা হয়েছে—তার প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে হবে।
৪. চিকিৎসা সরঞ্জামের জবাবদিহিতা:
হাসপাতালে মোট কতটি চিকিৎসা মেশিন/সরঞ্জাম রয়েছে, কতটি সচল এবং কতটি অচল—তার তালিকা দিতে হবে। অচল সরঞ্জামের ক্ষেত্রে কেন অচল, মেরামতের জন্য কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং কবে নাগাদ সচল করা সম্ভব—তার ব্যাখ্যাও দিতে হবে।
৫. রোগীদের খাবারের মান ও হিসাব:
ভর্তিকৃত রোগীদের জন্য নির্ধারিত খাবারের মেনু, মাথাপিছু বরাদ্দ ও বাস্তবে সরবরাহকৃত খাবারের পরিমাণ, খাবারের ব্যয় এবং সংশ্লিষ্ট হিসাব উপস্থাপন করতে হবে।
৬. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা:
হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, জীবাণুনাশক সামগ্রী, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ক্রয়ে কী পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে, কী কী সামগ্রী কেনা হয়েছে এবং কতজন কর্মী এই কাজে নিয়োজিত—তার হিসাব প্রকাশ করতে হবে।
৭. সরেজমিন পরিদর্শন:
মাসিক প্রেজেন্টেশন শেষ হওয়ার পর কমিটির সদস্যরা নির্ধারিত দিনে হাসপাতাল সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। কাগজে-কলমে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে।
পরিদর্শন শেষে কমিটি সমন্বিতভাবে সন্তুষ্ট/আংশিক সন্তুষ্ট/অসন্তুষ্ট মতামত প্রদান করবে এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবে।
অনিয়ম বা অবহেলার ক্ষেত্রে সুপারিশ: কোনো ডাক্তার, নার্স, কর্মকর্তা বা কর্মচারীর কাজে গুরুতর অবহেলা, অনিয়ম বা অসন্তোষজনক কর্মদক্ষতা পাওয়া গেলে কমিটি যথাযথ প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করবে।
সুপারিশ বাস্তবায়নের সময়সীমা: কমিটির সুপারিশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/দপ্তরকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং পরবর্তী মাসিক পর্যালোচনা সভায় গৃহীত পদক্ষেপের অগ্রগতি জানাতে হবে।
এই কমিটির মূল উদ্দেশ্য:
– সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা l
– ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অপচয় ও অনিয়ম রোধ করা l
– হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা l
– রোগীদের খাবারের মান নিশ্চিত করা l
– অচল চিকিৎসা সরঞ্জাম দ্রুত সচল করা l
– চিকিৎসাসেবার মান ও পরিমাণ নিয়মিত মূল্যায়ন করা l
– এবং সর্বোপরি, নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবার অধিকারকে বাস্তবে নিশ্চিত করা।
উপস্থিতি: হাসপাতালের সুবিধাভোগীদের জানানোর জন্য, কমিটির সামনে প্রদত্ত প্রেজেন্টেশন সরাসরি ফেসবুক, ইউটিউব, প্রিন্ট/ অনলাইন সকল সংবাদ মাধ্যম, টিভি চ্যানেলে এক যুগের সম্প্রচার করতে হবে l
বিশ্বম্ভরপুর প্রতিনিধি: জিয়াউর রহমান 

















