সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় হামের প্রকোপ তীব্র আকার ধারন করেছে। শিশুদের পাশাপাশি বড়দের শরীরেও ছড়িয়ে পড়ছে এই রোগ। গত ১৫ দিনে শতাধিক শিশু-কিশোর এই রোগের সাদৃশ্য উপসর্গ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে। এই পর্যন্ত হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ৫ জন শিশু মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে ২৬ জন রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। এসব রোগীদের জন্য আলাদা ইউনিট খোলা রাখা হয়েছে বলেও জানান তারা।
কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণত জ্বরের মাধ্যমে হাম রোগের লক্ষণ দেখা দেয়। প্রথম দুদিন জ্বর থাকে তৃতীয় দিনের মাথায় শরীরে লালচে ধানার দেখা দেয়। চোখ লাল হয়ে ওঠে এবং শ্বাসকষ্টের দেখা দিলে হামের সন্দেহজনক তালিকায় ধরা যায়। এ রোগে মূলত ৩ থেকে ৫ বছরের শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। এ থেকে বাঁচতে নিয়মিত ইপিআই টিকা গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়েছে চিকিৎসকরা।
তবে সন্দেহজনকভাবে হাম রোগের লক্ষণ দেখা দিলে নিয়মিত চিকিৎসা সেবা নিতে হবে বলে জানান ।
চিকিৎসকরা জানান,কারও শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া। হাম থেকে শিশুদের নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিয়ে মৃত্যু পথে নিয়ে যায়।
জানা যায়, গত ১৫ দিনে শতাধিক শিশু -কিশোর হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এই পর্যন্ত ৫ জন শিশু মৃত্যুবরণ করেছে। যেসব শিশু হাম প্রতিরোধে টিকা গ্রহন করেছে তারাই নিরাপদ রয়েছে। বাকিদের শরীরে এই উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। এটি মূলত ছোয়াছে রোগ। যা শিশুদের শরীর থেকে বিভিন্ন ভাবে বড়দের শরীরেও ছড়াচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে আরো জানা যায়, এখন পর্যন্ত দোয়ারাবাজার উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার শিশু হাম প্রতিরোধ টিকার বাহিরে রয়েছে। হাম একটি সক্রামক রোগ হওয়ায় আক্রান্ত শিশুদের মাধ্যমে দ্রুত পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মাঝে ছড়াচ্ছে।
দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কে. এম. আব্দুল্লাহ আল-মামুন জানান, ‘ হাম রোগ হচ্ছে একটি ছোয়াছে রোগ। এই রোগ ছোটদের থেকে সহজেই বড়দের শরীরে ছড়াচ্ছে। এই রোগিদের জন্য হাসপাতালে আলাদা ইউনিট চালু করা হয়েছে।
এখনো উপজেলার ৪ হাজারের মতো শিশু হাম প্রতিরোধ টিকার বাহিরে থাকায় তার প্রকোপ আরো বাড়ছে। এই রোগের প্রকোপ দেখা দেওয়ার পর শিশুরা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে যাওয়ায় মারা যায়। তবে বড়দের জন্য সাধারণ চিকিৎসাই যথেষ্ট।
হামের লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগেই শিশুদের টিকগ্রহন নিশ্চিতের পাশাপাশি উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি: সোহেল মিয়া 


















