০৪:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শান্তিগঞ্জে নেই কোনো গার্লস স্কুল, বিজ্ঞান শাখা ও ডিগ্রি কলেজের সংকট

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ে ১৪টি উচ্চ বিদ্যালয়, ৫টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৪টি কলেজ থাকলেও নেই কোনো স্বতন্ত্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (গার্লস স্কুল)। ফলে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছেলে-মেয়েদের একসঙ্গে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। নারী শিক্ষার প্রসার ও মেয়েদের জন্য পৃথক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে উপজেলায় একটি গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবকরা।

শুধু গার্লস স্কুলের অভাবই নয়, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও নানা সংকটে রয়েছে শান্তিগঞ্জ। উপজেলার কলেজ পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিজ্ঞান বিভাগ না থাকায় বিজ্ঞান বিষয়ে পড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের অন্যত্র যেতে হচ্ছে। পাশাপাশি উপজেলায় কোনো ডিগ্রি কলেজ না থাকায় উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এসব কারণে জেলার অন্যান্য উপজেলার তুলনায় শান্তিগঞ্জ শিক্ষাক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে জানা যায়, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে শান্তিগঞ্জ উপজেলার একমাত্র স্বতন্ত্র কলেজ হলো আব্দুল মজিদ কলেজ। উপজেলা সদরে অবস্থিত এ কলেজে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে আসে। তবে কলেজটিতে এখনো বিজ্ঞান বিভাগ চালু হয়নি।

এ ছাড়া উপজেলার আরও তিনটি কলেজিয়েট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—ডুংরিয়া হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, পাগলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এবং সুরমা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ। এসব প্রতিষ্ঠানেও বিজ্ঞান বিভাগ নেই বলে জানা গেছে। এছাড়া উপজেলায় একটি টেক্সটাইল কলেজও রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, নতুন প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটি ভালোভাবেই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, উপজেলায় কোনো স্বতন্ত্র গার্লস স্কুল না থাকায় মেয়েদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে অনেক অভিভাবক নানা ধরনের দ্বিধা ও সমস্যার মুখোমুখি হন। ফলে নারী শিক্ষার উন্নয়ন এবং মেয়েদের জন্য নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে শান্তিগঞ্জে একটি গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে উপজেলার ডুংরিয়া বাসিন্দা ও স্থানীয় অভিভাবক মিসবাহ উদ্দিন বলেন, আমাদের উপজেলায় মেয়েদের জন্য কোনো স্বতন্ত্র স্কুল নেই। এ ক্ষেত্রে শান্তিগঞ্জ অনেক পিছিয়ে আছে। শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে আমি বর্তমান সরকারের কাছে আবেদন জানাবো, যেন অতি দ্রুত এই উপজেলায় একটি গার্লস স্কুল ও ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, “শান্তিগঞ্জে একটি গার্লস স্কুলের প্রয়োজন আছে। সরকার চাইলে এটি করতে পারে।” উপজেলার চারটি কলেজে বিজ্ঞান শাখা না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, “বিজ্ঞান শাখা চালুর জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বারবার তাগিদ দিচ্ছি। প্রতিষ্ঠান চাইলে তারা বিজ্ঞান শাখা চালু করতে পারে।

স্থানীয়দের মতে, শান্তিগঞ্জে একটি স্বতন্ত্র গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি কলেজ পর্যায়ে বিজ্ঞান বিভাগ চালু এবং ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠাসহ উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হলে উপজেলার শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। এতে বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণও বৃদ্ধি পাবে।

টেগ :
জনপ্রিয় পোস্ট

শান্তিগঞ্জে নেই কোনো গার্লস স্কুল, বিজ্ঞান শাখা ও ডিগ্রি কলেজের সংকট

শান্তিগঞ্জে নেই কোনো গার্লস স্কুল, বিজ্ঞান শাখা ও ডিগ্রি কলেজের সংকট

আপডেট সময় : ১০:১১:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ে ১৪টি উচ্চ বিদ্যালয়, ৫টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৪টি কলেজ থাকলেও নেই কোনো স্বতন্ত্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (গার্লস স্কুল)। ফলে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছেলে-মেয়েদের একসঙ্গে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। নারী শিক্ষার প্রসার ও মেয়েদের জন্য পৃথক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে উপজেলায় একটি গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবকরা।

শুধু গার্লস স্কুলের অভাবই নয়, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও নানা সংকটে রয়েছে শান্তিগঞ্জ। উপজেলার কলেজ পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিজ্ঞান বিভাগ না থাকায় বিজ্ঞান বিষয়ে পড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের অন্যত্র যেতে হচ্ছে। পাশাপাশি উপজেলায় কোনো ডিগ্রি কলেজ না থাকায় উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এসব কারণে জেলার অন্যান্য উপজেলার তুলনায় শান্তিগঞ্জ শিক্ষাক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে জানা যায়, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে শান্তিগঞ্জ উপজেলার একমাত্র স্বতন্ত্র কলেজ হলো আব্দুল মজিদ কলেজ। উপজেলা সদরে অবস্থিত এ কলেজে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে আসে। তবে কলেজটিতে এখনো বিজ্ঞান বিভাগ চালু হয়নি।

এ ছাড়া উপজেলার আরও তিনটি কলেজিয়েট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—ডুংরিয়া হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, পাগলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এবং সুরমা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ। এসব প্রতিষ্ঠানেও বিজ্ঞান বিভাগ নেই বলে জানা গেছে। এছাড়া উপজেলায় একটি টেক্সটাইল কলেজও রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, নতুন প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটি ভালোভাবেই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, উপজেলায় কোনো স্বতন্ত্র গার্লস স্কুল না থাকায় মেয়েদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে অনেক অভিভাবক নানা ধরনের দ্বিধা ও সমস্যার মুখোমুখি হন। ফলে নারী শিক্ষার উন্নয়ন এবং মেয়েদের জন্য নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে শান্তিগঞ্জে একটি গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে উপজেলার ডুংরিয়া বাসিন্দা ও স্থানীয় অভিভাবক মিসবাহ উদ্দিন বলেন, আমাদের উপজেলায় মেয়েদের জন্য কোনো স্বতন্ত্র স্কুল নেই। এ ক্ষেত্রে শান্তিগঞ্জ অনেক পিছিয়ে আছে। শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে আমি বর্তমান সরকারের কাছে আবেদন জানাবো, যেন অতি দ্রুত এই উপজেলায় একটি গার্লস স্কুল ও ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, “শান্তিগঞ্জে একটি গার্লস স্কুলের প্রয়োজন আছে। সরকার চাইলে এটি করতে পারে।” উপজেলার চারটি কলেজে বিজ্ঞান শাখা না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, “বিজ্ঞান শাখা চালুর জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বারবার তাগিদ দিচ্ছি। প্রতিষ্ঠান চাইলে তারা বিজ্ঞান শাখা চালু করতে পারে।

স্থানীয়দের মতে, শান্তিগঞ্জে একটি স্বতন্ত্র গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি কলেজ পর্যায়ে বিজ্ঞান বিভাগ চালু এবং ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠাসহ উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হলে উপজেলার শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। এতে বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণও বৃদ্ধি পাবে।