সংস্কারের আট মাস না পেরোতেই আবারও আগের ভাঙাচোরা রূপে ফিরেছে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বৃটিশ-বাংলাবাজার সড়ক। উপজেলার অন্যতম জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে এরই মধ্যে দেখা দিয়েছে বড় বড় ভাঙন ও খানাখন্দ। পিচ ও পাথর উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গর্ত। এতে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে ২০ লাখ টাকা এবং উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে বাংলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে আরও ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সড়কটির বিভিন্ন খানাখন্দ সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করা হয়। সংস্কারে মোট ব্যয় ধরা হয় ৩৭ লাখ টাকা।
তবে কাজ শেষ হওয়ার আট মাস না যেতেই সড়কের বিভিন্ন অংশের পিচ ও কার্পেটিং উঠে গিয়ে শতাধিক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে সড়কটি কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। ফলে উপজেলার অন্যতম বৃহৎ বাজার এবং বাঁশতলা পর্যটন কেন্দ্রে যাতায়াতকারী মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। প্রায়ই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। পাশাপাশি সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে যানবাহনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ চালকদের।
সংস্কারের পর এত অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি আবারও কেন আগের অবস্থায় ফিরে গেল—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে। তাঁদের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, কাজের সময় যথাযথ তদারকির অভাব এবং সংশ্লিষ্টদের অনিয়মের কারণেই সংস্কারের অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটির এমন বেহাল দশা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাজ শুরুর পর থেকেই নানা অনিয়ম চোখে পড়ে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে কাজের মান নিয়ে অনিয়ম করা হয়েছে বলেও তাঁরা অভিযোগ করেন। একাধিকবার বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করা হলেও অনিয়ম বন্ধ না হওয়ায় একপর্যায়ে স্থানীয়রা কাজ বন্ধ করে দেন। পরে কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করার আশ্বাসে পুনরায় সংস্কারকাজ শুরু করে শেষ করা হয়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, সড়কের বিভিন্ন স্থানে রড ছাড়া ঢালাই, নির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় কম সিমেন্ট ব্যবহার, অপরিষ্কার মিশ্রিত বালু ব্যবহার এবং খানাখন্দ ভরাটে বালুর পরিবর্তে মাটি ব্যবহারের মতো অনিয়ম করা হয়েছে। এসব অনিয়মের তথ্য-প্রমাণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। পরে সঠিকভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলে সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হয়।
পথচারী আব্দুল কাইয়ুম বলেন, সরকারি টাকা খরচ করে রাস্তা বানানো হয় মানুষের সুবিধার জন্য। কিন্তু এক বছরও যদি রাস্তা টেকসই না হয়, তাহলে সেই কাজের কী মূল্য রইল? এটা জনগণের টাকার অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও সড়কটির দ্রুত টেকসই সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা বলেন, সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন এখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ চলাচল করেন। তাই টেকসইভাবে সংস্কার করা জরুরি ছিল। জোড়াতালির কাজের কারণেই আজ আবার সড়কটির এমন অবস্থা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়কটি টেকসই করতে শুধু ওপরের পিচ সংস্কার করলেই হবে না। সড়কের নিচের ভিত্তি শক্তিশালী করার পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে বারবার সংস্কার করেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না।
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আব্দুল হামিদ বলেন, এস্টিমেট অনুযায়ী কাজ হয়েছে। যেখানে কাজ করার কথা ছিল, সেখানেই কাজ করা হয়েছে। এখন নতুন জায়গায় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো সমাধানের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি: সোহেল মিয়া 














