মুহাম্মদ আমিনুল হক:
সুনামগঞ্জ জেলার ভাটি অঞ্চলের জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী খেলা ভাইয়াফি (বন্ধুত্বপূর্ণ) কুস্তি খেলা জমে উঠেছে। প্রতি বছরের ন্যায় শরৎ ও হেমন্তকালে প্রতিদিনই কোন না কোন গ্রামে এই খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এক গ্রামের লোকজন আরেক গ্রামের লোকদেরকে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে আসেন। শতাধিক মানুষের সমাগমে গ্রামে গ্রামে উৎসবের আমেজ দেখা যায়। দুপুরের দাওয়াত খাওয়ার পর শুরু হয় কুস্তি খেলা।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং গ্রামবাসীর আয়োজনে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৫টায় শেষ হয়। হাজার হাজার মানুষের সমাগমে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী এই কুস্তি খেলা।
জামালগঞ্জ উপজেলার নয়াহালট গ্রামের সাথে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের গৌরারং মাঠে দাওয়াতি (প্রীতি) কুস্তি খেলার আয়োজন হয়।
এই খেলায় প্রথম ধাপের নাম ফনার খেলা (উম্মুক্ত), দ্বিতীয় ধাপে সানি দাগা (১ম পর্বের বাছাই) এবং চূড়ান্ত পর্বে দাগার খেলা (ফাইনাল) কুস্তি খেলা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি ধাপেই কুস্তিগীরদের কলাকৌশল, নৈপুণ্য ও শক্তিমত্তা দেখতে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা যায়। বিকাল ৫টার দিকে প্রতিদ্বন্ধিতাপূর্ণ এই খেলা সমতার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
কুস্তিগীরদের (খেলোয়ারদের) স্থানীয় ভাষায় ‘মাল’ নামে ডাকা হয়। কুস্তিগীরদের আপ্যায়নের জন্য গ্রামে গরু Ñখাসি জবাই করা হয়। তাদের সাথে আসা অন্যান্য অতিথিদেরকেও আপ্যায়ন করা হয়। গ্রামের প্রতিটি ঘরে ঘরে রাতভর চলে উৎসবের আমেজ। এই খেলার মাধ্যমে দলমত সবার মাঝে গড়ে উঠে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতির সেতু বন্ধন। খেলায় আমীনের (রেফারি) দায়িত্ব পালন করেন জহুর মিয়া ও ইসলাম নূর মেম্বার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্বা আবু সুফিয়ান, ভাটি বাংলা কুস্তি ফেডারেশনের সভাপতি নুরুল হক আফিন্দি, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালিক, প্রিন্সিপাল নূরুজ আলী. মেম্বার ছালিক মিয়া, অ্যাড. শহিদুল ইসলাম , সিরাজুল ইসলাম পলাশসহ এলাকার গণ্যমাণ্য ব্যাক্তিবর্গ।
স্টাফ রিপোর্টার: 


















