একদিকে তীব্র গরম, অন্যদিকে দিনে ২০ থেকে ২২ ঘণ্টার লোডশেডিং। ঘুরছেনা ফ্যানের পাখা। বাসা-বাড়িতে পানির সংকট। এসবের যাঁতাকলে পিষ্ট দোয়ারাবাজার উপজেলার সাধারণ মানুষ। চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধকের ও কম হওয়ায় উপজেলার জনজীবন এখন চরম সংকট ও দূর্ভোগে।
অসহনীয় এই পরিস্থিতিতে একদিকে যেমন স্থবির হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, অন্যদিকে তেমনি অসুস্থতার দিকে ঝুঁকছে মানুষজন। দেখা দিয়েছে পানির সংকটও।
বিদ্যুৎ নিয়ে পল্লী বিদ্যুতের এমন চরম উদাসীনতায় গ্রাহকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ-অসন্তোষ।
এই পরিস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া এবং বিদ্যুৎ অফিস, উপকেন্দ্র ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির আশঙ্কা করেছে সুনামগঞ্জ জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি’র আওতাধীন দোয়ারাবাজার সাব-জোনাল অফিস।
এ কারণে উপজেলার বিদ্যুৎ অফিসের উপকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে বুধবার (১২ আগষ্ট) সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত চিঠি দিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস।
পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের চিঠি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে দোয়ারাবাজার উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎও পাওয়া যায়নি। ওই সময়ে প্রায় ৫০ শতাংশ এর উপরে লোডশেডিং হচ্ছে। ফলে অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ বিহীন থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের।
প্রশাসনের কাছে দেওয়া চিঠিতে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে গ্রাহকদের সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। ইতোমধ্যে কোনো কোনো এলাকায় গ্রাহকদের অসন্তোষ ও চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ অফিস ও উপকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে প্রশাসনের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক এলাকায় একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে চার-পাঁচ ঘণ্টার আগে আর আসে না। বিদ্যুৎ আসার পরও কিছুক্ষণ পর আবার চলে যাচ্ছে। ফলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কয়েক ঘণ্টার বেশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি বিদ্যুৎ ১ ঘন্টা স্থায়িত্ব হচ্ছেনা বলেও জানান তারা।
উপজেলার নরসিংপুরের বাসিন্দা নুরুল হক জানান, প্রায় দুই মাস ধরে তীব্র লোডশেডিং চলছে। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ থাকে না। ২৪ ঘণ্টায় ৪ ঘন্টা ও ঠিকমতো বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না।
বাংলাবাজার এলাকার বাসিন্দা আল-আমিন
বলেন, গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। কারেন্ট এই আসে, এই যায়। ফ্যান ঘুরতে শুরু করলেই আবার বিদ্যুৎ চলে যায়।
একবার চলে গেলে চার-পাঁচ ঘণ্টার আগে ফিরে আসে না। আসলে আবার আধাঘন্টা পর আবার চলে যায়। এতে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের কষ্ট সবচেয়ে বেশি।
বিদ্যুৎ না থাকায় বাসার পানির মোটর চালানো যাচ্ছে না। প্রচণ্ড গরমে ঘুম ও স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। সন্তানদের পড়াশোনাতেও সমস্যা হচ্ছে।
দোয়ারাবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিসের এজিএম আব্দুর রশিদ বলেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় বাধ্য হয়ে ঘন ঘন লোডশেডিং করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সব অফিস, উপকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদারে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি: সোহেল মিয়া 


















