১১:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তমা কনস্ট্রাকশনের চুক্তি বাতিল, নতুন লক্ষ্য ২০২৮

আড়াই বছরের সেতু আট বছরেও অধরা: যাদুকাটায় আটকে আছে সুনামগঞ্জের স্বপ্ন

আড়াই বছরে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল জেলার দীর্ঘতম সেতুর। অথচ আট বছর পেরিয়ে গেলেও সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে যাদুকাটা নদীর ওপর নির্মাণাধীন ‘শাহ আরেফিন (রহ.)-অদ্বৈত মহাপ্রভু মৈত্রী সেতু’র কাজ আজও শেষ হয়নি।

 

চার বছর ধরে ‘আগামী জুনে’র আশ্বাস দিয়ে আসা এলজিইডি এখন বলছে—কাজ শেষ হতে লাগবে আরও দুই বছর। অর্থাৎ, ২০২৮ সালের আগে যাদুকাটায় যাতায়াতের স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না এলাকাবাসীর।২০১৮ সালের মার্চে প্রায় ৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৫০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে ‘তমা কনস্ট্রাকশন’।

 

২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে কাজ হস্তান্তরের কথা থাকলেও করোনা, বন্যা ও নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ার অজুহাতে তারা বারবার সময়ক্ষেপণ করে। সর্বশেষ গত ১৯ মে রাতে নির্মাণাধীন অবস্থায় সেতুর পাঁচটি গার্ডার নদীতে ধসে পড়ে। এরপরই নড়েচড়ে বসে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।

 

বাতিল করা হয় তমা কনস্ট্রাকশনের চুক্তি।এলজিইডির সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, সেতুর প্রায় ৩০ ভাগ কাজ এখনো বাকি। চলতি মাসেই নতুন দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে। তবে এই বাকি কাজ শেষ করতেই আরও দুই বছর লেগে যেতে পারে।

 

অর্থনীতি ও পর্যটনে বিশাল ধাক্কাএই সেতুটি কেবল তাহিরপুর নয়, পুরো জেলার পর্যটন ও অর্থনীতির প্রাণভোমরা। টাঙ্গুয়ার হাওর, দেশের বৃহত্তম শিমুলবাগান, বারিক টিলা ও নিলাদ্রি লেকের মতো জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোর যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম এই রুট। এ ছাড়া বগছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী শুল্কস্টেশনের কোটি টাকার সীমান্ত বাণিজ্য থমকে আছে এই এক সেতুর অভাবে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাদুকাটা নদীর খেয়া পারাপার হতে গিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি।

 

মধ্যনগর হয়ে ঢাকার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ তৈরি হলেও সেতুর অভাবে তার সুফল পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ।সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “একটি সেতুর জন্য এলাকাবাসী আর কত দিন অপেক্ষা করবে? নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করে দ্রুত কাজ শেষ করতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

তবে এলাকাবাসী ও সংস্কৃতিকর্মীদের মনে এখন একটাই সংশয়—নতুন দরপত্র আর নতুন ‘জুনে’র আশ্বাসে সত্যিই কি শেষ হবে যাদুকাটার এই অন্তহীন অপেক্ষা?

টেগ :
জনপ্রিয় পোস্ট

যানজটে নাকাল সুনামগঞ্জ পৌর শহর: ফুটপাত ও সড়ক মুক্ত করতে চাই টেকসই পদক্ষেপ

তমা কনস্ট্রাকশনের চুক্তি বাতিল, নতুন লক্ষ্য ২০২৮

আড়াই বছরের সেতু আট বছরেও অধরা: যাদুকাটায় আটকে আছে সুনামগঞ্জের স্বপ্ন

আপডেট সময় : ০৬:৩০:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

আড়াই বছরে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল জেলার দীর্ঘতম সেতুর। অথচ আট বছর পেরিয়ে গেলেও সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে যাদুকাটা নদীর ওপর নির্মাণাধীন ‘শাহ আরেফিন (রহ.)-অদ্বৈত মহাপ্রভু মৈত্রী সেতু’র কাজ আজও শেষ হয়নি।

 

চার বছর ধরে ‘আগামী জুনে’র আশ্বাস দিয়ে আসা এলজিইডি এখন বলছে—কাজ শেষ হতে লাগবে আরও দুই বছর। অর্থাৎ, ২০২৮ সালের আগে যাদুকাটায় যাতায়াতের স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না এলাকাবাসীর।২০১৮ সালের মার্চে প্রায় ৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৫০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে ‘তমা কনস্ট্রাকশন’।

 

২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে কাজ হস্তান্তরের কথা থাকলেও করোনা, বন্যা ও নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ার অজুহাতে তারা বারবার সময়ক্ষেপণ করে। সর্বশেষ গত ১৯ মে রাতে নির্মাণাধীন অবস্থায় সেতুর পাঁচটি গার্ডার নদীতে ধসে পড়ে। এরপরই নড়েচড়ে বসে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।

 

বাতিল করা হয় তমা কনস্ট্রাকশনের চুক্তি।এলজিইডির সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, সেতুর প্রায় ৩০ ভাগ কাজ এখনো বাকি। চলতি মাসেই নতুন দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে। তবে এই বাকি কাজ শেষ করতেই আরও দুই বছর লেগে যেতে পারে।

 

অর্থনীতি ও পর্যটনে বিশাল ধাক্কাএই সেতুটি কেবল তাহিরপুর নয়, পুরো জেলার পর্যটন ও অর্থনীতির প্রাণভোমরা। টাঙ্গুয়ার হাওর, দেশের বৃহত্তম শিমুলবাগান, বারিক টিলা ও নিলাদ্রি লেকের মতো জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোর যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম এই রুট। এ ছাড়া বগছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী শুল্কস্টেশনের কোটি টাকার সীমান্ত বাণিজ্য থমকে আছে এই এক সেতুর অভাবে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাদুকাটা নদীর খেয়া পারাপার হতে গিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি।

 

মধ্যনগর হয়ে ঢাকার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ তৈরি হলেও সেতুর অভাবে তার সুফল পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ।সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “একটি সেতুর জন্য এলাকাবাসী আর কত দিন অপেক্ষা করবে? নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করে দ্রুত কাজ শেষ করতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

তবে এলাকাবাসী ও সংস্কৃতিকর্মীদের মনে এখন একটাই সংশয়—নতুন দরপত্র আর নতুন ‘জুনে’র আশ্বাসে সত্যিই কি শেষ হবে যাদুকাটার এই অন্তহীন অপেক্ষা?