১২:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শান্তিগঞ্জে বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকে না, মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে গ্রাহকের ক্ষোভ

প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘনঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন শান্তিগঞ্জ উপজেলার মানুষ। দিনের বেশির ভাগ সময়ই বিদ্যুৎ থাকছে না আট ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রোগী ও বয়োবৃদ্ধদের দুর্ভোগও বেড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, উপজেলার পল্লী বিদ্যুতের সবগুলো ফিডারে দিনে অন্তত ১০ থেকে ১২ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে। কয়েক দফায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে মানুষের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন গ্রাহকরা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গরমের সাথে ঘনঘন লোডশেডিংয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যেও মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কম্পিউটার, ফটোকপি, প্রিন্টিং ও অন্যান্য বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

ব্যবসায়ী আকবর আলী, জাকির হোসেন ও নাঈম মিয়া বলেন, আমাদের ব্যবসার অবস্থা খুবই খারাপ। দিনে অন্তত ১০ থেকে ১২ বার বিদ্যুৎ থাকে না। প্রচণ্ড গরম পড়েছে। দোকানে বসে ব্যবসা করার মতো অবস্থাও নেই।

কম্পিউটারনির্ভর ব্যবসায়ী সজীব মিয়া ও রাহাত হোসেন বলেন, আমাদের কাজই বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। কম্পিউটার চালু করে একটি কাজ শেষ করার আগেই বিদ্যুৎ চলে যায়। ফটোকপি করাতে কাস্টমার এলেও বিদ্যুৎ না থাকায় ফিরে যেতে হয়।

শিক্ষার্থী আবিদা সুলতানা, উপমা আক্তার ও ফাহিম আহমদ বলেন, প্রচণ্ড গরমে স্কুলে ক্লাস করতে হয়। আবার সন্ধ্যায় বাড়িতে পড়তে বসার সময়ও বিদ্যুৎ থাকে না। সামনে বার্ষিক পরীক্ষা। লোডশেডিংয়ের কারণে আমাদের প্রস্তুতিতে ভীষণ ক্ষতি হচ্ছে।

ভুক্তভোগী স্থানীয়রা জানান, বিদ্যুৎ আসে, কিছুক্ষণ পরই চলে যায়—এভাবে দিনের পর দিন চলতে পারে না। তারা দ্রুত লোডশেডিং কমিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। এদিকে শান্তিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

শান্তিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিসের এজিএম রাসেল আহমদ বলেন, আমাদের চাহিদা ৭ মেগাওয়াট। কিন্তু বর্তমানে সাপ্লাই পাচ্ছি আড়াই থেকে ৩ মেগাওয়াট। ফলে বাধ্য হয়েই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। পাশাপাশি প্রচণ্ড গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, আবহাওয়া কিছুটা শীতল হলে বিদ্যুতের এই সংকট থাকবে না। তবে, কবে নাগাদ বিদ্যুতের এই যাওয়া-আসার খেলা বন্ধ হতে পারে এমন প্রশ্নে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

টেগ :
জনপ্রিয় পোস্ট

শান্তিগঞ্জে বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকে না, মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে গ্রাহকের ক্ষোভ

শান্তিগঞ্জে বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকে না, মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে গ্রাহকের ক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৭:৪৯:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘনঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন শান্তিগঞ্জ উপজেলার মানুষ। দিনের বেশির ভাগ সময়ই বিদ্যুৎ থাকছে না আট ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রোগী ও বয়োবৃদ্ধদের দুর্ভোগও বেড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, উপজেলার পল্লী বিদ্যুতের সবগুলো ফিডারে দিনে অন্তত ১০ থেকে ১২ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে। কয়েক দফায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে মানুষের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন গ্রাহকরা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গরমের সাথে ঘনঘন লোডশেডিংয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যেও মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কম্পিউটার, ফটোকপি, প্রিন্টিং ও অন্যান্য বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

ব্যবসায়ী আকবর আলী, জাকির হোসেন ও নাঈম মিয়া বলেন, আমাদের ব্যবসার অবস্থা খুবই খারাপ। দিনে অন্তত ১০ থেকে ১২ বার বিদ্যুৎ থাকে না। প্রচণ্ড গরম পড়েছে। দোকানে বসে ব্যবসা করার মতো অবস্থাও নেই।

কম্পিউটারনির্ভর ব্যবসায়ী সজীব মিয়া ও রাহাত হোসেন বলেন, আমাদের কাজই বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। কম্পিউটার চালু করে একটি কাজ শেষ করার আগেই বিদ্যুৎ চলে যায়। ফটোকপি করাতে কাস্টমার এলেও বিদ্যুৎ না থাকায় ফিরে যেতে হয়।

শিক্ষার্থী আবিদা সুলতানা, উপমা আক্তার ও ফাহিম আহমদ বলেন, প্রচণ্ড গরমে স্কুলে ক্লাস করতে হয়। আবার সন্ধ্যায় বাড়িতে পড়তে বসার সময়ও বিদ্যুৎ থাকে না। সামনে বার্ষিক পরীক্ষা। লোডশেডিংয়ের কারণে আমাদের প্রস্তুতিতে ভীষণ ক্ষতি হচ্ছে।

ভুক্তভোগী স্থানীয়রা জানান, বিদ্যুৎ আসে, কিছুক্ষণ পরই চলে যায়—এভাবে দিনের পর দিন চলতে পারে না। তারা দ্রুত লোডশেডিং কমিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। এদিকে শান্তিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

শান্তিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিসের এজিএম রাসেল আহমদ বলেন, আমাদের চাহিদা ৭ মেগাওয়াট। কিন্তু বর্তমানে সাপ্লাই পাচ্ছি আড়াই থেকে ৩ মেগাওয়াট। ফলে বাধ্য হয়েই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। পাশাপাশি প্রচণ্ড গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, আবহাওয়া কিছুটা শীতল হলে বিদ্যুতের এই সংকট থাকবে না। তবে, কবে নাগাদ বিদ্যুতের এই যাওয়া-আসার খেলা বন্ধ হতে পারে এমন প্রশ্নে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।