০৯:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাউল সাধক শাহ আবদুল করিম স্মরণে সুনামগঞ্জে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

বাংলার বাউল সংগীতের কিংবদন্তি সাধক ও বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টায় সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলার আয়োজনে হাছন রাজা মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল চৌধুরী পাভেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তিনি। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাসাসের আহ্বায়ক ও সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ (অব.) শেরগুল আহমেদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লোকসংস্কৃতি গবেষক সুভাষ উদ্দিন, প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার খলিল রহমান, সাংবাদিক লতিফুর রহমান রাজু, বাউল সমিতির সভাপতি বাউল তছকির আলীসহ অনেকে।

আলোচনা পর্বে বক্তারা শাহ আবদুল করিমের জীবন, দর্শন ও বাংলা লোকসংগীতে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরেন। পরে তাঁর লেখা বিভিন্ন জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেন সুনামগঞ্জের প্রখ্যাত বাউল শিল্পীরা। এতে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা আবেগঘন পরিবেশে বাউল সংগীত উপভোগ করেন।

শাহ আবদুল করিম বাংলার লোকসংগীতকে আধুনিক প্রজন্মের কাছে নতুনভাবে পরিচিত করে তুলেছিলেন। তাঁর গানে যেমন প্রেম, বিরহ ও মানবিকতার কথা উঠে এসেছে, তেমনি সমাজের বৈষম্য, অন্যায়-অবিচার, শোষণ ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধেও ছিল প্রতিবাদী সুর।

১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের উজানধল গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন শাহ আবদুল করিম। শৈশব থেকেই সংগীতের প্রতি তাঁর গভীর আকর্ষণ ছিল। একতারা হাতে গ্রামবাংলার পথে পথে ঘুরে বেড়ানো এই সাধক পরবর্তীতে বাউল ও আধ্যাত্মিক সংগীতের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।

কমর উদ্দিন, রশিদ উদ্দিন ও শাহ ইব্রাহিম মোস্তান বকসের শিষ্যত্ব গ্রহণ করে তিনি সংগীতচর্চায় সমৃদ্ধ হন। ফকির লালন শাহ, পাঞ্জু শাহ ও দুদ্দু শাহর দর্শনেও তিনি গভীরভাবে অনুপ্রাণিত ছিলেন। নিজস্ব সুর ও দর্শনের মাধ্যমে তিনি বাংলার লোকসংগীতকে দিয়েছেন স্বতন্ত্র মাত্রা।

‘বন্দে মায়া লাগাইছে’, ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’, ‘গাড়ি চলে না’সহ অসংখ্য কালজয়ী গান সৃষ্টি করেছেন শাহ আবদুল করিম। তাঁর গান দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০১ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন। এছাড়া রাগিব-রাবেয়া সাহিত্য পুরস্কার, মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননাসহ বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেন এই বাউল সাধক।

২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ৯৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন শাহ আবদুল করিম। তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁর গান ও দর্শন বাংলার লোকসংগীতের ভুবনে অমর হয়ে আছে।

টেগ :
জনপ্রিয় পোস্ট

বাউল সাধক শাহ আবদুল করিম স্মরণে সুনামগঞ্জে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

বাউল সাধক শাহ আবদুল করিম স্মরণে সুনামগঞ্জে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

আপডেট সময় : ০৭:৪৭:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলার বাউল সংগীতের কিংবদন্তি সাধক ও বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টায় সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলার আয়োজনে হাছন রাজা মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল চৌধুরী পাভেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তিনি। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাসাসের আহ্বায়ক ও সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ (অব.) শেরগুল আহমেদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লোকসংস্কৃতি গবেষক সুভাষ উদ্দিন, প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার খলিল রহমান, সাংবাদিক লতিফুর রহমান রাজু, বাউল সমিতির সভাপতি বাউল তছকির আলীসহ অনেকে।

আলোচনা পর্বে বক্তারা শাহ আবদুল করিমের জীবন, দর্শন ও বাংলা লোকসংগীতে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরেন। পরে তাঁর লেখা বিভিন্ন জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেন সুনামগঞ্জের প্রখ্যাত বাউল শিল্পীরা। এতে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা আবেগঘন পরিবেশে বাউল সংগীত উপভোগ করেন।

শাহ আবদুল করিম বাংলার লোকসংগীতকে আধুনিক প্রজন্মের কাছে নতুনভাবে পরিচিত করে তুলেছিলেন। তাঁর গানে যেমন প্রেম, বিরহ ও মানবিকতার কথা উঠে এসেছে, তেমনি সমাজের বৈষম্য, অন্যায়-অবিচার, শোষণ ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধেও ছিল প্রতিবাদী সুর।

১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের উজানধল গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন শাহ আবদুল করিম। শৈশব থেকেই সংগীতের প্রতি তাঁর গভীর আকর্ষণ ছিল। একতারা হাতে গ্রামবাংলার পথে পথে ঘুরে বেড়ানো এই সাধক পরবর্তীতে বাউল ও আধ্যাত্মিক সংগীতের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।

কমর উদ্দিন, রশিদ উদ্দিন ও শাহ ইব্রাহিম মোস্তান বকসের শিষ্যত্ব গ্রহণ করে তিনি সংগীতচর্চায় সমৃদ্ধ হন। ফকির লালন শাহ, পাঞ্জু শাহ ও দুদ্দু শাহর দর্শনেও তিনি গভীরভাবে অনুপ্রাণিত ছিলেন। নিজস্ব সুর ও দর্শনের মাধ্যমে তিনি বাংলার লোকসংগীতকে দিয়েছেন স্বতন্ত্র মাত্রা।

‘বন্দে মায়া লাগাইছে’, ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’, ‘গাড়ি চলে না’সহ অসংখ্য কালজয়ী গান সৃষ্টি করেছেন শাহ আবদুল করিম। তাঁর গান দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০১ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন। এছাড়া রাগিব-রাবেয়া সাহিত্য পুরস্কার, মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননাসহ বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেন এই বাউল সাধক।

২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ৯৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন শাহ আবদুল করিম। তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁর গান ও দর্শন বাংলার লোকসংগীতের ভুবনে অমর হয়ে আছে।