০৩:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজায় ৪৮ ঘণ্টায় ১৪ হাজার শিশুর মৃত্যু হতে পারে: জাতিসংঘের তীব্র আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদনঃ গাজার ভয়াবহ মানবিক সংকট আরও গভীরতর হতে চলেছে। জাতিসংঘের মানবিক কার্যক্রমবিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গাজায় ১৪ হাজার শিশুর মৃত্যু হতে পারে, যদি অবিলম্বে মানবিক সহায়তা না পৌঁছে।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “এটি আর শুধু একটি সংকট নয়, এটি একটি গণবিনাশের আশঙ্কা। আমাদের সামনে এখন সময় অত্যন্ত সীমিত। গাজায় শিশুরা ক্ষুধায়, পানির অভাবে এবং চিকিৎসাহীনতায় ধুঁকছে। প্রতিটি ঘণ্টা তাদের জীবনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা।”

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৫ লাখ মানুষ চরম খাদ্য সংকটে রয়েছেন। প্রতি পাঁচজন ফিলিস্তিনির একজন বর্তমানে অনাহারের মুখোমুখি। অনেকেই বাধ্য হয়ে পশুখাদ্য এবং বালু মেশানো ময়দা খাচ্ছেন।

টম ফ্লেচার বলেন, “যে সহায়তা গাজায় পৌঁছাচ্ছে, তা এক সমুদ্রের মাঝে একটি ফোঁটার মতো। এই পর্যায়ে যা দেওয়া হচ্ছে, তা প্রয়োজনের এক শতাংশও না। এটা একটি মানবিক ব্যর্থতা।”

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি মাত্র নয়টি ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে। যদিও এই ট্রাকগুলো কিছু খাদ্য ও ওষুধ বহন করে, তবুও তা নিদারুণভাবে পর্যাপ্ত নয়। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইসরায়েল অতিরিক্ত ১০০টি ট্রাকের অনুমতি দিলেও পরিস্থিতির জন্য তা যথেষ্ট নয় বলে মনে করছে জাতিসংঘ।

টম ফ্লেচার এবং অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থাগুলো গাজায় মানবিক করিডোর অবিলম্বে খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “শিশুদের জীবন কোনো রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হতে পারে না। যুদ্ধবিরতির সুযোগে দ্রুত ও পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানো না গেলে হাজার হাজার শিশুর মৃত্যু অনিবার্য হয়ে উঠবে।”

এই বিবৃতির পর বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্রগুলো, বিশেষত ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো, গাজায় অবরোধ শিথিল এবং মানবিক সহায়তা অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অবস্থা চলতে থাকলে গাজায় শিশুদের জন্য এটি হতে পারে সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। একে শুধু যুদ্ধ পরিস্থিতি নয়, বরং এক ‘নীরব গণহত্যা’ বলেও আখ্যা দিচ্ছেন মানবাধিকারকর্মীরা।

গাজার শিশুদের জীবনের জন্য পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের বিবেক এখন গাজার দিকে তাকিয়ে আছে— দেখতে, শুনতে এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিতে। একটি প্রজন্ম আজ ধ্বংসের মুখোমুখি, এবং তা ঠেকানোর সময় খুবই সীমিত।

টেগ :
জনপ্রিয় পোস্ট

দোয়ারাবাজারে ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা প্রদান

গাজায় ৪৮ ঘণ্টায় ১৪ হাজার শিশুর মৃত্যু হতে পারে: জাতিসংঘের তীব্র আশঙ্কা

আপডেট সময় : ০৫:১৮:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ মে ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদনঃ গাজার ভয়াবহ মানবিক সংকট আরও গভীরতর হতে চলেছে। জাতিসংঘের মানবিক কার্যক্রমবিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গাজায় ১৪ হাজার শিশুর মৃত্যু হতে পারে, যদি অবিলম্বে মানবিক সহায়তা না পৌঁছে।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “এটি আর শুধু একটি সংকট নয়, এটি একটি গণবিনাশের আশঙ্কা। আমাদের সামনে এখন সময় অত্যন্ত সীমিত। গাজায় শিশুরা ক্ষুধায়, পানির অভাবে এবং চিকিৎসাহীনতায় ধুঁকছে। প্রতিটি ঘণ্টা তাদের জীবনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা।”

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৫ লাখ মানুষ চরম খাদ্য সংকটে রয়েছেন। প্রতি পাঁচজন ফিলিস্তিনির একজন বর্তমানে অনাহারের মুখোমুখি। অনেকেই বাধ্য হয়ে পশুখাদ্য এবং বালু মেশানো ময়দা খাচ্ছেন।

টম ফ্লেচার বলেন, “যে সহায়তা গাজায় পৌঁছাচ্ছে, তা এক সমুদ্রের মাঝে একটি ফোঁটার মতো। এই পর্যায়ে যা দেওয়া হচ্ছে, তা প্রয়োজনের এক শতাংশও না। এটা একটি মানবিক ব্যর্থতা।”

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি মাত্র নয়টি ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে। যদিও এই ট্রাকগুলো কিছু খাদ্য ও ওষুধ বহন করে, তবুও তা নিদারুণভাবে পর্যাপ্ত নয়। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইসরায়েল অতিরিক্ত ১০০টি ট্রাকের অনুমতি দিলেও পরিস্থিতির জন্য তা যথেষ্ট নয় বলে মনে করছে জাতিসংঘ।

টম ফ্লেচার এবং অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থাগুলো গাজায় মানবিক করিডোর অবিলম্বে খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “শিশুদের জীবন কোনো রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হতে পারে না। যুদ্ধবিরতির সুযোগে দ্রুত ও পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানো না গেলে হাজার হাজার শিশুর মৃত্যু অনিবার্য হয়ে উঠবে।”

এই বিবৃতির পর বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্রগুলো, বিশেষত ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো, গাজায় অবরোধ শিথিল এবং মানবিক সহায়তা অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অবস্থা চলতে থাকলে গাজায় শিশুদের জন্য এটি হতে পারে সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। একে শুধু যুদ্ধ পরিস্থিতি নয়, বরং এক ‘নীরব গণহত্যা’ বলেও আখ্যা দিচ্ছেন মানবাধিকারকর্মীরা।

গাজার শিশুদের জীবনের জন্য পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের বিবেক এখন গাজার দিকে তাকিয়ে আছে— দেখতে, শুনতে এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিতে। একটি প্রজন্ম আজ ধ্বংসের মুখোমুখি, এবং তা ঠেকানোর সময় খুবই সীমিত।