ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলো পুনর্গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, ইরান পূর্ণ শক্তিতে গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাবে, তবে পরমাণু বোমা তৈরির কোনো পরিকল্পনা নেই।
রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রাজধানী তেহরানে ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থা পরিদর্শনের সময় এই ঘোষণা দেন। সেখানে তিনি সংস্থার জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করেন।
পেজেশকিয়ান বলেন,
“ভবন ও কারখানা ধ্বংস করে আমাদের আটকানো যাবে না। আমরা পূর্ণ শক্তি দিয়ে সেগুলো আবার তৈরি করবো।”
তিনি আরও জানান, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করা হবে।
“স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও রোগ নিরাময়ে আমরা পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহার করবো। এটি ইরানের অগ্রগতির অংশ, কোনো যুদ্ধের অস্ত্র নয়।”
গত জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের কয়েকটি পরমাণু স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওয়াশিংটন দাবি করেছিল, তেহরান গোপনে পরমাণু বোমা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছিল। তবে ইরান সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানায়, তাদের গবেষণা শুধুমাত্র বেসামরিক ও বৈজ্ঞানিক প্রয়োজনে।
হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, তেহরান যদি আবারও পরমাণু কর্মসূচি চালু করে, তবে নতুন করে সামরিক হামলার নির্দেশ দেওয়া হবে।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-র তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এবং সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে। দেশটি বারবার বলেছে, তারা পরমাণু অস্ত্র তৈরির বিরোধী এবং পরমাণু শক্তি শুধু অর্থনৈতিক ও চিকিৎসা গবেষণায় ব্যবহার করতে চায়।
পেজেশকিয়ানের এই ঘোষণাকে বিশ্লেষকরা ইরানের রাজনৈতিক দৃঢ়তার প্রকাশ হিসেবে দেখছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পরও তেহরান গবেষণা কার্যক্রম বন্ধ না করে বরং তা আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে—যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: রয়টার্স, ইরান রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম, আল জাজিরা
স্টাফ রিপোর্টার 




















