১১:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শান্তিগঞ্জে নবনির্মিত পাকা সড়কে ঠাকুরভোগ গ্রামের হাজারো মানুষের সস্তি

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার দুর্গম গ্রাম ঠাকুরভোগ। বর্ষায় চতুর্দিকে শুধু পানি আর পানি।সামান্য বৃষ্টি হলেই গ্রামটিতে চলাচলের প্রধান মাধ্যম মেঠোপথগুলো হয়ে উঠে দুঃখদুর্দশার জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। বিশেষ করে স্কুলগামী কোমলমতি শিক্ষার্থী, বয়োজ্যেষ্ঠ নারী-পুরুষ কিংবা রোগীদের জন্য এসব পিচ্ছিল; কাদাযুক্ত সড়ক হয়ে উঠে বর্ণনাতীত কষ্টের নাম। এমন বাস্তবতার কথা মাথায় রেখে এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদের বিশেষ বরাদ্দে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে উপজেলার পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের ঠাকুরভোগ গ্রামের বাসিন্দাদের মাঝে। এমপি কয়ছর আহমদের পৃথক বরাদ্দে দেওয়া সাড়ে ১৩ লক্ষ টাকায় গ্রামটিতে নির্মিত হয়েছে দু’টি সিসি ঢালাই সড়ক। ৫ লক্ষ টাকায় ঠাকুরভোগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬২০ ফুট দৈর্ঘ্যের সড়ক এবং দুই বারের বরাদ্দকৃত সাড়ে ৮ লক্ষ টাকায় নির্মিত হয়েছে রজনীগঞ্জ সড়ক থেকে পূর্ব পাড়ার বিলাল মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত ৮০০ ফুট দৈর্ঘ্যের সড়ক।

স্কুলের সড়ক নির্মাণ হওয়ায় সরাসরি উপকৃত হয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং পূর্বপাড়ার সড়কে হাসি ফুটেছে গ্রামবাসীর মুখে। তাঁরা জানান, বিগত বছরগুলোতে খুব কষ্ট করে স্কুলে যেতে হতো গ্রামের ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের। কাদা মাড়িয়ে যেতে হতো বলে স্কুলে যাওয়া অনেকটা অনিহায় পরিণত হয়েছিলো শিক্ষার্থীদের। উপস্থিতি ছিলো একেবারে কম। বৃষ্টি হলে পথিমধ্যে পা পিচলে কাদাজলে একাকার হতে হতো সোনামণিদের। বৃষ্টির দিন অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়ার কথা চিন্তাও করতো না। অনেকে আসতো ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করে। সংসদ সদস্য কয়ছর আহমদ ‘প্রাইয়োরিটি’ ভিত্তিতে এই সড়কটিতে বরাদ্দ দেওয়া দুর্ভোগ কমেছে স্কুল পরিবারের। এদিকে, ঠাকুরভোগ গ্রামের পূর্বপাড়ার সড়কের সংযোগ হয়েছে শান্তিগঞ্জ-রজনীগঞ্জ সড়কের সাথে। পূর্বপাড়ার সড়কটিতে ৮০০ ফুট দৈর্ঘ্যের জায়গায় পাকা করণ করা হয়েছে। এতে দুর্দশা কমেছে সড়কটি ব্যবহারকারী ঠাকুরভোগ ও সাপেরকোনা গ্রামের হাজারো মানুষের৷ তারা এখন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারেন এইসব রাস্তায়।

এলাকাবাসীর দাবি, শান্তিগঞ্জ-রজনীগঞ্জ সড়কটি নির্মিত হলে সরাসরি উপজেলা সদরের সাথে সড়কপথের সংযোগ স্থাপন হবে ঠাকুরভোগ, সাপেরকোনা, শান্তিপুর, টাইলা, দুর্বাকান্দা, দুর্গাপুর সহ পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের সকল মানুষের। এতে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, লেখাপড়ার উন্নয়নসহ জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসবে ইউনিয়নবাসীর৷ তাই চলতি অর্থ বছরে শান্তিগঞ্জ-রজনীগঞ্জ সড়কটিও দ্রুত নির্মাণের জন্য সংসদ সদস্যের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা। পাশাপাশি গ্রামের আভ্যন্তরীন ছোট ছোট সড়ক নির্মাণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখারও দাবি জানান গ্রামের সাধারণ মানুষ।

ঠাকুরভোগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মরিয়ম তালুকদার ও তানিশা জান্নাত বলেন, আগে কাদা-পানির কারণে স্কুলে আসতে পারতাম না। এখন দৌঁড়ে স্কুলে আসতে পারি। স্কুলের রাস্তাটি পাকা করে দেওয়ায় মাননীয় এমপি স্যারকে আমরা ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক সমীরণ চন্দ্র দাস বলেন, আমি যখন এই স্কুলে যোগদান করি তখন ৫/৬শ ফুট জায়গা খুবই কর্দমাক্ত ছিলো। জুতা হাতে নিয়ে স্কুলে আসতে হতো। বিএনপি সরকার গঠন করার পর, মাননীয় এমপি মহোদয়ের বরাদ্দে রাস্তাটি সিসি ঢালাই হয়েছে বলে আমরা এখন জুতা পায়ে দিয়ে নির্বিঘ্নে স্কুলে আসতে পারি। আগে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি অনেক কম ছিলো এখন আমাদের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ৯০ শতাংশের উপরে। গুরুত্বসহকারে আমাদের রাস্তাটি করে দেওয়ায় এমপি সাহেবের প্রতি আমরা ভীষণ কৃতজ্ঞ।

সিলেট মদনমোহন কলেজ ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শিহাব খান, গ্রামের বাসিন্দা সেলিম খান, শামসুল আলম, মো. কালন মিয়া ও মাও. জাহাঙ্গীর খাঁন বলেন, আমরা মাননীয় সংসদ সদস্য কয়ছর আহমদ ভাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞ কারণ তাঁর কাছে আমরা যা চেয়েছিলাম তা পেয়েছি। তিনি বলেছেন, যদি আমাদের আরো কিছু লাগে আমরা যেনো আবেদন করি। আমাদের দাবি হচ্ছে- যেসব সড়কে তিনি বরাদ্দ দিচ্ছেন তা অব্যাহত থাকুক পাশাপাশি শান্তিগঞ্জ-রজনীগঞ্জ সড়কটি যেনো এই অর্থ বছরে করে দেন। আমরা আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো।

টেগ :
জনপ্রিয় পোস্ট

সুনামগঞ্জে ভিডিপি-টিডিপি প্রশিক্ষণের সমাপনী, ৬৪৮ প্রশিক্ষণার্থীর মাঝে ১,৫০০ গাছের চারা বিতরণ

শান্তিগঞ্জে নবনির্মিত পাকা সড়কে ঠাকুরভোগ গ্রামের হাজারো মানুষের সস্তি

আপডেট সময় : ০৭:৩৭:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার দুর্গম গ্রাম ঠাকুরভোগ। বর্ষায় চতুর্দিকে শুধু পানি আর পানি।সামান্য বৃষ্টি হলেই গ্রামটিতে চলাচলের প্রধান মাধ্যম মেঠোপথগুলো হয়ে উঠে দুঃখদুর্দশার জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। বিশেষ করে স্কুলগামী কোমলমতি শিক্ষার্থী, বয়োজ্যেষ্ঠ নারী-পুরুষ কিংবা রোগীদের জন্য এসব পিচ্ছিল; কাদাযুক্ত সড়ক হয়ে উঠে বর্ণনাতীত কষ্টের নাম। এমন বাস্তবতার কথা মাথায় রেখে এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদের বিশেষ বরাদ্দে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে উপজেলার পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের ঠাকুরভোগ গ্রামের বাসিন্দাদের মাঝে। এমপি কয়ছর আহমদের পৃথক বরাদ্দে দেওয়া সাড়ে ১৩ লক্ষ টাকায় গ্রামটিতে নির্মিত হয়েছে দু’টি সিসি ঢালাই সড়ক। ৫ লক্ষ টাকায় ঠাকুরভোগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬২০ ফুট দৈর্ঘ্যের সড়ক এবং দুই বারের বরাদ্দকৃত সাড়ে ৮ লক্ষ টাকায় নির্মিত হয়েছে রজনীগঞ্জ সড়ক থেকে পূর্ব পাড়ার বিলাল মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত ৮০০ ফুট দৈর্ঘ্যের সড়ক।

স্কুলের সড়ক নির্মাণ হওয়ায় সরাসরি উপকৃত হয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং পূর্বপাড়ার সড়কে হাসি ফুটেছে গ্রামবাসীর মুখে। তাঁরা জানান, বিগত বছরগুলোতে খুব কষ্ট করে স্কুলে যেতে হতো গ্রামের ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের। কাদা মাড়িয়ে যেতে হতো বলে স্কুলে যাওয়া অনেকটা অনিহায় পরিণত হয়েছিলো শিক্ষার্থীদের। উপস্থিতি ছিলো একেবারে কম। বৃষ্টি হলে পথিমধ্যে পা পিচলে কাদাজলে একাকার হতে হতো সোনামণিদের। বৃষ্টির দিন অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়ার কথা চিন্তাও করতো না। অনেকে আসতো ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করে। সংসদ সদস্য কয়ছর আহমদ ‘প্রাইয়োরিটি’ ভিত্তিতে এই সড়কটিতে বরাদ্দ দেওয়া দুর্ভোগ কমেছে স্কুল পরিবারের। এদিকে, ঠাকুরভোগ গ্রামের পূর্বপাড়ার সড়কের সংযোগ হয়েছে শান্তিগঞ্জ-রজনীগঞ্জ সড়কের সাথে। পূর্বপাড়ার সড়কটিতে ৮০০ ফুট দৈর্ঘ্যের জায়গায় পাকা করণ করা হয়েছে। এতে দুর্দশা কমেছে সড়কটি ব্যবহারকারী ঠাকুরভোগ ও সাপেরকোনা গ্রামের হাজারো মানুষের৷ তারা এখন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারেন এইসব রাস্তায়।

এলাকাবাসীর দাবি, শান্তিগঞ্জ-রজনীগঞ্জ সড়কটি নির্মিত হলে সরাসরি উপজেলা সদরের সাথে সড়কপথের সংযোগ স্থাপন হবে ঠাকুরভোগ, সাপেরকোনা, শান্তিপুর, টাইলা, দুর্বাকান্দা, দুর্গাপুর সহ পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের সকল মানুষের। এতে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, লেখাপড়ার উন্নয়নসহ জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসবে ইউনিয়নবাসীর৷ তাই চলতি অর্থ বছরে শান্তিগঞ্জ-রজনীগঞ্জ সড়কটিও দ্রুত নির্মাণের জন্য সংসদ সদস্যের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা। পাশাপাশি গ্রামের আভ্যন্তরীন ছোট ছোট সড়ক নির্মাণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখারও দাবি জানান গ্রামের সাধারণ মানুষ।

ঠাকুরভোগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মরিয়ম তালুকদার ও তানিশা জান্নাত বলেন, আগে কাদা-পানির কারণে স্কুলে আসতে পারতাম না। এখন দৌঁড়ে স্কুলে আসতে পারি। স্কুলের রাস্তাটি পাকা করে দেওয়ায় মাননীয় এমপি স্যারকে আমরা ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক সমীরণ চন্দ্র দাস বলেন, আমি যখন এই স্কুলে যোগদান করি তখন ৫/৬শ ফুট জায়গা খুবই কর্দমাক্ত ছিলো। জুতা হাতে নিয়ে স্কুলে আসতে হতো। বিএনপি সরকার গঠন করার পর, মাননীয় এমপি মহোদয়ের বরাদ্দে রাস্তাটি সিসি ঢালাই হয়েছে বলে আমরা এখন জুতা পায়ে দিয়ে নির্বিঘ্নে স্কুলে আসতে পারি। আগে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি অনেক কম ছিলো এখন আমাদের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ৯০ শতাংশের উপরে। গুরুত্বসহকারে আমাদের রাস্তাটি করে দেওয়ায় এমপি সাহেবের প্রতি আমরা ভীষণ কৃতজ্ঞ।

সিলেট মদনমোহন কলেজ ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শিহাব খান, গ্রামের বাসিন্দা সেলিম খান, শামসুল আলম, মো. কালন মিয়া ও মাও. জাহাঙ্গীর খাঁন বলেন, আমরা মাননীয় সংসদ সদস্য কয়ছর আহমদ ভাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞ কারণ তাঁর কাছে আমরা যা চেয়েছিলাম তা পেয়েছি। তিনি বলেছেন, যদি আমাদের আরো কিছু লাগে আমরা যেনো আবেদন করি। আমাদের দাবি হচ্ছে- যেসব সড়কে তিনি বরাদ্দ দিচ্ছেন তা অব্যাহত থাকুক পাশাপাশি শান্তিগঞ্জ-রজনীগঞ্জ সড়কটি যেনো এই অর্থ বছরে করে দেন। আমরা আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো।