১০:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নয়নের নয়ন মেলানোর স্বপ্ন আটকে আছে টাকার কাছে

যে বয়সে লেখা পড়া,খেলাধুলা হইহল্লোল করে দিন পার করার কথা,না হলে ধরতে পারতো অভাবের সংসারের হাল সেই সময়েই অন্যের জমিতে তৈরী করা জীর্ণ শীর্ণ বসত ঘরের বিছানায় শুয়ে না হয় চেয়ারে বসে সময় পার করছে নয়ন মিয়া (১৩)।

এমনি অবস্থায় আছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভাটি জামালগড় গ্রামের দিনমজুর সিরাজুল ইসলাম এর ছেলে নয়ন মিয়া।

দুটি চোখেই তার নষ্ট হয়ে গেছে। কি দিন কি রাত কিছুই বুঝতে পারে না,সাদা না কালো পৃথিবীটা তাও দেখেনি নয়ন।

দেখতে পায়না সৃষ্টিকর্তার তৈরি সুন্দর পৃথিবী, শুধু অনুভব করতে পারে আলো বাতাশ। ঘর থেকে বের হলেই প্রয়োজন পরে একজন সহযোগির, না হলে চলায় কঠিন হয়ে পরে।

জীবনটা একটা যন্ত্রের মত হয়ে গেছে আক্ষেপ করে জানায় নয়ন মিয়া। নয়ন আরও জানায়, মা বাবার স্বপ্ন ছিলো বড় হয়ে চাকুরী করে মা বাবার জন্য বড় বাড়ি বানাবেন। সেই স্বপ্ন রয়ে গেছে অধরা। চোখের চিকিৎসা করাতে প্রতিদিনের মায়ের কাছে বায়না ধরে নয়ন মিয়া।

বুকের ভিতর চাপা কষ্ট আর আক্ষেপ নিয়ে দিন পার করছে নয়ন তার পরিবার।স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, আশায় আছে নয়নের পরিবার চিকিৎসা করিয়ে চোখের আলো ফিরে পাবে পাবে সুস্থ জীবনের ছোঁয়া। কিন্তু পরিবারের অসচ্ছলতা ও অর্থ সংকটের কারনে থমকে আছে সকল আশা আর প্রত্যাশা নয়ন ও তার মা বাবার। সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতায় নয়ন আবারও পৃথিবীর আলো দেখবে এমনটা প্রত্যাশা করছেন সচেতন মহল। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,কয়েক বছর আগেও অন্য সবার মতোই স্বাভাবিক জীবন ছিল নয়নের।

কিন্তু খেলতে গিয়ে কাঁঠাল গাছের নিচে বসে থাকার সময় হঠাৎ করে চোখে অজ্ঞাত একটি বস্তু পড়ার পর থেকেই বদলে যায় তার জীবন। ধীরে ধীরে হারিয়ে যায় দুই চোখের দৃষ্টি। চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলেও দারিদ্র্যের কারণে চিকিৎসা আর এগিয়ে নিতে পারেনি পরিবার। এখন আলো ফিরে পাওয়ার আশায় মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় দিন কাটছে নয়নের।

নয়নের বাবা সিরাজুল ইসলাম জানান, স্কুলে যাওয়ার তীব্র ইচ্ছা থাকলেও আট বছর আগে ঘটে যাওয়া এক দুর্ঘটনা তার জীবনের সব স্বপ্নকে থামিয়ে দেয়। পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাবে একপর্যায়ে নয়ন মিয়া দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলে। অভাব-অনটনের সংসারে প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খান, তাই চিকিৎসা করা আর সম্ভব হয় নি।

তিনি আরও জানান, নিজের জমিজমা না থাকায় পরের জমিতে ঘর বানিয়ে বসবাস করেন পরিবার নিয়ে। নিজেও হার্টের রোগী হওয়ায় কাজে যেতে পারেন না প্রতিদিন। সংসার চালাতেই রীতিমতো সংগ্রাম করতে হয়।

তাই নয়নের উন্নত চিকিৎসার খরচ বহন করা কোনো ভাবেই তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।নয়নের মা সারজিনা বেগম জানান,উন্নত চিকিৎসা করার সুযোগ পেলে নয়ন হয়তো আবার পৃথিবীর আলো দেখতে পারতো।

আমি মরার আগে ছেলের চোখের আলো দেখে যেতে নয়নের উন্নত চিকিৎসা করতে সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চাইলেন নয়নের মা। তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী জানান,পরিবারটি আসলেই গরিব ও অসহায় নয়নের পাশে সরকার ও বিত্তবানগন সহযোগিতা নিয়ে দাঁড়ালে তার চিকিৎসা করাটা সহজ হতো।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক জানান, নয়ন কে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।

টেগ :
জনপ্রিয় পোস্ট

জগন্নাথপুর গ্রামীণ সড়ক মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নে এলজিইডি’র দিনব্যাপী কর্মশালা

নয়নের নয়ন মেলানোর স্বপ্ন আটকে আছে টাকার কাছে

আপডেট সময় : ০৩:২৪:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

যে বয়সে লেখা পড়া,খেলাধুলা হইহল্লোল করে দিন পার করার কথা,না হলে ধরতে পারতো অভাবের সংসারের হাল সেই সময়েই অন্যের জমিতে তৈরী করা জীর্ণ শীর্ণ বসত ঘরের বিছানায় শুয়ে না হয় চেয়ারে বসে সময় পার করছে নয়ন মিয়া (১৩)।

এমনি অবস্থায় আছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভাটি জামালগড় গ্রামের দিনমজুর সিরাজুল ইসলাম এর ছেলে নয়ন মিয়া।

দুটি চোখেই তার নষ্ট হয়ে গেছে। কি দিন কি রাত কিছুই বুঝতে পারে না,সাদা না কালো পৃথিবীটা তাও দেখেনি নয়ন।

দেখতে পায়না সৃষ্টিকর্তার তৈরি সুন্দর পৃথিবী, শুধু অনুভব করতে পারে আলো বাতাশ। ঘর থেকে বের হলেই প্রয়োজন পরে একজন সহযোগির, না হলে চলায় কঠিন হয়ে পরে।

জীবনটা একটা যন্ত্রের মত হয়ে গেছে আক্ষেপ করে জানায় নয়ন মিয়া। নয়ন আরও জানায়, মা বাবার স্বপ্ন ছিলো বড় হয়ে চাকুরী করে মা বাবার জন্য বড় বাড়ি বানাবেন। সেই স্বপ্ন রয়ে গেছে অধরা। চোখের চিকিৎসা করাতে প্রতিদিনের মায়ের কাছে বায়না ধরে নয়ন মিয়া।

বুকের ভিতর চাপা কষ্ট আর আক্ষেপ নিয়ে দিন পার করছে নয়ন তার পরিবার।স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, আশায় আছে নয়নের পরিবার চিকিৎসা করিয়ে চোখের আলো ফিরে পাবে পাবে সুস্থ জীবনের ছোঁয়া। কিন্তু পরিবারের অসচ্ছলতা ও অর্থ সংকটের কারনে থমকে আছে সকল আশা আর প্রত্যাশা নয়ন ও তার মা বাবার। সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতায় নয়ন আবারও পৃথিবীর আলো দেখবে এমনটা প্রত্যাশা করছেন সচেতন মহল। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,কয়েক বছর আগেও অন্য সবার মতোই স্বাভাবিক জীবন ছিল নয়নের।

কিন্তু খেলতে গিয়ে কাঁঠাল গাছের নিচে বসে থাকার সময় হঠাৎ করে চোখে অজ্ঞাত একটি বস্তু পড়ার পর থেকেই বদলে যায় তার জীবন। ধীরে ধীরে হারিয়ে যায় দুই চোখের দৃষ্টি। চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলেও দারিদ্র্যের কারণে চিকিৎসা আর এগিয়ে নিতে পারেনি পরিবার। এখন আলো ফিরে পাওয়ার আশায় মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় দিন কাটছে নয়নের।

নয়নের বাবা সিরাজুল ইসলাম জানান, স্কুলে যাওয়ার তীব্র ইচ্ছা থাকলেও আট বছর আগে ঘটে যাওয়া এক দুর্ঘটনা তার জীবনের সব স্বপ্নকে থামিয়ে দেয়। পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাবে একপর্যায়ে নয়ন মিয়া দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলে। অভাব-অনটনের সংসারে প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খান, তাই চিকিৎসা করা আর সম্ভব হয় নি।

তিনি আরও জানান, নিজের জমিজমা না থাকায় পরের জমিতে ঘর বানিয়ে বসবাস করেন পরিবার নিয়ে। নিজেও হার্টের রোগী হওয়ায় কাজে যেতে পারেন না প্রতিদিন। সংসার চালাতেই রীতিমতো সংগ্রাম করতে হয়।

তাই নয়নের উন্নত চিকিৎসার খরচ বহন করা কোনো ভাবেই তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।নয়নের মা সারজিনা বেগম জানান,উন্নত চিকিৎসা করার সুযোগ পেলে নয়ন হয়তো আবার পৃথিবীর আলো দেখতে পারতো।

আমি মরার আগে ছেলের চোখের আলো দেখে যেতে নয়নের উন্নত চিকিৎসা করতে সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চাইলেন নয়নের মা। তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী জানান,পরিবারটি আসলেই গরিব ও অসহায় নয়নের পাশে সরকার ও বিত্তবানগন সহযোগিতা নিয়ে দাঁড়ালে তার চিকিৎসা করাটা সহজ হতো।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক জানান, নয়ন কে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।